Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

হিন্দুধর্মের ভিত্তিটি কী

Go down

হিন্দুধর্মের ভিত্তিটি কী Empty হিন্দুধর্মের ভিত্তিটি কী

Post by Admin on 2012-12-02, 13:59

গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধধর্ম প্রবর্তন করেছিলেন ; যিশু খ্রিস্ট খ্রিস্টধর্ম এবং হজরত মহম্মদ ইসলাম ধর্ম প্রবর্তন করেন। কিন্তু আমাদের হিন্দুধর্ম কোনো এক জন মাত্র ব্যক্তির দ্বারা প্রবর্তিত হয়নি। এটি আমাদের ধর্মের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। কোনো এক জন মানুষের জীবনকথা হিন্দুধর্মের ভিত্তি নয়। তাহলে আমাদের হিন্দুধর্মের ভিত্তিটি কী ; এর প্রামাণিকতাই বা কোথায়? হিন্দুধর্মের...
ভিত্তি হল সেই পরম সত্য ; যাঁকে ঈশ্বর নামে সকল ধর্মে পূজা করা হয়। ব্রহ্মজ্ঞ ঋষিদের ঈশ্বরদর্শনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই হিন্দুধর্মের প্রামাণিকতা। আমরা সাধারণ মানুষেরা ঈশ্বর সম্পর্কে যা অনুভব করি, তা অসম্পূর্ণ। একমাত্র মহান ঋষিদের কাছেই ঈশ্বরের মহান সত্যটি প্রকাশিত হয়। বেদ, উপনিষদ, গীতা, স্মৃতিশাস্ত্র, বেদান্ত বা ষড়দর্শণ, আগম, নিগম, মহাপুরাণ সমূহ হচ্ছে জ্ঞানের মাধ্যমে ঈশ্বরকে উপলব্দির একমাত্র মাধ্যম। পুর্বে গীতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এ পর্বে বেদ ও উপনিষদ নিয়ে আলোচনা করব।
বেদ
বেদ হল বৈদিক সাহিত্য মূলত এই গ্রন্থ গুলো শ্রুতি। শ্রুতি কী? ‘শ্রুতি’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল ‘যা শোনা হয়েছে’। সুপ্রাচীন কালের বৈদিক ঋষিরা কঠোর তপস্যা করে নিজেদের শুদ্ধ করেন। তখন তাঁরা তাঁদের হৃদয়ে স্বয়ং ঈশ্বরের বাণী শুনতে পান। ঈশ্বরের মুখ থেকে শোনা এই সত্যগুলি তাঁরা যে পবিত্র গ্রন্থরাজিতে ধরে রাখেন, তারই নাম হল ‘শ্রুতি’। শ্রুতি মানুষের লেখা বই নয় ; তাই শ্রুতিকে বলা হয় ‘অপৌরুষেয়’। শ্রুতিকেই আমরা সাধারণত চিনি ‘বেদ’ নামে। ‘বেদ’ শব্দের অর্থ ‘জ্ঞান’। এই প্রসঙ্গে স্বামী নির্মলানন্দ লিখেছেন, “হিন্দুদের কয়েকখানি বিশেষ ধর্মগ্রন্থকে কেন বেদ বলে তাহার একটি কারণ আছে। সংস্কৃতে ‘বিদ্‌’ ধাতুর অর্থ ‘জানা’। এই ধাতু হইতে নিষ্পন্ন বলিয়া ‘বেদ’ শব্দের মূল অর্থ ‘জ্ঞান’। বেদ বলিতে বিশেষতঃ ঈশ্বর, জীব ও জগৎ সম্বন্ধে পারমার্থিক জ্ঞানই বুঝায়। সৃষ্টিও যেমন অনাদি ও অনন্ত, ঈশ্বর সম্বন্ধে জ্ঞানও তেমনই অনাদি অনন্ত। ঈশ্বর সম্বন্ধে এই শাশ্বত ও অফুরন্ত জ্ঞানরাশিই বেদ শব্দের মুখ্য অর্থ। এই অপরিসীম জ্ঞানরাশির কিছু অংশের সন্ধান হিন্দু তত্ত্বদ্রষ্টাগণ পাইয়াছিলেন। তাহাই লিপিবদ্ধ হইয়া বেদ নামে প্রচলিত হইয়াছে।” বেদের আরও দুটি নাম হল ‘আগম’ ও ‘নিগম’। ‘আগম’ শব্দের অর্থ ‘যা ঐতিহ্য রূপে আমাদের কাছে এসেছে’ এবং ‘নিগম’ শব্দের অর্থ হল ‘যা জীবনের মূল সমস্যাগুলির স্পষ্ট ও নিশ্চিত সমাধান নির্দেশ করে’।
দেবনাগরী হরফে লেখা ঋগ্বেদের পুথি, উনিশ শতক

বেদ চারটি। যথা–(১) ঋগ্বেদ, (২) সামবেদ, (৩) যজুর্বেদ ও (৪) অথর্ববেদ। এগুলির মধ্যে ঋগ্বেদ সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে বড়ো। ঋগ্বেদ প্রধানত ‘ঋক’ বা প্রার্থনা মন্ত্রের সংকলন। হিন্দুধর্মের বিখ্যাত গায়ত্রী মন্ত্র ঋগ্বেদ-এরই অংশ। সামবেদ-এ ঋগ্বেদ-এর বাছাই করা কয়েকটি সূক্তে সুরারোপ করে কয়েকটি যজ্ঞের বিশেষ বিশেষ পর্যায়ে সেগুলি গান করার নির্দেশ দেওয়া আছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের আদি উৎস হল এই সামবেদ। যজুর্বেদ-এ রয়েছে মূলত যাগযজ্ঞের নিয়মকানুন। অথর্ববেদ অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা। এই বেদে রয়েছে নীতিতত্ত্ব ও আয়ুর্বেদ ইত্যাদি কয়েকটি বিজ্ঞানের বর্ণনা।

এই চারটি বেদের প্রতিটি আবার চারটি করে অংশে বিভক্ত। এগুলি হল–(১) সংহিতা বা মন্ত্রভাগ, (২) ব্রাহ্মণ, (৩) আরণ্যক ও (৪) উপনিষদ্‌। ‘সংহিতা’ অংশে লিপিবদ্ধ হয়েছে ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ, বিষ্ণু, রুদ্র প্রমুখ বৈদিক দেবতার বিভিন্ন মন্ত্র ও স্তবস্তুতি। ‘ব্রাহ্মণ’ অংশে রয়েছে মন্ত্রের ব্যাখ্যা ও যাগযজ্ঞের নিয়মকানুন। কোন যজ্ঞে কোন মন্ত্র উচ্চারণ করা দরকার, তা জানা যায় ব্রাহ্মণ অংশ থেকে। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল যে, ব্রাহ্মণ জাতির সঙ্গে এই গ্রন্থের কোনো সম্পর্ক নেই। ‘আরণ্যক’ অংশে রয়েছে বনবাসী তপস্বীদের যজ্ঞভিত্তিক বিভিন্ন ধ্যানের বর্ণনা। ‘উপনিষদ্‌’ অংশটিতে পরম সত্যের এক মরমিয়া ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পরম সত্যকে উপলব্ধি করার শ্রেষ্ঠ পন্থাটিও উপনিষদ্‌ই আমাদের শিক্ষা দেয়। স্বামী হর্ষানন্দের ভাষায়, “উপনিষদ্‌গুলি হলো দার্শনিক নিবন্ধ। এদের উপজীব্য ‘বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অন্তরালবর্তী সত্যবস্তু’, ‘মানুষের প্রকৃত স্বরূপ’, ‘জীবনের উদ্দেশ্য ও সেই উদ্দেশ্যসাধনের উপায়’ প্রভৃতি বিষয়।”

বেদই আমাদের সর্বোচ্চ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছনোর পথ বলে দেয়। বেদই আমাদের পরম সত্য সম্পর্কে জানান দেয়। সত্য চিরন্তন। আর বেদ এই সত্যকে প্রকাশ করে বলে বেদও চিরন্তন। তাই বেদই হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ ও সর্বপ্রধান প্রামাণ্য ধর্মগ্রন্থ।

প্রস্থানত্রয়
চলে আসি ‘প্রস্থানত্রয়’-এর কথায়। উপনিষদ্‌, গীতা ও ব্রহ্মসূত্র–এই তিন ধর্মগ্রন্থকে একসঙ্গে বলা হয় ‘প্রস্থানত্রয়’ হিন্দু সমাজে এই তিনটি বইয়ের প্রভাব অসীম। হিন্দুদের প্রধান সম্প্রদায়গুলি প্রস্থানত্রয়কে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। সম্প্রদায়ের প্রবর্তকেরা এগুলির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে অদ্বৈত, দ্বৈত, বিশিষ্টাদ্বৈত ইত্যাদি মতবাদ প্রচার করেছেন।

উপনিষদ্‌
কেউ কেউ প্রশ্ন করবেন, বেদের প্রতিটি অংশ ও প্রতিটি শব্দই কী গুরুত্বপূর্ণ? এর উত্তরে বলতে হয়, বেদ একটা বিরাট গাছের মতো। এই গাছের শিকড় ও কাণ্ড হল মন্ত্র ও যাগযজ্ঞ। আর ফল হল উপনিষদ্‌। তবে একথা মানতেই হবে যে, উপনিষদ্‌ই বেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

‘উপনিষদ্‌’ বলতে বোঝায় যেই গুহ্য ও পবিত্র জ্ঞান যা অজ্ঞানকে দূর করে আমার পরম সত্য বা ব্রহ্ম সম্পর্কে অবহিত করায় এবং সেই ব্রহ্মজ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের জাগতিক বন্ধনগুলিকে আলগা করে দেয়। উপনিষদ্‌ হল বেদের শেষ ভাগ ; তাই এর অপর নাম ‘বেদান্ত’ অন্য মতে, এটি বেদের সারাংশ বলে এর নাম ‘বেদান্ত’।


ঈশাবাস্য উপনিষদের একটি প্রাচীন পুথি।

উপনিষদ্‌ অসংখ্য। বর্তমানে দুশোটিরও বেশি উপনিষদ্‌ পাওয়া যায়। বেদের বাইরেও উপনিষদের অস্তিত্ব আছে। আদি শঙ্কর দশটি উপনিষদ্‌কে প্রাচীনতম ও প্রামাণ্য (বৈদিক) উপনিষদ্‌ হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে রামানুজ আরও এই তালিকায় আরও দুটি নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। এই বারোটি উপনিষদ্‌ হল–(১) ঈশ বা ঈশাবাস্য, (২) কেন, (৩) কঠ, (৪) প্রশ্ন, (৫) মুণ্ডক, (৬) মাণ্ডুক্য, (৭) ঐতরেয়, (৮) তৈত্তিরীয়, (৯) ছান্দোগ্য, (১০) বৃহদারণ্যক, (১১) কৌষিতকী ও (১২) শ্বেতাশ্বেতর। আদি শঙ্করের রচনায় আরও চারটি বৈদিক উপনিষদের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলি হল–(১) জাবাল, (২) কৈবল্য, (৩) মহানারায়ণ ও (৪) বজ্রসূচিকা। কেবল মাত্র এই উপনিষদ্‌গুলিই পরম সত্যের ব্যাখ্যা প্রদান করে বলে, হিন্দু সমাজের এগুলির গুরুত্ব এত বেশি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারতের জাতীয় নীতিবাক্য ‘সত্যমেব জয়তে’ (সত্যেরই জয় হয়) মাণ্ডুক্য উপনিষদ্‌ থেকে গৃহীত।
Admin
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 811
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

হিন্দুধর্মের ভিত্তিটি কী Empty cow

Post by moazzem on 2016-03-21, 15:13

Hindu dormea gorour munso kaoa to nesad nai 75% Hindu goro munso kai tar por o hindu r goro neia ato bul bara bare korea kano....
Anonymous
moazzem
Guest


Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum