Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে

Go down

বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে Empty বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে

Post by Admin on 2011-04-22, 01:59

বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে Image_315_55458
শৈশবেই ইন্দিরা গান্ধীর নাম আমাকে টেনেছিল আকর্ষণী শক্তি নিয়ে। ইন্দিরা
মানেই গণতন্ত্রের মহান নেত্রী। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল
নেহরুর কন্যা। প্রিয়দর্শনী ইন্দিরা তার বাবা নেহরুর স্নেহ-ছায়া-শিক্ষায়
রাজনীতিতে এসেছিলেন। বাবা যতটা উদার গণতন্ত্রী ছিলেন কন্যা ততটা ছিলেন না।
তিনি ছিলেন ভারতের দাপুটে প্রধানমন্ত্রী। দৃঢ়চেতা, অদম্য সাহসী ভারতকন্যা
ইন্দিরা মাতিয়ে গেলেন দুনিয়া। তাকে ইতিহাস আয়রন লেডি বলে মূল্যায়ন করলেও
তার প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক কৃতজ্ঞতা ও মুগ্ধতা। তাকে অমরত্ব দেবে আমাদের
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। একাত্তর সালে ভারতবাসী ও তাদের নেত্রী শ্রীমতি
ইন্দিরা গান্ধী সুমহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের এক কোটি মানুষকে আশ্রয়
দিয়েছেন। সাহায্য দিয়েছেন। ট্রেনিং দিয়েছেন। এমনকি ভারতের সৈন্যরা আমাদের
মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতা-দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করতে
জীবন দিতেও কার্পণ্য করেনি। এই মহান ত্যাগের স্বীকৃতি-সম্মান কতটা দিয়েছি!
স্বাধীনতার মাস এলেই, বিজয় দিবস কড়া নাড়লে খুব মনে পড়ে। আমাদের স্বাধীনতার
মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের বন্দীদশা
থেকে মুক্ত করা ও স্বাধীনতার জন্য বিশ্ববাসীকে পক্ষে টানতে মাথা উঁচু করে
পথচলা, দৃঢ়চেতা ইন্দিরা গান্ধী যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তার বাবা নেহেরু
থাকলে এতটা এগুতেন কি-না সন্দেহ রয়েছে। যাক, ইতিহাসের এই ঋণ কৃতজ্ঞতার
সঙ্গে স্মরণ করে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নামে আমরা যে কোনো বিমানবন্দর বা
এমন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের কথা ভাবতে পারি, যাতে কৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে আমাদের
উচ্চতা বাড়ে। কৈশোরে কবে-কখন ইন্দিরা গান্ধীর প্রেমে মুগ্ধ হয়েছি তা আজ
মনে নেই। তবে এখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে দিলি্ল গেলে তার বাড়িটি যেখানে তিনি
নিহত হন যা এখন জাদুঘর তা সন্তানদের দেখাতে ভুলি না। বয়সের পরতে পরতে তার
সৌন্দর্যের মাধুর্য আছড়ে পড়েছে। মুগ্ধ করেছে তার রূপ, তার ব্যক্তিত্ব।
রুচিবোধ, তেজস্বিতা। কপালের ওপর ডাইস করা একগোছা চুল, তাঁতের শাড়ি, দুই
ফিতার স্যান্ডেলে তাকেই যেন মানাত। শীতের দেশে গেলে ওভারকোট তার উচ্চতাকে
ফুটিয়ে তুলত। '৭৭ সালে তার পরাজয় আমাকে ব্যথিত করেছে। কিন্তু গণরায়ের প্রতি
সম্মান দেখিয়ে আবার মানুষের হৃদয় জয় করে ক্ষমতায় ফেরাও অভিভূত করেছে। '৮৪
সালে তার দেহরক্ষীর গুলিতে নিহত হওয়ার সংবাদ মনে ঝড় তুলেছে। ছাত্রজীবন
থেকেই নিজেকে ভেবেছি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সন্তান। ইন্দিরার জন্য হৃদয়ের
গভীরে রেখেছি গভীর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। অথচ তাকে কখনো দেখা হয়নি। সুযোগ
পেলে এখনো মহাত্মাগান্ধী, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও নেহেরুর সঙ্গে তাকে পাঠ
করি। স্বাধীনতার এত বছর পর আজ আবারও বঙ্গবন্ধু কন্যা, গান্ধী পরিবারের
বন্ধু শেখ হাসিনা ক্ষমতায়। মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেশি পাশে দাঁড়ান-ভূমিকা
রাখেন তাদের সম্মাননা দিচ্ছেন। ইন্দিরা মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু
মনি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি এম তাজুল
ইসলামকে।

আজ এই মহান স্বাধীনতা দিবসের মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব আমাদের
সুমহান মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নামে বড়
ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ হোক। মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সৈন্য জীবন
দিয়েছেন তাদের স্মরণে হোক স্মৃতিসৌধ। তাদের পরিবার-পরিজনসহ এখনো জীবিত
সাহায্যকারীদের একবার আমন্ত্রণ করে আনা হোক। আমাদের নতুন প্রজন্ম দেখুক,
জানুক ইতিহাসের গভীরতা কতটা। মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, ব্রিটিশ এমপি
পিটারমুর ও জর্জহ্যারিসনসহ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন
তাদের নামেও নামকরণ হোক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ছাড়া তাদের স্মৃতি উজ্জ্বল
করে ধরে রাখার চেতনা আর কেই-বা রাখবে। মোগল সাম্রাজ্যের অধিপতিদের নামে
মোহাম্মদপুর এলাকায় রাস্তাঘাট রয়েছে। একসময় সবাই বলত এটা মোগল সাম্রাজ্য।
এমনকি সুলতানা রাজিয়ার নামেও সড়ক আছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ইন্দিরা
গান্ধীর নামে বড় কিছুর নামকরণ হবে না, তা কী হয়? যারা বীরের মতো লড়াই করল,
নেতৃত্ব দিল, যুদ্ধ করল, জীবন দিল_ তাদের নামে নামকরণ করলে জাতি হিসেবে
আমাদের মহানুভবতাই প্রমাণিত হবে। একদিন সবাই চলে যাবেন নামকরণ সবাইকে কে
বাঁচিয়ে রাখবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমান তার রাজনৈতিক নেতা গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর
নামে রেসকোর্স ময়দানের নাম রেখেছিলেন। রেসকোর্স হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
এখান থেকে বঙ্গবন্ধু তার উত্তেজনায় টালমাটাল জনগণকে অগি্নগর্ভ ৭ মার্চ এক
সুতায় বেঁধে ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার। গণতন্ত্রের এক মহান নেতার নামে
ঐতিহাসিক সবুজ বৃক্ষশোভিত উদ্যান হলো। আরেক দিকে নগরীতে নবাবী ঘোড়দৌড়ের
জুয়ার আসরের অবসান হলো। শুধু তা-ই নয়, সংসদ ভবন ঘেরা এলাকাটি অভিভক্ত
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নামে করলেন শেরেবাংলানগর।
বঙ্গবন্ধু তার স্বাধিকার আন্দোলনে পায়ে হাঁটা, জেলখাটা সাহসী সাংবাদিক
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার নামে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়কটির নাম রাখলেন
মানিক মিয়া এভিনিউ। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলায় সাহসী বীর সন্তান আর মহৎ
ব্যক্তিদের নামে বঙ্গবন্ধু একে একে অনেক কিছুরই নামকরণ করে সম্মান দিতেন এ
সবার বিশ্বাস। পৃথিবীর দেশে দেশে মহান নেতা ও সন্তানদের নামে নগর,
বিমানবন্দর, পার্ক অনেক কিছুরই নামকরণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার নেতা জর্জ
ওয়াশিংটনের নামে রাজধানী হয়েছে। তাই ঢাকাও হতে পারতো মুজিবনগর। '৭৫ সালের
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতা যিনি তার জীবন-যৌবন উৎসর্গ করে দেশ ও
জনগণকে গভীর ভালোবাসায় স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন তাকে নির্দয়-নির্মমভাবে
পরিবার-পরিজনসহ খুন করা হলো। তাই নয়, মৃত মুজিব এতটাই শক্তিশালী ও
অপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেন যে, তাকে কঠোর প্রহরায় যুদ্ধসাজে খুনিরা টুঙ্গিপাড়ায়
সমাহিত করল। তার রক্তের ওপর দিয়ে অনেকে বন্দুকের নল দেখিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন।
অনেকের উত্তরাধিকাররা মসনদে বসেছেন। কিন্তু কেউ ভয়ে মুজিবের নামটি কোথাও
নেননি। কেউ কেউ অপপ্রচার চালিয়েছিলেন। কিন্তু ইতিহাসের স্রোতধারায় তারা
ভেসে গেছেন। মুসলিম বিশ্বের সাহসী নেতা কামাল আতাতুর্কের প্রতি ছিল
বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা। সন্তানের নাম রাখেন কামাল। ঢাকার গুলশানমুখী রাস্তা
হয় কামাল আতাতুর্কের নামে। বাংলাদেশ নামের সঙ্গে ইতিহাস বঙ্গবন্ধুকে অমরত্ব
দিয়েছে। কিন্তু অকৃতজ্ঞ শাসকরা, ডান ও অতি বামের প্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের
প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীর নামে বিমানবন্দর করেছে। যদিও একাত্তরের
ভূমিকা, সততা, গণতন্ত্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার সামনে
বাকশাল বিরোধিতা করে সংসদ থেকে পদত্যাগ যেমন তার প্রতি শ্রদ্ধা বাড়িয়েছে
তেমনি মহানায়কের রক্তাক্ত লাশের ওপর দিয়ে খুনি মোস্তাকের প্রতিরক্ষা
উপদেষ্টা হওয়া ব্যথিত করেছে। তবুও তার নামে নামকরণ চাই। সাবেক প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমানের নামে অনেক প্রতিষ্ঠান, ঢাকা বিমানবন্দরের নামকরণ করেছে।
কিন্তু দেশের স্থপতির নামে কোনো কিছুরই নামকরণ করেনি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি
দীর্ঘদিন উপেক্ষা অবহেলা অনাদর করা হয়েছে। এটা তাদের দৈন্যতা ছিল। এটা
তাদের মানসিক দরিদ্রতার উদাহরণ ছিল। এটা ছিল ইতিহাসের নির্মোহ সত্যকে
উপেক্ষা করার হীন প্রতিযোগিতা। '৯০-উত্তর গণতন্ত্রে আমরা নামকরণের দলীয় রূপ
দেখলাম। যারা এলেন তারা তাদের দলীয় ভাবনার গৃহকোণ থেকে নামকরণ করলেন। '৯৬
সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে
বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ হলো। জাতীয় চার নেতার নামে নামকরণ হলো। পরে বিএনপি
এসে আগের সরকারের করা নামকরণ মুছে দিল। বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার ভাসানীর নামে
করে কার্যত তারা দুই নেতার প্রতিই অসম্মান করল। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক
সম্মেলন কেন্দ্র চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র করল। সৈয়দ নজরুল সেতুর নাম
পাল্টে হয় ভৈরব সেতু। এ নিয়ে মরহুম সাইফুর রহমানের মতো মন্ত্রী কোথাকার কোন
নজরুল বলে সমালোচনার তীরে ক্ষতবিক্ষত হন। সংসদে প্রশ্নবিদ্ধ হন। মরহুম
আবদুস সামাদ আজাদ তাকে ভর্ৎসনা করে বলেন, সংসদীয় কায়দায় আমি আরও ভাবলাম কোন
ছয়ফুর? যাক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির মুছে দেওয়া নাম পুনর্বহালই
করেনি। দীর্ঘদিনের জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম হযরত শাহজালাল (রঃ)
নামে করে দিল। আল্লাহর ওলি না আল্লাহর বান্দা সম্মানিত হলেন জানি না।
কিন্তু এটা কতটা সঠিক এ প্রশ্নের সঙ্গে বিস্মিত হয়ে ভেবেছি অদূর ভবিষ্যতে
নামকরণের এই প্রতিযোগিতা ক্ষমতার হাতবদলে কোথায় যাবে এ প্রশ্ন নিয়ে।

যাক, ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাট ভাষাসৈনিক,
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদদের নামে দিয়েছেন। আমার ভালো লাগে তার এই
মহৎ উদ্যোগ দেখে। তবে তিনি তার তারুণ্যের বামধারা ও দলীয় ভাবনার প্রভাব
থেকে একেবারে নির্মোহ থাকতে পারেননি। ইস্কাটনে থাকেন ষাটের দশকের ছাত্রলীগ
নেতা আমির হোসেন আমু। বাংলামোটর থেকে মগবাজারমুখী সড়কটির নাম হয়েছে রাশেদ
খান মেনন সড়ক। ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতিতে মেনন উজ্জ্বল নাম। আমি বলি ষাটের
দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে রেনেসাঁ বা নবজাগরণ সৃষ্টি হয়। ছাত্র
রাজনীতির স্বর্ণযুগও বলা যায় ষাটের দশক। রাজনীতির সুবর্ণ পুরুষরা মানুষের
ভালোবাসা অর্জন করে সংগ্রাম এগিয়েছেন। রাজনীতির আকাশে তখন সূর্যের মতো
জ্বলে ওঠেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুকে মাথায় নিয়ে
স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নেয় সংগ্রাম। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, শেখ ফজলুল হক মনি,
কেএম ওবায়দুর রহমান, সিরাজুল আলম খান, মাজহারুল হক বাকি, আবদুর রাজ্জাক,
ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী, আবদুর রউফ, খালেদ মোহাম্মদ আলী, তোফায়েল আহমেদ, আসম
আবদুর রব, নুরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন সে আলোয়
বিকশিত হয়েছেন। অন্যদিকে মওলানা ভাসানী ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বা কমরেড
মনি সিংহের ছায়ায় বাম সমাজতান্ত্রিক ধারায় আলোকিত হন কাজী জাফর আহমেদ,
মোহাম্মদ ফরহাদ, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, মতিয়া চৌধুরী,
মোস্তফা জামাল হায়দার, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, শামসুদ্দোহা, নূরুল ইসলাম
নাহিদ, সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক। এসব ছাত্র নেতার মধ্যে অনেকেই নক্ষত্রের
মতো রাজনীতির আকাশে জ্বলজ্বল করছেন। সূর্যের আলোয় চাঁদ যেমন ঝলসে উঠে,
তেমনি মুজিবের আলোয় সংগ্রামের কঠোর কঠিন-পথে হেঁটে রাজনীতির আকাশে
জ্যোৎস্নার রূপ নিয়ে আসেন শাহ মোয়াজ্জেম, শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম
খান, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল, রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাজাহান সিরাজ,
মাখনসহ অনেকে। কই তাদের নামে নামকরণ দেখি না কেন? ষাটের দশক বাদ দিয়ে
এদেশের ইতিহাস হয় না। ষাটের দশকের ছাত্রনেতাদের বাদ দিয়ে এদেশের রাজনীতির
স্বর্ণযুগ হয় না। রাজনীতি হয় বর্ণহীন, গন্ধহীন। তাই নগর মেয়রকে বলব, হাত
আরেকটু প্রসারিত করুন। এসব ছাত্রনেতার নামে রাস্তাঘাট নামকরণ করুন।
মহাত্মাগান্ধী, পণ্ডিত জহরলাল নেহেরু, নেলসন ম্যান্ডেলার কীর্তিতে বিমুগ্ধ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অবসরে যিনি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলেরও আশ্রয় নেন।
ধর্মপ্রাণ এক খাঁটি বাঙালি সংগ্রাম মুখর অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক পরিবারের
সন্তান শেখ হাসিনাই পারেন আমাদের সুমহান মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা
পালনে কঠোর মনোভাব নিয়ে পাশে দাঁড়ানো গণতন্ত্রের নেত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা
গান্ধীর নামে এদেশে কিছু করার। মহানায়কের কোনো স্টাচু, যুদ্ধের বীরদের
স্টাচু কোথাও গড়া হয়নি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতার স্তম্ভ দিয়ে শেখ
হাসিনা যে সূচনা করছেন তা বড়ই আনন্দের। প্রধানমন্ত্রীকে তাই অনুরোধ করব
সুমহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, খেতাবপ্রাপ্ত যোদ্ধা, বরেণ্য কবি, শিল্পী,
সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদদের নামে নামকরণ হোক। বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে
মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের নেত্রী ও সরকার প্রধান
হিসেবে ষাটের দশকের কিংবদন্তি ছাত্রনেতারা আপনার কাছেই মূল্য পেতে পারেন।
ছাত্ররাজনীতির আয়নায় ষাটের দশকে আপনারও মুখ দেখা গিয়েছিল নির্বাচিত কলেজ
ভিপি হিসেবে। শেখ ফজলুর হক মনি কী অসাধারণ মেধা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েই না
আবির্ভূত হয়েছিলেন। সিরাজুল আলম খানকে কি গভীর স্নেহই না করতেন বঙ্গবন্ধু।
সিরাজ নিজের যোগ্যতায় কিংবদন্তি হয়ে উঠেছিলেন। আমু, রাজ্জাক, তোফায়েল,
সিদ্দিকী, মাখন, রব, কাজী জাফর, রনো, মতিয়ার মত ও পথের অমিল থাকলেও ষাটের
দশকের নেতাদের নামে কি নামকরণ করা যায় না। কবি সুফিয়া কামাল, শওকত ওসমানকে
যেভাবে সম্মান দেখিয়েছেন, সেভাবে আপনিই পারেন কবিতার রাজপুত্র শামসুর
রাহমান, কলিম শরাফীদের মূল্যায়ন করতে। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর অনেকের নামে
নামকরণ করতে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল
হককে কোথাও কি ঠাঁই দেয়া হয়েছে? আপনি না করলে তার নামে কে করবে নামকরণ।
বিএনপি তো করবে না। মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবার্গিশ, ভাষা সৈনিক অলি আহাদ,
আব্দুল মতিন, আওয়ামী লীগের দুর্দিনে দলের কার্যালয়ে কূপি জ্বালিয়ে পাহারা
দেয়া আমেনা বেগম, গাজী গোলাম মোস্তফার নাম কে নেবে? বিএনপি সরকারের
অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান সিলেট বিভাগে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তার নামে নামকরণ
করে গেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মত ও পথের অমিল থাকুক তবু এদেশে যারা
মানুষের কলাণে নিবেদিত হয়ে রাজনীতি করে গেছেন, তাদের নামে আপনিই নামকরণ
করতে পারেন। আপনিই পারেন দেশের ভেতরে থেকে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, হেমায়েত
বাহিনীর প্রধানের নামে কিছু করতে। ইতিহাস বাঘা যতীনের নাম ভুলেনি, মজিবের
আদরের ধন, দেশের জীবন্ত কিংবদন্তী টাইগার সিদ্দিকীর নাম ভুলবে না। সংসদ
ভবনের সামনে স্বাধীনতাবিরোধী সবুর খানের কবর হলো অথচ স্বাধীনতার বীর আব্দুল
কুদ্দুস মাখনের কবর হলো না। তার প্রাপ্য সম্মান তো আপনিই দিতে পারেন।
আপনিই পারেন ঘাতকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠা জাহানারা ইমাম, শহীদ বুদ্ধিজীবী
শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দিন হোসেনদের নামে নামকরণের উদ্যোগ নিতে।
বঙ্গবন্ধুর হাত দেওয়ান ফরিদ গাজী, নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল, কুমিল্লার
কাজী জহিরুল কাইয়ুমদের নামে কিছু নামকরণ করতে। সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মরহুম স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এরশাদের কাছ
থেকে আদায় করেছিলেন। সিলেটে তার নামে বিশ্ববিদ্যালয় হল বা সেতুর নাম হতে
পারে। মরহুম আবদুস সামাদ আজাদের নামেও কিছু করা যায়। শুধু তা-ই নয়, মরমী
কবি ও সাধক কবিদের নামে বিভিন্ন নদীর ওপর তৈরি সেতুর নাম হতে পারে।

আপনি যতটা রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, বাউল, সাধকদের মূল্যায়ন করতে পারেন,
তেমনটি আর কে করতে পারে বলুন? স্বাধীনতার মাসে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য
বিদেশি স্বজনদের সম্মাননা দিচ্ছেন। এ তো কৃতজ্ঞ জাতির উদাহরণ। আজ বঙ্গবন্ধু
কন্যা শেখ হাসিনাই পারেন ইন্দিরা গান্ধীসহ মহানদের নামে নামকরণের নজির
স্থাপন করতে। একই সঙ্গে সারাদশে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের
নামেও অনেক প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, ছাত্রাবাস হতে পারে।
এখান থেকে
Admin
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 811
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে Empty Re: বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে

Post by soma roy on 2011-04-23, 21:04

ভাল লাগল বঙ্গবন্ধু কন্যাই পারেন ইন্দিরার নাম নিতে 653323
soma roy
soma roy
এডমিন
এডমিন

লিঙ্গ : Female
পোষ্ট : 91
রেপুটেশন : 8
নিবন্ধন তারিখ : 28/02/2011

https://www.facebook.com

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum