Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

ইতিহাসের সাক্ষী: তিব্বতের অভ্যুত্থান

Go down

ইতিহাসের সাক্ষী: তিব্বতের অভ্যুত্থান Empty ইতিহাসের সাক্ষী: তিব্বতের অভ্যুত্থান

Post by Admin on 2013-03-30, 02:49

১৯৫৯ সালের ১০ মার্চ শুরু হয়েছিল
তিব্বতে চীনা দখলদারির বিরুদ্ধে এক অভ্যুত্থান। তার পরিণতিতে দালাই লামা
এবং হাজার হাজার তিব্বতীকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত পালাতে হয়েছিল।

সেই অভ্যুত্থানের সময় লাসায় তিব্বতীদের প্রতিরক্ষার আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন নাওয়াং টংডক নাকেট।

১০ই মার্চ ভোরবেলা। নাওয়াং টংডক নাকেট যাচ্ছেন
নবলিংকায় দালাই লামার বাসভবনে, তাকে দেখা দেথা করার জন্য ডাক পাঠিয়েছেন
তিব্বতীদের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক গুরু।

তিনি দেখলেন, নবলিংকার পথে চলেছেন আরো হাজার হাজার লোক। তারা শ্লোগান দিচ্ছেন, "চীনারা চীনে ফিরে যাও।আমাদের চীনাদের কোন দরকার নেই।"




ইতিহাসের সাক্ষী: তিব্বতের অভ্যুত্থান 130326101816_tibet_304x171_tibet_nocredit

নাকেট ছিলেন দালাই লামার নেতৃত্বাধীন কাউন্সিলের
একজন সদস্য। সেদিনই দালাই লামাকে চীনাদের প্রধান ঘাঁটিতে একটি নাটক দেখার
জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু তাকে বলা হয়েছে দেহরক্ষী নিয়ে না আসতে।
তিব্বতীরা সন্দেহ করলেন - হয়তো এটা তাকে আটক করার জন্য পাতা একটা ফাঁদ।

দালাই লামা সবাইকে শান্ত থাকতে বললেন। তিনি
নাকেটকে লাসায় ফেরত পাঠিয়ে দিলেন, আর বলে দিলেন, চীন যদি কোনভাবে লাসার
বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয় – তাহলে তা মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে।

লাসা শহরে দোকানপাট বন্ধ, রাস্তা ফাঁকা। শহরের
গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো চীনাদের দখলে। নাকেট এবং তার সাথীরা চীনা সামরিক
অভিযান ঠেকানোর ব্যবস্থা গড়ে তুললেন। তারা বুঝতে পারছিলেন, আক্রমণ অবধারিত।

কয়েকদিন ধরে একটা অচলাবস্থা চললো। এরই মধ্যে দালাই লামা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেলেন।

১৯ তারিখ এ খবর জানার পর চীনারা গুলি চালাতে শুরু
করলো এবং তখনই সত্যিকার অর্থে শুরু হয়ে গেল তিব্বতীদের অভ্যুত্থান। চীনা
বাহিনীর গুলিবর্ষণে বহু লোক নিহত হলো।




ইতিহাসের সাক্ষী: তিব্বতের অভ্যুত্থান 120623135023_tibet304দালাই লামার বাসভবন



নাকেট তার চোখের সামনেই একটি হত্যাকান্ড দেখলেন।

পরে তিনি নিজে দীর্ঘদিন ভারতে নির্বাসিত জীবন
কাটালেন। চীনের সবকিছুই তখন নাকেট ঘৃণা করতেন। যদিও পরে ধীরে ধীরে তার সেই
মনোভাবের পরিবর্তন হয়।

চীনের কমিউনিস্ট সরকার যুক্তি দিতো যে তিব্বতের
পশ্চাৎপদ সামন্ততান্ত্রিক পদ্ধতির কারণে দরিদ্র তিব্বতীরা নিগৃহীত হচ্ছে,
এবং তাদেরকে মুক্ত করা দরকার। কিন্তু স্বাধীনচেতা তিব্বতীরা চীনকে দেখতো
দখলদার হিসেবে – যারা তিব্বতের সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি হুমকি।

প্রফেসর নাওয়াং টংডক নাকেট পরে তিব্বতের নির্বাসিত
সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ছিলেন দালাই লামার
সরকারি জীবনীকার। তার বয়স এখন ৮৬ এবং এখনো তিনি শিক্ষকতা ও বক্তৃতার জন্য
পৃথিবীর নানা দেশে ভ্রমণ করেন।
Admin
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 811
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum