Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

বাংলাদেশের ওরাঁও আদিবাসী

Go down

বাংলাদেশের ওরাঁও আদিবাসী Empty বাংলাদেশের ওরাঁও আদিবাসী

Post by fote alom on 2011-07-16, 02:20

বাংলাদেশের ওরাঁও আদিবাসী

অরুণ খালখো

কুঁড়ুখ সংস্কৃতি, রীতি, রেওয়াজ, ধর্ম ইত্যাদি সম্পৃক্ত জাতি। কারণ তাদের আচার-আচরণ, ধর্মীয় উৎসব, নাচ-গান, বাজনা ইত্যাদি কুঁড়ুখ ইতিহাসের সর্বস্তরে জড়িত আছে।

কুঁড়ুখ যাদেরকে সাধারণত: ওরাঁও বলা হয়। ভারতের দক্ষিণ বিহারের অন্তর্গতছোটনাগপুরে এই জাতির লোকের ঘন বসতি আছে। এছাড়াও আসাম, ভূটান, নেপাল,আন্দামার,উড়িস্যা, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট এবং বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, খুলনা, ঢাকা ও সিলেট জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে বাস করে আসছে।

নৃতত্ত্ববিদগণ বলেন- ভারত উপমহাদেশে আর্য পুর্ব যুগে অষ্ট্রিক, দ্রাবিড়, মঙ্গোলিয় এবং নিগ্রোবটু এই চার শ্রেণীর অনার্য জাতির লোক বাস করত। আজকের আদিবাসীরা সেই আদিম সংস্কৃতির বংশধর, অনার্যের উত্তর পুরুষ।

ওরাঁও নামের উৎপত্তি

কুঁড়ুখ জাতির নাম কি করে ওরাঁও হলো সেই বিষয়ে লেখকদের নানা মত রয়েছে। ডা: গ্রিয়াসন এর মতে কুঁড়ুখরা প্রয়োজনের অধিক ব্যয় করে তাই ওরাঁও শব্দ উরণ(অপব্যয়ী) অর্থে ব্যবহার করেন। কারণ তাদের তদানিন্তন চরিত্র লক্ষ্য করেই সম্ভবত এই শব্দ ব্যবহার হয়। ডা: হান এর মতে হিন্দুরা তাদের ওরাঁও বলে ওরগোড়আ শব্দের উপভ্রংশ হিসেবে। ওরগোড়আ শব্দের অর্থ বাজ পাখী। বাজ পাখী যেমন একবার ধরে তা আর কোন মতেই ছাড়েনা, তেমনি কুঁড়ুখরা এক জবানীর লোক তারা নিজেদের ভাষায় বলে অন কাত্থানুম সায় কাত্থা আউর সায় কাত্থা ঘি অন কাত্থা অর্থাৎ এক কথায় শত কথা আর শত কথায় এক কথা।

তাদের আদি সম্পর্কিত এক পৌরাণিক কাহিণী উল্লেখ করে অপর এক বিশেষজ্ঞ বলেন যে, কুঁড়ুখদের আদি পিতা-মাতা ভাইয়া-বাহিন (ভাই-বোন) উরস অর্থাৎ পবিত্র রক্তে জন্ম গ্রহন করেছে বলেই তাদের বংশধরগণ ওরাঁওগণ ঠাকুর নামে পরিচিতি ছিল। সেকালে তারা ব্রাহ্মণদের মতই শ্রদ্ধেয় ছিল। তারা আপন গোষ্ঠীর “খুট” দেবতা এবং ডাণ্ডা কাট্টনা বা ভেলোয়ফারি পূজা অনুষ্ঠান নিজেরাই করে, সামাজিক পূজা গুলি পাহান এর দ্বারা করায়।

(ছোটনাগপুর কি ইতিহাস বই পৃ: ৮৭)

মধ্য প্রদেশের রায়গাড় জেলার তেলেংগা গ্রামের সাধু রাম কুজুর, পালামু জেলার চান্দায়া থানার কৃষি বিকাশ কেন্দ্রের ম্যানেজার ছিলেন। খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করলে তাঁর নাম মিখায়েল কুজুর রাখা হয়। মিখায়েল কুজুর ব্রত গ্রহন এস, জে সমপ্রদায়ে ব্রাদার হন। তিনি “উরাঁও সংস্কৃতি” নামে একটি বই লিখেন। তিনি লিখেছেন- কুঁড়ুখরা যখন রোহতাস গড় (দূর্গ) থেকে পালিয়ে ছোটনাগপুরে এসে মুণ্ডাদের নিকট আশ্রয় নেয় এবং মাথা কামানি করে তাদের “ডাংরী” পূজায় অংশ গ্রহন করে ঠিক সেই সময়েই পিছনে ধাওয়াকারী আর্যরা এসে মুণ্ডাদেরকে জিজ্ঞাসা করল; এদিকে এক দল কোল ( কুঁড়ুখ) জাতির লোক পালিয়ে এসেছে, তারা কোথায়? কোন দিকে গেল? ইত্যাদি ইত্যাদি। মুণ্ডারা তাদের পূজা উৎসবের উপলক্ষে আগে থেকেই নিজেদের গায়ে রং মেখেছিল। তাই তারা আর্যদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করে- কুঁড়ুখ, তারা কোন রংগের লোক ছিল? নিজেদের গায়ের রং দেখিয়ে বলে “ই-রাং-না-উ-রাং” অর্থাৎ কুঁড়ুখরা এই রংগের না ঐ রংগের লোক। আর্যরা তাদের ভাষা বুঝেনা, সনাক্ত করতেও পারে নাই। অন্যদিকে কুঁড়ুখদের খুঁজতে গেল।

তখন মুণ্ডাগণ ঠাট্টা মোজাক করে কুঁড়ুখদেরকে বলতে থাকে “কা-বে; ই-রাং-না-উ-রাং” এরূপ ভাবে বার বার ই-রাং-উ-রাং বলতে বলতেই কুঁড়ুখদের নাম হলো “ওরাঁও”। তখন থেকেই কুঁড়ুখ নাম লোপ পাইতে থাকে। তারাও নিজেদেরকে ওরাঁও জাতি বলে পরিচয় দেয়। তাদের জমি জমার কাগজ পত্র এবং ভোটার তালিকাতেও জাতি ওরাঁও লিখ্ে‌

ভাষা

মাতৃভাষা ও কৃষ্টি মানুষের প্রাণের সম্পদ, সৃষ্টিকতার শ্রেষ্ঠতম দান। মাতৃভাষার সাথে মানুষের রয়েছে আত্মিক সম্পর্ক এবং গভীর মমত্ববোধ। মানুষ মাতৃজঠর থেকে বের হয়ে ভাষায় কথা বলতে শেখে, তার হাসি, কান্না, সুখ, দু:খ, আবেগ, অনুভূতির কথা প্রকাশ করে এবং চিন্তা ও চেতনা বিকশিত হয় তাকেই মাতৃভাষা বলে। মা যে ভাষায় কথা বলেন, বাবাও সে ভাষায় কথা বলতে পারেন তবু ভাষাকে পিতৃভাষা না বলে মাতৃ ভাষা বলা হয় কেন? তার দ্বিতীয় কারণ হলো বাবার এক ফোটা তরল পদার্থ(বীর্য) মায়ের গর্ভে গিয়ে ১০ মাস ১০ দিন দেহ গঠন হয়। মা যা আহার করে তা দিয়েই তার অস্থি, মাংস, রক্ত তৈরী হয়ে দেহ পরিপক্ক হয়ে মানুষের আকার ধারণ করে ভূমিষ্ট হয় তাই তার ভাষাকে মাতৃভাষা বলে। বিশেষ করে আদিবাসীদের ক্ষেত্রে একথা সত্য যে, তারা সংস্কৃতিমনা। তারা তাদের মাতৃভাষায় সৃষ্টিকর্তার আরাধনা করে, গান, বাজনা, উৎসব ইত্যাদি স্বাভাবিক ভাবেই তাদের অন্তর জীবন আর বহি:জীবন প্রভাবিত করে।

কর্ণেল ডালটন বলেন “দ্রাবিড়” ভাষায় কুঁড়ুখ অর্থ মানুষ। তাদের প্রচলিত মাতৃভাষা দ্রাবিড় শব্দ গোষ্ঠীর অন্তর ভূক্ত “কুঁড়ুখ”। কিন্তু এর পাশা-পাশি তাদের মধ্যে আর একটা ভাষা প্রচলিত আছে। যাকে তারা “সাদ্রী” ভাষা বলে। অনেকেরই ধারণা কুঁড়ুখরা ছোটনাগপুরে “মুণ্ডা” জাতির লোকের সাথে মিশেই সাদ্রী ভাাষা শিখেছে।

“কুঁড়ুখ” নাম সম্বন্ধে নানা জনের নানা মত থাকলেও তাদের প্রাগৈতিহাসিক রাজা “কাড়াখ” এর নামানুসারে “কুঁড়ুখ” নামের উৎপত্তি। কুঁড়ুখরা তাদের জীবনের সমস্ত ঘটনাগুলি আকারে রচনা করে গেথে রেখেছে।

জীবিকা

কুঁড়ুখদের জীবন যাত্রা অতি সরল ও সাধারণ। তারা নদী-নালা জঞ্জল, পাহাড়-পবর্ত উন্মুক্ত অঞ্চলে স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করতে ভালবাসে। কৃষি কাজই হলো কুঁড়ুখদের জীবিকার প্রধান উৎস। তাদের প্রতি “ধার্মেস”(ভগবান) এর তিনটা প্রধান দান বলে স্বীকার করে, (ক) বংশ রক্ষার জন্য সন্তান-সন্ততি। (খ) জীবিকার অর্জনের জন্য ভূমি। (গ) তাদের কৃষি কাজে সাহার্যের জন্য গরু মহিষ। গবাদি পশুকে তারা পশুধন বলে সোহরাই”(গোয়াল) পূজা উৎসব পালন করে।

গোতার বা গোত্র

মুণ্ডারী “কিলী” (গোত্র) শব্দ সংস্কৃত কুল শব্দের সাথে মিল আছে। আবার CLEN (খুট) IRISH SCOTCH এর প্রারম্ভিক শব্দ। অতএব পরিভাষা “কিলী” কুল বা বংশের সজ্ঞায় যে কোন পরিবার বা গোষ্ঠীর মূল পুরুষকে বুঝায়। গোত্র প্রর্থা অন্যান্য জাতির মধ্যেও আছে। যেমন এশিয়া ও ইউরোপে এর চিহৃ পাওয়া যায়। হিন্দু জাতির বর্ণ প্রথার মধ্যে এর রূপ প্রকাশ পায়, ল্যাটিনেও এর আভাষ পাওয়া যায়।

গোতার প্রথার দ্বারা যেমন মুণ্ডা জাতির বিকাশ ঘটেছে তেমনি ভাবে ওরাঁওদের মধ্যেও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞগণ বলেন আদিবাসীদের গোতার প্রথার ধারা স্বতন্ত্ররূপ নিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে। গোতার হলো তাদের বংশের মূল পরিচয়, ইহা পরিবার তথা জাতির সুদৃঢ় বন্ধন। পরিবার বংশ এবং জাতি ধ্বংশ না হবার জন্যই ইহা গঠিত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় সুবিদ্যান ফাদার ষ্টোকম্যান যাকে তারা বলত হোপমান তিনি এসব জাতির মাঝে ৩০ বৎসর থেকে গবেষণা করেছেন এবং ডা: রায় বাহদুর শরৎ চন্দ্র রায় বর্ণনা করেন। TOTEM হলো তাদের গোষ্ঠীর প্রাকৃতিক নিশান বা প্রতীক যা তাদের নিকট অতি পূজনীয়।

তাদের বংশের ধারা পিতৃপক্ষ এজন্যই সন্তান পিতার গোতারে আখ্যায়িত হয়, মাতার নয়। যেমন বাবা লাক্‌ড়া হবে, তারা টপ্য, কুজুর, তির্কী গোতার হতে পারেনা। দ্বিতীয়ত: আরও কয়েকটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গোতার প্রথা দ্বারা সমাজ সুদৃঢ় করে। যেমন:-

(ক) একই গোতারের ছেলে মেয়ের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ।

(খ) গ্রামে দু:চরিত্রের সৃষ্টি না হওয়ার জন্য।

(গ) নিজ নিজ গোষ্ঠী রক্ষা করা এবং ভিন্ন গোষ্ঠী বা গোতারের সহিত সম্পর্ক রক্ষার জন্য ।

পৃথিবীতে যে কোন জায়গায় তারা নিজ গোতারের লোক পেলে তাঁকে নিজ গোষ্ঠী বা রক্তের লোক বলে মনে করে, এবং বয়স অনুপাতে তাঁর সাথে ভাই-বোন, কাকা-কাকী, জ্যাঠা-জ্যাঠী স্ত্রীর গোতারের লোক হলে শালা-শালী সম্পর্ক জুড়ে। ভাইয়ের শশুর শাশুড়ীকে নিজ শশুড়-শাশুড়ীর সমতুল্য মান্য করে। তারা ভাইয়ের শালাকে ইয়ার এবং শালীকে গুই বলে সম্বন্ধ জুড়ে। স্ত্রীর স্বামীর গোষ্ঠীর নিকট বৌ এর স্থানেই থাকে এবং স্বামীর বড় ভাইকে দেবতাতুল্য সম্মান করে, তার ছায়াও স্পর্শ করেনা। একই ভাবে স্ত্রীর বড় দিদি স্বামীর বোয়াসিন হয়।

এইসব গোতার উৎপত্তি সম্বন্ধে এক একটি কাহিনী আছে। যেমন কুজুর একটি গোতারের নাম, এই কুজুর গোতার উৎপত্তি হলো, একজন ওরাঁও লোক কুজুর গাছের তলায় ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাকে হিংস্র জন্তুর খপ্পর থেকে রক্ষা করার জন্য কুজুর গাছের একটা লতা ঘুমন্ত লোকটিকে পেঁচিয়ে ধরে রক্ষা করল। সেই থেকে ঐ কুজুর গাছ সে ব্যক্তির গোষ্ঠীর প্রতীক হয়ে রইল। তার বংশধরগণ আজ পর্যন্ত কুজুর গোষ্ঠী নামে পরিচিত।

তারা গোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে ৬৪টি যে সব প্রাণী বস্তু বা স্থানকে গোতার বলে থাকে তা নিম্নে দেওয়া হলো।
fote alom
fote alom
তারকা সদস্য
তারকা সদস্য

লিঙ্গ : Male
পোষ্ট : 129
রেপুটেশন : 0
শুভ জন্মদিন : 10/03/1956
নিবন্ধন তারিখ : 27/05/2011
বয়স : 63
অবস্থান : রাশিয়া
পেশা : বিজনেস
মনোভাব : কাইউতা

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum