Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান

Go down

মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান Empty মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান

Post by রাসেল আল মামুন on 2011-07-25, 13:36

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রয়েছে অসামান্য অবদান। তিনি শুধু এক কোটি বাংলাদেশীকে আশ্রয় ও খাওয়া-পরার ব্যবস্থাই করেননি, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেন। আর বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। এমনকি মার্কিন রক্তচক্ষুর বিপরীতে এক অনন্য অবস্থানও নেন তিনি।

বাংলাদেশকে সহযোগিতার জন্য ভারতের বিরুদ্ধেও পাকিস্তান যুদ্ধ ঘোষণা করলে সেখানেও এক হয়ে পকিস্তানের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধের নির্দেশ দেন। বাংলাদেশের লাখ লাখ শরণার্থীকে সেবাযত্ন করায় ইন্দিরা গান্ধীর এ কাজকে যীশু খৃষ্টের কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন নোবেলজয়ী মাদার তেরেসা। ‘তারা সবাই ঈশ্বরের সন্তান’ শীর্ষক একটি বইয়ে তেরেসা এ বিষয়টি উল্লেখ করেন।


মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশ সম্মাননা জানাচ্ছে স্বাধীনতার ৪০ বছর পর। সোমবার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মনানা ‘স্বাধীনতার সম্মাননা’ জানানো হবে তাকে। রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে ইন্দিরা গান্ধীর পক্ষে সম্মাননা নেবেন তার পুত্রবধু সোনিয়া গান্ধী। সোমবার বিকেল পাঁচটায় বঙ্গভবনে এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেয়া হবে।

২৫ মার্চ ১৯৭১। ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। রাতের অন্ধকারে নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার নারী, পুরুষ, ছাত্র, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকদের নির্বিচারে হত্যা করে। বিভীষিকাময় এ অবস্থায় থেকে বাঁচতে লাখ লাখ নারী-পুরুষ বাধ্য হয়ে পাশের দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়।

ভারতের সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ৯৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩০৫ জন উদ্বাস্ত্তকে আশ্রয় দেন। তাদের থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য সাহায্য করেন। পরম মমতায় সেদিন ইন্দিরা গান্ধী শরণার্থীদের পাশে দাঁড়ান ও আশ্রিতদের সহায়তার জন্য ভারতবাসীকে অনুরোধ করেন।

শুধু উদ্বাস্ত্ত বা শরণার্থীদের আশ্রয়ই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী হিসেবে প্রতিবাদী অথচ নিরস্ত্র বাঙালিকে সাহস জোগান তিনি। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, যুবকদের গেরিলা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয় ভারতে। এর ফলেই অনেকটা ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হয় বাংলাদেশীদের। মুক্তিযোদ্ধারা ভারত থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে সশস্ত্র অবস্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে একের পর এক গেরিলা যুদ্ধে পরাস্ত করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে।

মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়েই, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, “পূর্ব বাংলায় যা ঘটেছে, তাতে ভারত সরকার নীরব থাকবে না।” পরে ১৭ মে তিনি পশ্চিমবঙ্গ আসেন। কারণ সেখানেই সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয় নেয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, শরণার্থী বিষয়ে কেন্দ্র তাদের পাশে আছে ও থাকবে।

এর আগেই ৩০ এপ্রিল ’৭১ ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করতে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেন। ৯ মে তাদের হাতে দেয়া হয় হয় মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করতে আগ্রহী বাংলাদেশের তরুণদের সশস্ত্র ট্রেনিং দেয়ার দায়িত্ব।

এছাড়াও, শাসক পাকিস্তানিদের বাংলাদেশে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন আদায়ে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সেসময় বিভিন্ন দেশ সফরও করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সহানুভূতি ও সমর্থন আদায়েও সক্ষম হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য একটি ট্রান্সমিটার বরাদ্দ করেন ইন্দিরা গান্ধী।

১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে বিশ্বশান্তি কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সেখানে এক বিশেষ বার্তা পাঠিয়ে ইন্দিরা গান্ধী বলেন, “পূর্ববঙ্গের ঘটনায় ভারতের পক্ষে উদাসীন থাকা কঠিন এবং ইতিমধ্যে ২০ লাখ শারণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এসব উদ্বাস্তু যাতে সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারে সেজন্য পাকিস্তানকে বাধ্য করতে হবে।”

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বঙ্গবন্ধুর মুক্তি এবং সামরিক সাহায্য বন্ধের বিষয়ে অক্ষমতা জানালে ইন্দিরা গান্ধী তাকে বলেন, “ভারতের পক্ষে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সাহয়তা বাড়ানো ছাড়া গত্যন্তর নেই।”

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় এক জনসভায় ইন্দিরা গান্ধী ভাষণ দেয়ার সময় পাকিস্তানি বাহিনী ভারতের বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতেও আক্রমণ করে। তিনি সেদনিই তার মন্ত্রিসভার ভাষণে বলেন, “আমি এ মুহূর্তে আমাদের দেশের এবং জনগণের গুরুতর বিপদের কথা উল্লেখ করে আপনাদের উদ্দেশে বলছি, কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তান আমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছে। পাকিস্তানি বাহিনী হঠাৎ করে আমাদের এয়ার ফিল্ড, অমৃতসার, পাঠান কোর্ট, শ্রীনগর, অবন্তীপুর, উতরলেট এবং আগ্রায় আঘাত হেনেছে। এতদিন ধরে বাংলাদেশে যে যুদ্ধ চলে আসছিল, তা ভারতের বিরুদ্ধে পরিণত হয়েছে।’’

এর পরপরই ভারত ও বাংলাদেশ বাহিনী মিলিতভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং পাকবাহিনী বিভিন্ন রনাঙ্গণে পরাজিত হতে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ত্বরান্বিত করতে ৬ ডিসেম্বর ইন্দিরা সরকার বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় অনেক সৈন্যও শহীদ হয়।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও অগণিত মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর ’৭১ আমরা বিজয় অর্জন করি।

রাসেল আল মামুন
সন্মানিত
সন্মানিত

পোষ্ট : 92
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 09/03/2011

Back to top Go down

মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান Empty Re: মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর অবদান

Post by রাসেল আল মামুন on 2011-07-25, 13:38

শহিদুল ইসলাম
এক. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই ভয়াল রাতের পর প্রাণভয়ে ভীত এ দেশের মানুষ এক হাজার ৭০০ মাইলজুড়ে বিস্তারিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে যাত্রা শুরু করে এক নতুন অভিধায়-'শরণার্থী'। বাংলাদেশ, ভারত ও আন্তর্জাতিক দুশ্চিন্তা ও চাপ সত্ত্বেও ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বরের আগে সে যাত্রা কখনো থামেনি। ভারতীয় হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার শরণার্থী ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁরা কেউই স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভারতে যাননি। দেশে ফেরার জন্য তাঁদের প্রাণ সব সময়ই আকুলি-বিকুলি করেছে। আমি নিজেও একজন শরণার্থী হয়ে ৩ এপ্রিল ভারতের বুকে পা রাখি। স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত দেশে আসতে সাহস পাইনি। সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতেই শরণার্থীর চাপটা বেশি পড়েছিল। প্রথম থেকেই শরণার্থীদের মনে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে একটা ক্ষোভ লক্ষ করা যায়। বাড়ি ফেরার জন্য ব্যাকুল মানুষগুলো দুদিনেই অধৈর্য হয়ে পড়েন। ভারত সরকার কিছু করছে না-এই তাঁদের মূল অভিযোগ। ১ ডিসেম্বর ইন্দিরা গান্ধী যখন পশ্চিম বাংলা সফরে এলেন, তখন চারদিক থেকে দাবি তোলা হয়-কিছু একটা করুন। ৩ ডিসেম্বর গড়ের মাঠে ইন্দিরা গান্ধী বক্তৃতা দেবেন। দুপুর থেকেই লাখ লাখ মানুষ চৌরঙ্গির রাস্তাঘাট সব নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। আমরা কয় বন্ধু বহুদূরে কোনো রকমে দাঁড়ানোর একটা জায়গা করে নিলাম। মঞ্চ দেখা যায় না-শত শত মাইক্রোফোনে শুধু কথা ভেসে আসে। ইন্দিরা গান্ধী বক্তৃতা দিতে উঠেছিলেন কি না, আজ মনে করতে পারছি না। তবে এটা ভালোভাবেই মনে আছে, তিনি বক্তৃতা মঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান। শোনা গেল, তিনি দিলি্লর উদ্দেশে যাত্রা করছেন। সবাই সাংঘাতিক কিছুর আঁচ পেতে আগ্রহী হয়ে উঠল। চারদিকে কেবল গুজব আর গুজব। অনেক রাতে, আমরা যখন একটা হোটেলে খাচ্ছিলাম, তখন রেডিওতে ইন্দিরা গান্ধীর কণ্ঠ ভেসে এল, 'পাকিস্তান আমাদের পশ্চিম সীমান্ত আক্রমণ করছে।' সবাইকে তিনি ধৈর্য ধারণ করতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে যা করা দরকার, তা করা হবে।
দুই. প্রথম প্রতিক্রিয়া : বাংলাদেশের ঘটনাবলির ওপর যে বিবৃতিটি সরকারের পক্ষ থেকে লোক ও রাজ্যসভায় এসেছিল, ২৭ মার্চ ১৯৭১, তা নিয়ে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তার উত্তরে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন, 'যে খবরটি আমরা রেডিওর মাধ্যমে পেয়েছি; তা সত্য না মিথ্যা, আমরা তা এক্ষুনি বলতে পারি না। এক্ষুনি তা সত্য বলে গ্রহণ করা ঠিক হবে না, কারণ তা মিথ্যা প্রচারণাও তো হতে পারে। পূর্ব বাংলায় একটা নতুন ঘটনা ঘটেছিল, একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সে দেশের মানুষ এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম অন্য কোনো কারণে নয়; কারণ একটিই, তা হলো আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস করি। কিন্তু পাকিস্তান নিজেকে শক্তিশালী করার এক অপূর্ব সুযোগ হারাল অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনার মধ্য দিয়ে।' তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'ঘটনাটি কেবলই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয়। তা এখন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সত্বর তা আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত হবে। তাই আমাদের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।' ৩১ মার্চ ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় বাংলাদেশের ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের রায় বানচাল করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেশবাসীর ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের মানুষের দ্বিধাহীন রায় বানচাল করে পাকিস্তান কেবল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক অপূর্ব সুযোগ হারাল তাই নয়; একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান শক্তি সঞ্চয় করার এক সুন্দর সুযোগ নষ্ট করল।
১৪ এপ্রিল চীন খোলাখুলিভাবে ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে। এতে ক্ষুব্ধ ইন্দিরা লক্ষ্নৌতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'ইয়াহিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন ভারতকে কোনোভাবে নিরস্ত করবে না। বাংলাদেশের ঘটনায় ভারত মৌন দর্শক হয়ে বসে থাকবে না। আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের সিদ্ধান্ত নেব-সে সিদ্ধান্ত অন্যের ওপর নির্ভর করবে না।' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পাকিস্তানপ্রীতিকে 'কাগুজে বাঘে' পরিণত করতে ইন্দিরা গান্ধী ৯ আগস্ট সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে ভারতের হাত আরো শক্তিশালী হয়।
তিন. বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে ইন্দিরা গান্ধীর কিছু ভ্রমণের রাজনৈতিক পটভূমি :
ক. যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলো পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন, এটা ঠিক; কিন্তু তারা পাকিস্তান ভেঙে আলাদা বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন সমর্থন করেনি। কারণ ১৯৪৭ সালে তারা যে ভাগবাটোয়ারা করে গিয়েছিল, সেটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। তাই ইউরোপ-আমেরিকার সাধারণ মানুষের সমর্থন থাকলেও কোনো সরকারই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় সমর্থন করেনি। আর চীন তো 'সরাসরি' ইয়াহিয়া খানকে রাজনৈতিক সমর্থন দান করে। তারা ভারতের সমর্থনে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক বিরোধিতা করেছে। আগস্ট পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা দ্ব্যর্থক। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি তার সহানুভূতি আছে; ভারতের ভূমিকা সমর্থনও করে; কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি খোলাখুলি সমর্থন জানায়নি। জুলাইয়ে কিসিঞ্জারের বেইজিং ভ্রমণের পর অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন তড়িঘড়ি আগস্টের ৯ তারিখে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করে চীনকে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ সমস্যাকে কেন্দ্র করে চীন যদি ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে চায়, তাহলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের পাশে দাঁড়াবে। প্রেসিডেন্ট নিঙ্নের ভারত-বিরোধিতা বরাবরই অব্যাহত থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ও কংগ্রেস ক্রমেই পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠতে থাকে।
খ. শরণার্থী সমস্যা ক্রমেই ভারতের কাছে ভারী হয়ে উঠতে থাকে। ২৪ মে ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় যে ভাষণ দেন, সেখানেই তা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। জানা যায়, প্রতিদিন ভারতকে ৬০ হাজার শরণার্থীর জন্য জায়গা করে দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, লিখিত মানব ইতিহাস এমন শরণার্থী সমস্যার কোনো রেকর্ড নেই। তাই ভারত প্রথমেই শরণার্থী সমস্যাটি জাতিসংঘে উত্থাপন করে এবং প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সে সব দেশের সরকারের সঙ্গে এ বিষয়টি তুলে ধরার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য একটি ছোট্ট অথচ শক্তিশালী 'কোর গ্রুপ' স্থাপন করা হয়। এ গ্রুপে ছিলেন পলিসি প্ল্যানিং কমিটির সভাপতি ডিপি ধর, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব পিএন হাকসার, বিদেশ সচিব টিএন কাউল ও ক্যাবিনেট সচিবালয়ের গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখার সভাপতি আরএন কাউ, প্রধানমন্ত্রীর অফিস সচিব পিএন ধর। মন্ত্রী পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন শরণ সিং, ওয়াই বি চ্যাবন ও জগজীবন রাম।
গ. পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার শরণ সিং পূর্ব পাকিস্তানের ট্র্যাজেডি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ১৯৭১ সালের জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান এবং তিনি মার্কিন সরকারকে পূর্ব পাকিস্তানের আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন এবং পাকিস্তানকে সব ধরনের মিলিটারি সাহায্য বন্ধ এবং ইয়াহিয়ার সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সব রকমের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয় বরং যুক্তরাষ্ট্র আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের দিকে কিছুটা হেলে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। আগস্টের শেষ থেকে খবর আসতে থাকে, ভারত যদি পূর্ব বাংলার প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখে তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কেনেন্স কিটিং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে বলেন, ভারতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করতে মার্কিন সরকার একটু লজ্জা পাচ্ছে। উত্তরে ইন্দিরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এতে লজ্জার কিছু নেই। বরং তিনি নিউ দিলি্লর 'ইউএস এইড মিশন' অফিস বন্ধ করার যুক্তি দেন। ইন্দিরা গান্ধী তাঁর সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি অফিস বন্ধ করেছিলেন।
ঘ. জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ওই বছর সেপ্টেম্বর মাসে। ভারত সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ব পাকিস্তানের বিষয়টি নিয়ে আগে প্রবল ও ব্যাপক প্রপাগান্ডা চালাবে অধিবেশনে। বাংলাদেশ সরকারের আলোচনা কওমে স্থির হয় যে ভারতীয় ডেলিগেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ডেলিগেশন যাবে এবং তারা তাদের পরিস্থিতি ভালোভাবে জাতিসংঘে তুলে ধরবে, বাংলাদেশের পক্ষে প্রপাগান্ডা চালাবে। আমেরিকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এল কে ঝাঁ-কে জানানো ছিল। কিসিঞ্জারের সঙ্গে ঝাঁর আলাপে ঠিক হয় যে বাংলাদেশের ডেলিগেশন যদি তাদের ঘটনা সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলাপ করে অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল অন্য। তারা আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাইয়ুম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক, সচিব মাহবুবুল আলম চাষী ও জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাকে অন্যদিকে মোড় দিতে চেয়েছিল। শেখ মুজিবকে মুক্তি দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় এসে পাকিস্তানের সঙ্গে একটা কনফেডারেশন করে অবস্থা সামাল দেওয়ার মতলব ছিল। ইসলামাবাদে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোসেফ ফারল্যান্ডের মাধ্যমে ইয়াহিয়াকে এ খবর পেঁৗছে দেওয়া হয়। ইয়াহিয়া ধরি মাছ না ছুঁই পানি গোছের মনোভাব ব্যক্ত করেন। মুজিবকে মুক্তি দেওয়ার তাঁর কোনো ইচ্ছা ছিল না। বিষয়টি যখন ভারত সরকারের কানে এল, তখন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনকে জানানো হয়। তাজউদ্দীন মোশতাককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেন। কারণ তাঁরই নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডেলিগেশনের নিউ ইয়র্ক যাওয়ার কথা ছিল। এই পরিস্থিতিতে শরণ সিংয়ের নেতৃত্বে ভারতীয়দের দলের সঙ্গে বাংলাদেশের দলও গেল। শরণ সিং ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতা শুরু করেন। সেই বক্তৃতায় তিনি সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে দেশভাগ থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, পাকিস্তানে কখনো গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি। শেষ সুযোগ সৃষ্টি করেছিল পূর্ব পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ। সামরিক শাসকরা সে সুযোগটাও পায়ে ঠেলে নষ্ট করল। কিন্তু ১১৭টি দেশের মধ্যে ৩৫টি দেশ তাদের দেশের নীতির কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশ সমস্যার উল্লেখ করেছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি যখন ভোটে দেওয়া হয় তখন আশ্চর্যের বিষয় মাত্র দুটি ভোট শরণ সিংয়ের পক্ষে পড়ে। ভারত ও ভুটান। ১১১ কিংবা ১১৪টি দেশ ভারতের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। বেশির ভাগ মুসলিম ও পশ্চিমা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ইয়াহিয়ার সামরিক শাসন সমর্থন করে।
চ. এই ব্যর্থতার পর, ভারত সরকার শরণার্থী শিবিরগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয় এবং পৃথিবীর সব দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীদের আহ্বান জানায় ভারতে এসে নিজের চোখে সবকিছু দেথে যাওয়ার। Human Rights and refuge problems of the US Senate-এর sub-committeei সভাপতি সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি, ফ্রান্সের দ্য গ্যাকি সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী অরন্দে মাঁরগে এবং প্রিন্স সদরুদ্দিন আগা খান, The United Nations High Commissioner for refugees ভারতে এলেন নভেম্বরের প্রথম দিকে। কেনেংড ও মাঁরড়ে সব দেখে-শুনে ভারতের দাবির প্রতি পূর্ণ আস্থা স্থাপন করেন। তাঁরা বাংলাদেশ সমস্যাকেও স্বীকার করেন। মাঁরগে বাইবেল হাতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধই করতে চেয়েছিলেন। একজন পাকিস্তানি হিসেবে আগা খান সব দেখে-শুনে ইন্দিরা গান্ধীর প্রবীণ পরামর্শদাতাদের বলেন, আমি সংশয় নিয়ে এসেছিলাম। ফিরে যাচ্ছি ভারতীয় দাবির প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে।
এর পর ইন্দিরা গান্ধী আর স্থির থাকতে পারলেন না। অক্টোবরে যখন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শেষ হতে যাচ্ছে, সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি বিশ্বের বৃহৎ দুই পরাশক্তিসহ বিভিন্ন দেশে যাবেন এবং পূর্ব পাকিস্তানিদের দুঃখ-দুর্দশা এবং বাঙালির গণতান্ত্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নীতি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় কিভাবে আজ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে এক কোটি শরণার্থীর উপস্থিতিতে, সেসব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার জন্য ইন্দিরা গান্ধী নভেম্বর মাসে পৃথিবী ভ্রমণে বেরিয়ে পড়লেন। একে একে যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং প্রধান ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে গিয়ে সেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ পাল্টে ফেললেন। ৪ ও ৫ নভেম্বর ইন্দিরা গান্ধী প্রেসিডেন্ট নিঙ্নের সঙ্গে দুটি বৈঠক করেন। সেসব খবর পরদিন পত্রপত্রিকায় ফলাও করে প্রচার হয়। US Senate ও House of Representative ক্রমেই নিঙ্নের পাকিস্তাননীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এতে নিঙ্ন আরো মারমুখী হয়ে ওঠেন।
৩ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিম অংশে যুদ্ধ শুরুর পর ৪ ডিসেম্বর থেকে নিরাপত্তা পরিষদের সভা চলছেই। আগাশাহী, জর্জ বুশ (যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত, পাকিস্তানের), চীনা রাষ্ট্রদূত হুয়াং হুয়া অবিলম্বে ভারতের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সোভিয়েত রাষ্ট্রদূত জ্যাকব মালিক ভারতের পক্ষে জোর বক্তৃতা দেন। জাতিসংঘে ভারতের রাষ্ট্রদূত সমর সেন ৪ ডিসেম্বর বলেন, 'আরো বিস্তারিত আলোচনায় ঢোকার আগে আমাদের বুঝতে হবে যুদ্ধবিরতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নয়-যুদ্ধবিরতি হতে হবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে।' ১০ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের বিতর্কে অংশ গ্রহণের জন্য নিউ ইয়র্কে পেঁৗছান ইন্দিরা গান্ধী। কারণ তখন ভারত ও পাকিস্তান কোনো রাষ্ট্রই নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নয়। শরণ সিং ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর পরিষদে তাঁর ২৯ পৃষ্ঠার দীর্ঘ বক্তৃতা দেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন আত্মসমর্পণের জন্য তৈরি হচ্ছে, তখন, ১৬ ডিসেম্বর নিরাপত্তা পরিষদের সভায় জুলফিকার আলী ভুট্টো ভারতের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ও তিক্ততায় পূর্ণ ভাষায় এক বক্তৃতা দেন। ভুট্টো শরণ সিংয়ের চার-পাঁচ গজ দূরে বসেছিলেন। স্থানীয় সময় ১৬ ডিসেম্বর সকালে শরণ সিং আত্মসমর্পণের খবর পান। তিনি তখন পরিষদকে সে কথা জানান এবং সেই সঙ্গে এটাও জানান যে ১৭ ডিসেম্বর রাত ৮টায় ভারতীয় স্থানীয় সময়ে, ভারত পশ্চিম সীমান্তে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এর জন্য তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার আহ্বান জানালে ভুট্টো রেগেমেগে হাতের কাগজপত্র ছিঁড়ে পরিষদ স্থল ত্যাগ করেন। কিন্তু কূটনৈতিক রীতিনীতি ধূলিস্যাৎ করে আগাশাহী তাঁর সঙ্গী হননি। শেষ পর্যন্ত বসেছিলেন।
ছ. অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সমরনায়ক লে. জেনারেল এ কে নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য ও অফিসারসহ যৌথবাহিনীর সমরনায়ক লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। শরণার্থীর যে মিছিল ২৫ মার্চ ভারত অভিমুখে রওনা দিয়েছিল, সে মিছিলের গতিমুখ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে বাংলাদেশের দিকে যাত্রা শুরু করে।
লেখক : শিক্ষাবিদ

রাসেল আল মামুন
সন্মানিত
সন্মানিত

পোষ্ট : 92
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 09/03/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum