Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

গারো

Go down

গারো Empty গারো

Post by fote alom on 2011-07-16, 02:26

গারোরা একসময় মঙ্গোলিয়ানদের একটি যাযাবর “বোদো” আদিবাসীগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ছিল । বর্তমানে এরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছে এর মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে এদের বিস্তৃতি রয়েছে । এদের মুখমন্ডলের আকৃতি গোলাকার, চোখ এবং চুল কালো বর্ণের , চোখের আকৃতি ছোট, নাক চ্যাপ্টাকৃতির এবং চোয়াল উন্নত ,ভ্রুযুগল গভীর । গারোরা উচ্চতায় খাটো হলেও তারা বলিষ্ঠ স্বাস্থের অধিকারী ,তাদের বুক চওড়া এবং বাহু ,পা, পেশী বৃহদাকৃতির । তাদের চামড়া হলদেটে(তামাটে) বর্ণের এবং মসৃন । বলা হয়ে থাকে যে গারোদের সঙ্গে চীনাদের আদিপুরুষীয় সম্পর্ক রয়েছে । কেননা চীনাদের সঙ্গে গারোদের বেশকিছু অংশে মিল রয়েছে, যেমন- ভাষা, সংস্কৃতি ।

কিছু নৃতত্ববিদের মতে গারোরা এসেছে চীনের উত্তর পশ্চিম চিংঘাই প্রদেশের ককনার লেকের পার্শবর্তী উত্তরপূর্ব এলাকা থেকে । সেখান থেকে তারা ৩-৫ হাজার বছর আগে তিব্বতের তুরা প্রদেশে এবং ভূটানের নাকালবাড়ি এলাকায় এসে প্রথম বসতি স্থাপন করে ।

কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতার জন্য তারা কুচবিহার, আসাম , রংপূরের রাঙ্গামাটিতে চলে আসে । বৃটিশ শাসনামলে রংপুরের গোয়ালপাড়া ছিল গারোদের আবাসস্থল যা আসামের সাথে সংযুক্ত ছিল । কিন্তু তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দলের সৃষ্টি হওয়ায় বেশ কিছু গারো বাংলাদেশের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলের দিকে চলে আসে আর এভাবেই তাদের জনগোষ্ঠীর নাম হয় ‘গারো’ ।

পাহাড়ী অঞ্চল,বন,ঝর্ণার কাছাকাছি স্থানসমুহ ছিল প্রাচীন গারো জনগোষ্ঠীর বসবাস। সরিসৃপ, বন্য পশু, পাখী ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী । অনেক শ্বাপদশঙ্কুল ছিল তাদের জীবনযাত্রা । তাদের প্রধান জীবিকা জুম চাষ,চাষাবাদ এবং শিকার । হস্তশিল্প এবং কুটিরশিল্প তাদের বর্তমান পেশায় সংযুক্ত হয়ছে ।

গারোদের একটি পৃথক জগৎ রয়েছে যেখানে রয়েছে তাদের নিজস্ব মানচিত্র , অর্থনীতি এবং রয়েছে সংস্কৃতির সীমানা এবং সেখানে রয়েছে তাদের প্রথাগত আদর্শ । যদিওবা গারোদের কোন রাজা নেই কিন্তু তারা তাদের গোত্র প্রধানের দ্বারা পরিচালিত হয় ।

গারোরা সাবান এবং লবণ তৈরি করত কলা গাছের গুড়ির বাকল পুড়িয়ে । কিছু বিশেষ খাদ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে তারা এই পোড়ানো ছাই ব্যবহার করত । তাদের প্রধান খাদ্য হিসেবে ছিল ফলমুল এবং অতীতে তারা খুব কমই খাদ্যের অভাবে ভুগতো। তারা খাদ্য প্রস্তুতের জন্য বাঁশের নল বা পাইপ ব্যবহার করত । তারা আনন্দ উদযাপনের জন্য মদ পান করত । কোন উৎসবে অতিথীরা তাদের মেহমানদের বাড়িতে বেড়াতে এলে সঙ্গে করে মূরগী বা শুকর নিতে ভুলত না ।

এদের মধ্যে অনেকেরই পাহাড়ে বসবাস করতে খুব কষ্ট হোত আর এ কারণেই বেশ কিছু সখ্যক গারো অধিবাসী পাহাড় ছেড়ে পাহাড়ের পাদদেশে এবং বনাঞ্চলের দিকে বসবাস শুরু করে । এই সমস্ত জনগোষ্ঠী ‘লামদানি’ নামে পরিচিত ছিল এবং যারা পাহাড়ে বসবাস করত তারা পরিচিত ছিল ‘আচ্ছিক’ নামে । লামদানিরা নিজেদের ‘মিন্দায়া’ বলে পরিচয় দিত যা চৈনিক শব্দ ‘মান্দাই’ হতে এসেছে যার অর্থ মানুষ । আর এভাবেই ‘মান্দি’ শব্দের উৎপত্তি । বর্তমানে বাংলাদশের গারো জনগোষ্ঠী নিজেদের ‘মান্দি’ বলে পরিচয় দেয় যার অর্থ মানুষ ।
fote alom
fote alom
তারকা সদস্য
তারকা সদস্য

লিঙ্গ : Male
পোষ্ট : 129
রেপুটেশন : 0
শুভ জন্মদিন : 10/03/1956
নিবন্ধন তারিখ : 27/05/2011
বয়স : 63
অবস্থান : রাশিয়া
পেশা : বিজনেস
মনোভাব : কাইউতা

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum