Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

সনাতনীরা এক হোক-খন্ড আজিকে হোক অখন্ড

Go down

সনাতনীরা এক হোক-খন্ড আজিকে হোক অখন্ড  Empty সনাতনীরা এক হোক-খন্ড আজিকে হোক অখন্ড

Post by প্রসান্ত রয় on 2011-07-10, 16:08

এড. সুধীর রঞ্জন তালুকদার
সহস্র বিচিত্রার মধ্যে একত্বে অনুভব দর্শন, নিষ্ঠায় অবিচল বা স্থির থাকার নামই অখন্ড। স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যেই পৃথক কোন অস্তিত্ব সনাতন ধর্ম বা অন্যান্য ধর্মীয় জগতেই স্বীকার করেন নাই। স্রষ্টা এক এবং অদ্বিতীয়। তবে এত জাতিভেদ কেন? জাতি ও বর্ণ এক কথা নহে। বর্ণভেদ আছে প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থাদিতে প্রায় সবত্রই বর্ণভেদ শব্দ দেখা যায়। বর্ণ বলিতে এস্থলে "শ্বেতবর্ণ", "রক্তবর্ণ","কৃষ্ণবর্ণ"। বর্ণ বলিতে রং কে বুঝাইয়াছেন। বর্ণ বলিতে এস্থলে প্রাকৃতিক অর্থে সত্ত্বঃ, রজঃ, তমঃ। এই তিন গুনকে বুঝায়। এই ত্রিগুনের যে ভেদ তাহাই বর্ণভেদ। এই জগৎ প্রকৃতিরই পরিণাম, সুতরাং পৃথিবীতে আকাশে বা স্বর্গে কোথায়ও এমন প্রাণী বা বস্তু নাই যাহা এই ত্রিগুন হইতে মুক্ত। সুতরাং বর্ণভেদ কেবল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নহে। উহা দেবতার মধ্যেও আছে, গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যেও আছে, গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যেও আছে এমনকি পশু,পক্ষী, কীট, পতঙ্গ, বৃক্ষ লতাদিতেও আছে। ইহাই হিন্দু দর্শনের ও হিন্দু শাস্ত্রের ব্যাপক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তে আলোকে বুঝতে সক্ষম হই যে ত্রিগুনের প্রকাশই সৃষ্টি। মানুষের মধ্যেও এই ত্রিগুন আছে। ব্রহ্মা তালু থেকে কণ্ঠ নালী পর্যন্ত "সত্বঃ" কণ্ঠনালী থেকে নাভীকণ্ঠ পর্যন্ত "রজঃ", নাভীকণ্ঠ থেকে নিম্নগামী "তমঃ" গুণ সৃষ্টি করেছেন। এইভাবে সৃষ্টি সমস্ত প্রাণীজগৎ বা অন্যান্য সৃষ্টি। এক কথায়, যাহা পিন্ডে বা বান্ডে তাহা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে। যদি তাই হয় আমার মধ্যেও বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সব কিছু আছে। জ্ঞানী ব্যক্তিগণ নিজের আত্মাকেই বিশ্ব আত্মারূপে উপলব্দি করেন, তাই বিশ্বরূপ, বা বিশ্বশক্তি একটি মানুষের মধ্যেও জাগ্রত হইতে বাধ্য। তাই শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বুজাইতে গিয়া বলিলেন, "আমার ভিতরে এবং তোমার ভিতরে সমস্ত বিশ্বশক্তি সর্বাবস্থায় সত্বঃ, রজঃ, তমঃ গুণের কারনেই" তাই বললেন " সঃ অহম" তিনিই আমি। সমস্ত বাহুর মধ্যে যিনি সতঃ্ব মধ্যেই থাকতে পারেন তিনি তিন যুগের কথা বলতে পারেন আর যিনি রজঃ মধ্যে থাকেন তিনি দুই যুগের কথা বলতে পারেন আর যিনি তমঃ মধ্যে থাকেন তিনি এক যুগের কথা বলতে পারেন। আর যাহারা এই তিন গুনের মধ্যে অবস্থান করেও স্মরণ করতে বা উপলব্দি করতে পারেন না তাহারা পশু, পক্ষী, বা অন্যান্য জড় জগৎ। সেই প্রানী বা দেবতা সর্বক্ষণ সত্বঃ অবস্থান কালে তাহারা ব্রহ্মোলীন হয়ে যান বা পরব্রহ্মে অবস্থান করেন। মানুষের দেহের ভিতর মগজে ভ্রুমধ্যেই ব্রহ্মা রন্দ্রেই চৈতন্যময় তার অবস্থান রহিয়াছে তাকে জাগ্রত করাই মানবজীবনের শ্রেষ্ঠত্ব। এই শ্রেষ্ঠত্ব হচ্ছে তার গুন বা ত্রিগুনের সৃষ্ঠি। তাই বলেছিলেন ঋষিরা "প্রনবো ধনুঃ শরোঃ" প্রণবের অপরনাম ওঁকার বা ব্রহ্মা। আর্য ঋষিগণ এই ওঁকার বা পরব্রহ্মো ধ্যান করতেন।পরবর্তী কালে ওঁকারের অপব্যাখ্যা হইল। কেহ কেহ ব্যাখ্যা করলেন অ,উ,ম 'অ' তে ব্রহ্মা, 'উ' তে বিষ্ণু, 'ম' তে মহেশ্বর বা শিব। এরপর অপব্যাখ্যা চলতে থাকলো বৈষ্ণবগণের মত প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যেই। ঋগবেদের (৫৮৭-৫৮৮ পৃষ্ঠা) পুরুষ সুক্তে ঢুকিয়ে দিয়েছেন প্রক্ষেপন করেছেন (১)
"ব্রাহ্মনোহস্য মুকমাসী দ্বাহু রাজন্যকৃত
উরু তদস্য যদ্বৈশ্য পদভ্যাং শুদ্রো অজায়ত"
(২) শ্রীমদ্ভগবদগীতায় ৪৪৬ পৃষ্ঠায় "ব্রহ্মনোহি প্রতিষ্ঠাহং" আরো অন্যান্য অসম্প্রাদায়িক অসত্য নিজ মত প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যেই উপনিষদ, গীতা বেদের মধ্যে এই সমস্ত বীজমন্ত্র গুলি প্রক্ষিপ্ত বা ঢুকিয়ে দিয়েছেন।
এর প্রথম প্রতিবাদ করেন রাজা রাম মোহন (১৭৭২ইং)পৃষ্ঠা ৪১-৪২ রাজা রাম মোহন ছিলেন নবযুগের প্রবর্তক অসাম্প্রদায়িক মহামিলনের উদ্যোক্তা ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা। তিনিই সর্বপ্রথম নিগুর্ণ নিরাকার ব্রহ্মের কথা সর্বভূতে আত্মানুভতির কথা প্রচার করলেন ব্রাহ্ম মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন।
প্রতিবাদকারীঃ স্বামী বিবেকানন্দ শ্রীমদভগবদগীতা (৪০পৃষ্ঠা) আমি দেখেছি নিজ মত প্রচারের উদ্দেশ্যেই এক অখন্ড ব্রহ্মাকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন ধর্মগুরুরা। যাহা আমার পক্ষে সমীচীন বলে বোধহয় না। তাই তিনি বললেন, "দোষা বাচ্যা গুরোরূপি" তিনি আরো বললেন আমাদের মধ্যেই প্রচলিত আছেন তেত্রিশটি দেবতা হয়ে গেলেন তেত্রিশকোটি। এরপর আরো কতশত উপদেবতা গ্রাম্য দেবতা এরপর মানুষ পুজার অন্ত নাই।
এর পূর্বে মহাপ্রভূ শঙ্করাচার্য্য এর প্রতিবাদঃ এক অখন্ড স্বত্বাকে বা ব্রহ্মাকে খন্ড খন্ড রূপে কল্পনা করে ওঁকারকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর রূপে ভাগ করার প্রয়োজন নাই। বাসুদেব সর্বভূতে আছেন। সর্বত্র তিনি বাস করেন, তাই কে যেই ভাবে পুজা অর্চনা করেন না কে তিনি বা বাসুদেব প্রাপ্ত হন। "অমি স্ব অহমঃ " আমি স্বয়ং বাসুদেব প্রাপ্ত হয় এখানে বাসুদেব এক অখন্ডকে বুঝানো হয়েছে তিনিই ব্রহ্মা তিনি পূর্ণতা।

বলতে হয় হিন্দুরা বারো মাসে তের পূজার মধ্যে দিয়ে সেই এক পরব্রহ্মে পূজা করেন এবং অনেক সময় বলেন "সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম" যদি এই কথা সত্য হয় বা বিশ্বাস করেন তাহলে ওঁকার হচ্ছেন এক অখন্ড মন্ত্র। এই মন্ত্রের ভিতরে জগতোর সকল মন্ত্র, সকল তন্ত্র অখন্ড সমাহত হয়ে আছে। সকল খন্ড সকল অনু পরমানু এই একটি মন্ত্রের ভিতরে এসে মিলিত হয়েছে বলেই এই সাধনার ভিতরে এমন মহাফল নিহিত রয়েছে যার প্রভাবে ছোট বড় এক হবে, দূর ও নিকট মিশে যাবে, আপন ও পরের ভেদ ঘুচবে। ওঁকার হচ্ছেন সর্বমন্ত্রের সমন্বয়। জগতে যত মন্ত্র আছে সব মন্ত্র একত্র কল্পে যে মহাধ্বনি হয়, তাই হচ্ছে ওঁকার। এজন্য ওঁকার মন্ত্রের নাম হচ্ছে অখন্ড মন্ত্র।
এই অখন্ড মন্ত্র যে জপ করে জগতের সকল মন্ত্র তার জপ করা হয়ে যায়। কোনো মন্ত্রই জপ করার তারা বাকী থাকে না।
ওঁকার ভগবানের সংক্ষিপ্ততম নাম। জগতের সকল নামের বৈষম্যটুকু দূর হলে যেটুকু সকলের মধ্যে পাওয়া যায় তাই ওঁকার। আবার সকল ধ্বনি একত্র সম্মিলিত হলে যা হয় তাও ওঁকার। ওঁকার সকল ধ্বনির প্রাণ। ওঁকার সকল ধ্বনি সমন্বয় স্বীকৃতি ও সমাহার। ওঁকারের উপাসনা প্রবর্ত্তন করেছেন প্রাচীন ভারতের আর্য্য ঋষিরা। আর এর প্রবর্ত্তন হয়েছে মানুষের সর্ব সাহিত্য রচনার পূর্বে এমন কি বেদ শাস্ত্রেরও আগে ওঁকার সাধনা আরম্ভ। (অঃ সঃ ২৪)
পরিশেষে আবার বল হয় ব্রহ্মা এক এবং অদ্বিতীয়। ব্রহ্মা অখন্ড সত্ত্বা তাঁকে খন্ড করা যায় না। আবার প্রকৃতি হবে (ব্রহ্মাশ্রয়ী শক্তি। স্রষ্ঠার সৃষ্ঠি ত্রিগুনের প্রকাশ যেমন-
সত্ত্বঃ+রজঃ+তমঃ= স্রষ্ঠা
আবার প্রান+জ্ঞান+দ্রব্য =প্রকৃতি। এই মন্ত্র মুখে উচ্চারণ হয়না বলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, কৃষ্ণ সমস্ত দেবতাগণ ঋষিগণ এই মন্ত্রের ধ্যান করেছেন। এই মন্ত্র মুখে উচ্চারণ করিতে পারেন নাই বলে জপ করেছেন সকলে। ব্রহ্মা থেকে সমস্ত জগতের সৃষ্টি। এখানে ছোট বড় নীচের স্থান নেই। আমরা সবাই এক পরম প্রভুর সাধনা করিয়া থাকি। সবারই মিলন এক জায়গায়। তাই ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এক মিলন মঞ্চে সমবেত হইবার আহবান জানাই।
অচিরে বর্তমান বিচিত্রতা অবসান হইবে। ব্যক্তিগত ক্ষুধা তৃষ্ণা যেমন আপনা থেকে উদয় হয়, তেমনি ভেদাভেদ জ্ঞান আপন মনের অভিরুচি থেকে উদয় হয়। আমরা সব কিছু ভুলে গিয়ে পরম প্রভুর পাদপদ্মে আশ্রয় গ্রহণ করলে সনাতনী ঐক্য অচিরে সুপ্রতিষ্ঠিত হইবে। এবং জগতে মঙ্গল সাধন হবে। এই ঐক্যের ফলে জয় আমাদের অবধারিত। ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি।

প্রসান্ত রয়
অতি নিয়মিত
অতি নিয়মিত

পোষ্ট : 78
রেপুটেশন : 7
নিবন্ধন তারিখ : 21/02/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum