Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা

Go down

ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা Empty ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা

Post by imam1979 on 2011-08-14, 22:11


ভূমিকা :



শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, পাহাড়সম ছবর করে, ঘোড়ায় চড়ে দৃঢ় সংকল্প ও সিদ্ধান্ত নিয়ে
আসবে ... তাঁর ঐশী হাতে হীন, নীচ ও জঘন্য লোকদেরকে ধবংস করার জন্য তলোয়ার তুলে
নিবে। ভাল মানুষের হেদায়তের জন্য তার নূরের ছটা প্রজ্জলিত হবে। আসবে মানুষের
অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতে উল্কার উজ্জল ছটার ন্যায়, আসবে অসত্যের ভয়ংকর জঙ্গলের মধ্যে
উচ্চতর সত্যের প্রতীক হিসাবে .... মুহাম্মদ (সা.)-এর পাগড়ী মাথায়, তার আলখেল্লা
পরনে নিয়ে, তাঁর পায়ের জুতা পায়ে দিয়ে, তাঁর কোরআন বুকে নিয়ে এবং আলী (আ.)-এর
যুলফিক্কার তার হাতে, যাহ্‌রা (সালা.)-এর ভালবাসা তার অন্তরে, ইমাম হাসান
(আ.)-এর মতো ছবর তার ব্যক্তিত্বে, ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মতো সাহসিকতা তার চলনে, ইমাম
সাজ্জাদ (আ.)-এর মত ইবাদতকারীর খ্যাতি নিয়ে, ইমাম বাকের (আ.)-এর মত জ্ঞানের ভান্ডর,
ইমাম কাযেম (আ.)-এর মত মহানুভবতা, ইমাম রেযা (আ.)-এর সন্তুষ্টি, ইমাম জাওয়াদ
(আ.)-এর ভাবমূর্তি, ইমাম হাদী (আ.)-এর হেদায়ত, ইমাম আসকারী (আ.)-এর শান-শওকত নিয়ে
সে আসবে ...

মাথা থেকে পা পর্যন্ত নবুয়ত ও ইমামতের প্রতিচ্ছবি, সমস্ত আম্বীয়ারা তার অস্তিত্বে
শামিল, যেমন হযরত আদম (আ.) এসেছিল মানুষের মনুষত্বকে নূরানীতে পরিণত করতে, যেমন
হযরত নূহ (আ.) কত শতবছর ধরে কত কষ্ট ও অত্যাচার সহ্য করে চামড়ার ব্যাগ পিঠে বহন
করেও কাফেরদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌র পরিচয় তুলে ধরেছে, যেমন হযরত ইব্রাহীম (আ.)
তৌওহীদের ধবনি দিয়ে মূর্তিগুলোকে ভেঙ্গে চুরমার করেছে, যেমন হযরত মুসা (আ.)
ফিরাউনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, যেমন হযরত ঈসা (আ.) মৃত মানুষকে জীবিত
করেছে, যেমন হযরত মুহাম্মদ (সা.) আলেমদেরকে আখেরাতে পরিত্রাণের প্রতি আহবান করেছে
...

যখন সে নামায পড়বে চিরন্তন সত্ত্বার প্রকৃত ইবাদাতকারীর প্রতীক স্বরূপ, যখন সে
উপদেশ দান করবে তার কথায় আম্বীয়াদের উপর নাযিলকৃত অহীর আওয়াজ ভেসে উঠবে, সে যখন
গর্জন করবে শতাব্দীর পুরাতন বিম্বগুলোকেও নাড়িয়ে ফেলবে, অত্যাচারীদের তলোয়ারের ঝন
ঝন শব্দকে চির দিনের জন্য থামিয়ে দিবে, তার কিয়াম যেহেতু কিয়ামতের অংশ দুনিয়ায়
কিয়ামতকে প্রজ্জলিত করবে, যেহেতু তার আবির্ভাবের অর্থই হচ্ছে ধার্মিকতার উত্থান
সেহেতু দ্বীন ইসলামকেই পৃথিবীর উপর প্রতিষ্ঠিত করবে, যেহেতু তার হাতদুটি ঊর্বর
ফলদ্বায়ক গাছের ডাল পালার ন্যায় (অর্থাৎ ইমামতেরই অংশ বিশেষ) জমিন এবং
আসমানের মধ্যে যোগ সুত্র স্থাপন করবে (অর্থাৎ পৃথিবীকে এমন আধ্যাত্মিকতায় ভরে দিবে
যে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি হবে), যেহেতু তার কথা-বার্তাগুলো আল্লাহ্‌
তা’য়ালার ওহীর মর্যাদার কাছা কাছি তাই ফেরেস্তাদেরকেও মানুষের পাশা পাশি ডাকবে ...

যেহেতু রুখে দাড়াবে ভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বিষয়গুলি মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে যাবে,
যেহেতু মাথা উচু করবে হেদায়তের বিষয়টি কিয়াম করবে, তার কিয়াম হবে ধবংসকারীদের ধবংস
করার জন্য, তার নাম অত্যাচারিদের মৃত্যুর পরয়ানা স্বরুপ, তার শুরুই হচ্ছে খারাপের
পতন, তার টিকে থাকাই হচ্ছে সঠিক লোকদের পরিশুদ্ধ হওয়া, অদৃশ্য হচ্ছে এক লম্বা রাতে
অত্যাচারীতদের তার অপেক্ষায় থাকা, আর আবির্ভাব হচ্ছে এক নরম সকালে তার
ভালবাসাকারীদের নতুন জীবন ফিরে পাওয়া ...

আল্লাহ্‌ রাববুল আ’লামিনের ক্ষমতার আধিপত্যকে তার ইচ্ছায় পৃথিবীর বুকে সুস্থিত
করবে, মানুষ যে আল্লাহ্‌র খলিফা তার প্রকৃত অর্থকে তাদের সামনে তুলে ধরবে, তাঁর
অস্তিত্বই আল্লাহ্‌র সর্ব বৃহত অলৌকিক নিদর্শনসমূহের একটি, তার অন্তর্ধান হচ্ছে
অদৃশ্যের ব্যাখ্যাকারী, তাঁর আবির্ভাব আখেরাতের হচ্ছে উত্তম প্রত্যাশীদের জন্য
সু-সংবাদ, তাঁর কিয়াম জিহাদের ও ওয়াদার ব্যাখ্যাকারী, তাঁর ভাষ্য কোরআনের
ব্যাখ্যাকারী, তাঁর দৃষ্টি আম্বীয়াদের ভালবাসায় ভরা সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে হারিয়ে
যাওয়াদের জন্য ... অবশেষে সেই একমাত্র ভরসা যে দ্বীনের প্রকৃত সৈনিকদেরকে তাদের
নির্দিষ্ট স্থানে পৌছে দেবে এবং আম্বীয়াদের রেসালতকে ও তাদের কষ্টকে ফলাফলে
পৌছাবে...



সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত :



নাম : মাসুম (পাক ও পবিত্র) ইমামগণ তাদের অনুসারীদেরকে ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর নাম
উচ্চারণ করতে বারন করেছেন। আর এ বিষয়ে এতটুকুই বলেছেন যে, আমাদের নবী (সা.)-এর নাম
ও ডাক নামই তার নাম ও ডাক নাম (কামাল উদ্দিন সাদুক, খন্ড- ১, পৃ:- ৪০৩,৪০৪,ও খন্ড-
২, পৃ:- ৪৯,১৫৯,১৬০) এবং সে পৃথিবীতে আবির্ভাব না করা পর্যন্- তার আসল নাম
উচ্চারণ করা বৈধ হবে না (বিহারুল আনোয়ার, খন্ড-৫১, পৃ:-(৩১-৩৪), কাফি, খন্ড-১,
পৃ:-(৩৩২-৩৩৩), কামাল উদ্দিন, খন্ড-২, পৃ:-(২, ৮, ৪৯, ৩৬১, ৩৬২)। ইমাম মাহ্‌দী
(আ.)-এর আসল নাম (م ح م د) উচ্চারণের ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য আছে, কেউ
কেউ যেমন শেখ আনসারী মাকরুহ্‌ মনে করেন এবং তাদের আগে আরও কেউ কেউ যেমন শেখ তুসি
সম্পূর্ণভাবে হারাম মনে করেন আর অন্যরা যেমন হাজী নুরী বলেন শুধু সভা ও মাহ্‌ফিলে
উচ্চারণ করা হারাম, দেখুন (নাজমুস সাকিব, পৃ:- ৪৮)।

উপাধি : এই মহান ব্যক্তির সব থেকে পরিচিত উপাধিগুলো হচ্ছে যথাক্রমে মাহ্‌দী, কায়েম,
হুজ্জাত ও বাকিয়াতুল্লাহ্‌।


পিতা : আল্লাহ্‌র নূরের একাদশতম নূর হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আ.)।


মাতা : সম্মানীতা ও সম্বান্- রমণী নারজীস। তিনি ছিলেন রোম সম্রাটের দৌহিত্রা।


জন্ম তারিখ : ২৫৫ হিজরীর ১৫ই শা’বান রোজ শুক্রবার।

জন্মস্থান : ইরাকের সামেরা শহরে।


বয়স : এখন আরবী ১৪২৭ সন, আর তিনি আরবী ২৫৫ সনে জন্ম গ্রহণ করেছেন; সে অনুযায়ী তাঁর
বয়স আনুমানিক একহাজার একশ বাহাত্তর বছর চলছে। আর এভাবেই চলতে থাকবে যতদিন পর্যন্-
আল্লাহ্‌ রাববুল আ’লামিন চান। আর তিনি একদিন আল্লাহ্‌ রাববুল আ’লামিনের অনুমতিতেই
পৃথিবীতে আবির্ভাব করবেন এবং পৃথিবীকে অত্যাচার ও জুলুমের মধ্যে থেকে রক্ষা করে
সমস্- স্থানে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করবেন।

ইসলাম ছাড়াও বিভিন্ন দ্বীনে হযরত মাহ্‌দীর উপর বিশ্বাস :

ইমাম মাহ্‌দী (আ.) যিনি আল্লাহ্‌র তরফ হতে পৃথিবীর বুকে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য
আসবেন। বিভিন্ন মাযহাব ও দ্বীনের লোকদেরকে তাঁর উপর বিশ্বাস রাখতে দেখা যায়।
শুধুমাত্র শিয়ারাই নয় বরং আহ্‌লে সুন্নাত ওয়াল জামা’য়াত ও অন্যান্য দ্বীন যেমন
ইহুদী, নাসারা, অগ্নিপুজারক, হিন্দু সবাই আল্লাহ্‌র পক্ষ হতে এক বিশাল ক্ষমতাধর
ব্যক্তির আবির্ভাবের ধবনি উচ্চারণ ও স্বীকারোক্তি দিয়েছে এবং তাঁর অপেক্ষায় দিন
গুনছে।

হিন্দু ধর্মের ুদিদ” নামক ধর্মীয় গ্রন্থে এভাবে লেখা হয়েছে যে : এই পৃথিবী
নষ্ট (অত্যাচার, জুলুম, নিপিড়ন, অন্যায়, অবিচার, এসব কিছুতে ভরে যাওয়ার পর) হয়ে
যাওয়ার পর সর্বশেষে একজন বাদশাহ্‌ আসবে যিনি সৃষ্টির কুলের জন্য পথ প্রদর্শক হবেন।
তার নাম মানসুর (মরহুম মুহাদ্দেছ (হাদীস বিশারদ) নূরী তার ুনাজমুস সাকিব” বইতে
এভাবে লিখেছেন: যাখীরাহ্‌ ও তাযখীরাহ্‌ নামক বইতে লিখিত আছে যে ঐ মহান ব্যক্তির
“মানসুর” নামটি “দিদ” গ্রন্থে হচ্ছে বেরাহ্‌মাহ্‌। আর তার বিশ্বাস অনুযায়ী এগুলো
হচ্ছে আসমানি কিতাব। শেখ ফুরাত বিন ইব্রাহীম কুফির লেখা কোরআনের তফসিরে আছে হযরত
ইমাম বাকের (আঃ) এই আয়াতের তফসিরে বলেছেন :(وَ مَنْ قُتِلَ مَظْلُوماً فَقَدْ
جَعَلْنا لِوَلِيِّهِ سُلْطاَناً)
এটা ইমাম হুসাইন (আ.) এর ব্যাপারে বলা
হয়েছে, অর্থাৎ মজলুম অবস্থায় হত্যা হয়েছে, এবং এই আয়াতের তফসিরে আল্লাহ্‌ তা’য়ালা
( فَلايُسْرِفْ فِى الْقَتْلِ اِنَّهُ كانَ مَنْصُوراً ) মাহ্‌দি (আ.) কে
মানছুর নামকরন করেছেন, যেমনিভাবে নবী (সা.) কে আহমাদ, মুহাম্মদ, মাহ্‌মুদ নামকরণ
করা হয়েছে, এবং যেমনিভাবে ঈসাকে (আ.) মাসিহ্‌ নামকরণ করা হয়েছে, (বিহার, খন্ড- ৫১,
পৃঃ- ৩০), আর হয়তোবা তার ইমামের নামকে মানছুর হিসাবে বর্ণনা করার কারণ এটাও
হতে পারে যেভাবে জিয়ারতে আশুরায় এসেছে ঃ



( فَأسألُ اللَّهَ الَّذِي اكْرَمَ مَقَامَكَ وَ أَكْرَمَنى أَنْ يَرْزُقَّنِى
طَلَبَ ثَارِكَ مَعَ اِمامٍ مَنْصُورٍ مِنْ أَهلِ بَيْتِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه و
آله)

(নাজমুস সাকিব, পৃঃ- ৪৭), এবং দুয়া’য়ে নুদবাতে এসেছে: ( اَيْنَ الْمَنْصُورُ عَلَى
مَنِ اعْتَدىَ عَلَيْهِ )
। সমস্ত পৃথিবীকে তার হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবে। কে মু’মিন
আর কে কাফের চিনতে পারবেন। আর তিনি আল্লাহ্‌র কাছে যা কিছুই চাইবেন আল্লাহ্‌ রাববুল
আ’লামিন তাই তাকে দিবেন (বিশারাত আ’হদাইন, পৃঃ- ২৪৫)।


অগ্নি-উপাসনা ধর্মের প্রচারকের এক ছাত্রের লেখা “জামাসাব” নামক বইতে এভাবে উল্লেখ
আছে যে : হাশেমী বংশ থেকে এমন এক লোকের আবির্ভাব হবে যার মাথা, দেহ ও পা যুগল হবে
বিশালাকারের। তাঁর পূর্বপূরুষের দ্বীনের উপর বলিয়ান হয়ে বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে
ইরানে আসবে এবং এই দেশকে সুখ-শান্তি, সত্য ও পরিপূর্ণতায় সমৃদ্ধশালী করবেন। আর তাঁর
হুকুমে বাঘ ও ছাগল একই ঘাটে পানি পান করবে (বিশারাত আ’হদাইন, পৃঃ- ১৫৮। ঐ বইয়ের
টিকায় লেখা আছে যে, ইতিহাস বেত্তারা এভাবে লিখেছে: “জামাসাব” “গুসতাসাব বিন
লাহ্‌রাসাবের” ভাই কিছু দিন অগ্নিপুজা ধর্মের প্রচারকের কাছে আধ্যাত্মিকতার চর্চা
করেছিল। ) ।


অগ্নিপুজারকদের ধর্মীয় গ্রন্থ “যোনদ”-এ এভাবে লেখা হয়েছে
যে : ঐ সময় ইয়ায্‌দানদের (অগ্নিপুজারকদের খোদাদের) পক্ষ হতে
বড় ধরনের বিজয় আসবে এবং আহ্‌রিমানকে (অশুভ আত্মাকে বা
শয়তানকে) নিশ্চিহ্ন বা বিলুপ্ত করবে। আর পৃথিবীতে আহ্‌রিমানের সমস্ত
অনুচরদেরকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করা হবে। ইয়ায্‌দানদের বিজয় ও আহ্‌রিমানের
পরাজয়ের পর এই পৃথিবী তার প্রকৃত পূর্ণতায় পৌছাবে এবং বনি আদমরা ভাল কাজ করার
লক্ষ্যে এই পৃথিবী পরিচালনার সিংহাসনে বসবে (বিশারাত আ’হদাইন, পৃঃ- ২৩৮। )।

তৌওরাতে ুসাফারে তাকবিনির” মধ্যে হযরত ইসমাইল (আ.)-এর বংশ থেকে যে
বারজন ইমাম আসবেন, তাদের ব্যাপারে কথা বলা হয়েছে : (ইসমাইলের অধিকারের কথা
শুনেছি যার কারণে তাকে বরকতময় করেছি এবং তাকে সুফলদায়ক করিয়েছি এ কারণে যে, তার শেষ
বংশধরের মাধ্যমে বারজন প্রতিনিধিকে ভূমিষ্ট করাবো এবং তাকে বিশাল উম্মত দান করব)
(“সাফারে তাকবিন” (২০ : ১৭)।


মাযামিরের মধ্যে হযরত দাউদ (আ.) লিখেছেন : (... অবশ্য নেক্কার লোকদেরকে
আল্লাহ্‌ তা’য়ালা সমর্থন করবেন ... নেক্কার লোকেরা এমন এক জমিনের উত্তরসূরী হবে যার
মধ্যে তারা চিরজীবি হবে) (মাযমুর ৩৭, অনুচ্ছেদ ১০-৩৭ পবিত্র কিতাব, প্রিন্ট- ১৯০১।
“মাযামির” হযরত দাউদ (আঃ)-এর উপর অর্পিত পবিত্র কিতাব যা যাবুর নামে পরিচিত।
তাওরাতের আরবী অনুবাদের মধ্যে বিশ্লেষন করা হয়েছে বা আল্‌ মুনজেদ আরবী অভিধান তাতে
যাবুরের ব্যাপারে লিখছে যে যাবুর একটি কিতাবের নাম যা দাউদ (আঃ)-এর মাযামিরের উপর
নামকরণ করা হয়েছে)।

আর পবিত্র
কোরআনের মধ্যে এভাবে দেখতে পাওয়া যায় :




وَ لَقَدْ كَتَبْنا فِى الزَّبُورِ مِنْ بَعْدَ الذِّكْرِ أَنَّ الْاَرْضَ يَرِثُها
عِبادى الصَّالِحُونَ .

আমরা জিকিরের (অর্থাৎ তৌওরাতের) (সুরা আম্বীয়ার ৪৮নং আয়াতে তৌওরাতকে যিকির নামে
সম্মোধন করা হয়েছে।) অতপর যাবুরের (দাউদ) (সুরা ইস্‌রা’র ৫৭নং আয়াতে বলা হয়েছে যে,
যাবুরকে দাউদের উপর নাযিল করেছি।) মধ্যে লিখেছি যে নেক্কার বান্দারাই জমিনের
উত্তরাধিকারী হবে (সুরা আম্বীয়া, আয়াত নং- ১০৫)।


পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে :




( وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَ عَمِلُوا الصَّالِحاتِ
لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِى الْارْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الذَينَ مِنْ قَبْلِهِمْ و
لَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِى ارْتَضَى لَهُمْ وَ لَيُبَدِّلَنَّهُمْ
مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً يَعْبُدُونَنِى لاَيُشْرِكُونَ بِى شَيْئاً )

আল্লাহ্‌ রাববুল আলামিন তোমাদের মধ্যে থেকে যারা ঈমান এনেছে এবং উপযুক্ত কাজ করেছে
তাদের প্রতি ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে জমিনের বুকে নিজের খলিফা ও প্রতিনিধি
নিযুক্ত করবেন। যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীগনকে খেলাফত ও প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন।
যে দ্বীনকে আল্লাহ্‌ তাদের জন্য পছন্দ করেছিলেন তাকে শক্তিশালী রুপ দিয়েছিলেন
এবং তাদের ভয়-ভীতিকে শান্-ি ও নিরাপত্তায় পরিবর্তন করবেন, (এই শর্তে) যে, শুধুমাত্র
আমার ইবাদত করবে এবং কোন কিছুকে আমার সাথে
শরিক করবে না (সুরা নুর, আয়াত নং- ৫৫। ) ।


আরও উল্লেখ আছে যে :




( وَ نُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِى الْارْضِ وَ
نَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَ نَجْعَلَهُمُ الْوارِثِينَ )

ইচ্ছা করেছিলাম যে অসহায়দের প্রতি (আল্লাহ্‌কে অনুসরণকারীরা যারা অত্যাচারির
অত্যাচারের সামনে শক্তিহীন হয়েছিল) অনুগ্রহ করবো এবং তাদেরকে জমিনের
উত্তরাধিকারীত্ব ও প্রতিনিধিত্ব দান করব (সুরা কাসাস, আয়াত নং- ৫)।

এই আয়াতগুলো যা নমুনা স্বরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোতে তারই ধারনা পাওয়া যায় বা
তারই ইশারা ইঙ্গিত বোঝা যায় যে, অবশেষে এই পৃথিবীর দায়িত্ব আল্লাহ্‌র উপযুক্ত
অর্থাৎ মু’মিন বান্দাদের হাতে আসবে এবং এই সম্পদ তাদের কাছে পৌছাবে। আর এই বিশ্বের
লোকেরা তাদের কল্যানের জন্যেই এই ধরনের পথ প্রদর্শক বা প্রতিনিধির কাছে আসবে। যদি
মানুষ জাতি প্রকৃত রাস্-া অর্থাৎ আল্লাহ্‌র দেয়া সত্য পথে না চলে বাকা পথে চলে
তাহলে বিচ্যুতির গভির অন্ধকারের মধ্যে পতিত হতে থাকে। প্রকৃতপক্ষে যখন কিনা পতিত
হওয়ার সর্বশেষ পর্যায়ে পৌছাতে আর বেশী কিছু অবশিষ্ট থাকেনা তখনই দ্রুত গতিতে
মানুষের বিবেক জাগ্রত হয় এবং বুঝতে পারে যে অত্যাচার ও শক্তির উপর নির্ভর করে, অথবা
নিজের বুদ্ধি বিবেচনাতে বা দুনিয়াবী কোন কলা-কৌশলই এই পৃথিবীকে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনায়,
ন্যায়-নিষ্ঠায় ও অধিকতর পরিপূর্ণতায় পৌছাতে পারবে না। তার সম্পর্কসমুহকে কঠিন
প্রাচীরের ন্যায় শক্তিশালী করার জন্য ঈমান, অহীর ভিত্তিতে ও আল্লাহ্‌ প্রদত্ত
ইমামতের ধারাকে মেনে নেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথও খোলা নেই। শুধুমাত্র পৃথিবীতে
আল্লাহ্‌ প্রদত্ত উপযুক্ত প্রতিনিধিরাই বা পথ নির্দেশকরাই পারেন বিভিন্ন ভূল
ভ্রান্-ির-বেড়া জাল থেকে পরিত্রাণ দিতে এবং পরিপূর্ণতার ও সম্পূর্ণতার পথকে নিদর্শন
দিতে। তবেই পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা ন্যায়-নিষ্ঠা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে সুন্দর ও
আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।


ইসলামের দৃষ্টিতে ইমাম মাহ্‌দীর উপর বিশ্বাস :



ইসলামের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং প্রতিটি
মাসুম (আ.), বিভন্ন সময়ে বা বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানে হযরত মাহ্‌দী (আ.)-এর
আবির্ভাব, কিয়াম, দীর্ঘদিন মানুষের দৃষ্টির অন্-রালে থাকা এবং তার আরও বিভিন্ন
বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে খবরা খবর দিয়েছিলেন। তাদের অনেক অনুসারী বা ছাত্ররাই এই খবর বা
হাদীসসমূহকে উল্লেখ করেছেন। “ইমাম মাহ্‌দী” গ্রন্থের লেখক তার এই বইতে পঞ্চাশ জন
নবী (সা.)-এর সাহাবী ও পঞ্চাশ জন তাবেইন (যারা সরাসরী নবীকে (সা.) দেখেননি বরং তার
সাহাবাদেরকে দেখেছেন) যারা হযরত মাহ্‌দী সংক্রান্ত হাদীসসমূহকে লিপিবদ্ধ করেছে
তাদের নাম উল্লেখ করেছেন (“আল্‌ ইমামুল মাহ্‌দি” লেখক: আলী মুহাম্মদ আলী দাখিল,
পৃঃ- ৪০-৪৭, ও “নাওইদ আমন ও আমান” পৃঃ- ৯১, এই বইতে ৩৩ জন সাহাবার নাম উল্লেখ আছে।
)।

কিছু সংখ্যক বিশিষ্ট ও নামকরা কবি অনেক বছর ধরে এমনকি ইমাম মাহ্‌দীর ভূমিষ্ট হওয়ার
একশত বছর আগে থেকেই এই হাদীসসমূহের ভাবগম্ভীর সম্বলীত অর্থের উপর ভিত্তি করে তারা
তাদের কবিতা রচনা করেছেন :


কামিইত একজন শিয়া বিপ্লবী কবি (মৃত্যু ১২৬ হিজরী কামারী) ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর উপর
রচিত একটি কবিতা ইমাম বাকের (আ.)-এর সামনে আবৃতি করে তাঁর আবির্ভাবের সময় সম্পর্কে
প্রশ্ন করে (আল্‌ গাদির, খন্ড- ২, পৃঃ- ২০১-২০৩, বইরুত প্রিন্ট)।


ইসমাইল হামিরী (মৃত্যু ১৭৩ হিজরী কামারী) ইমাম সাদিক (আ.)-এর সংস্পর্শে এসে তাঁর
হাতে হিদায়েত পাওয়ার পর, একই ছন্দে গাথা প্রশংসা মুলক একটি লম্বা কবিতা রচনা করে যা
নিম্নে উল্লেখিত হল :


( وَ اُشْهِدُ رَبِّى أَنَّ قَوْلَكَ حُجَّةٌ


عَلَى الْخَلْقِ طُرّاً مِنْ مُطِيعٍ وَ مُذْنِبٍ


بِاَنَّ وَلِىَّ الْامْرِ وَ الْقاَئِمَ الَّذِى


تَطَلَّعَ نَفْسِى نَحْوَهُ بِتَطَرُّبٍ


لَهُ غَيْبَةٌ لاَبُدَّ مِنْ أَنْ يَغِيبَها


فَصَلِّىَ عَلَيْهِ اللَّهُ مِنْ مَتَغَيِّبٍ


فَيَمْكُثُ حِيناً ثُمَّ يَظْهَرُ حِينَهُ


فَيَمْلَأُ عَدْلاً كُلَّ شَرْقٍ وَ مَغْرِبٍ

(আর আমার আল্লাহ্‌কে সাক্ষী রাখছি যে আপনার (ইমাম সাদিক) মুখের কথা সমস্- সৃষ্টির
উপর যারা অনুগত বা যারা পাপি, দলিল সরুপ।

(বলেছিলেন যে) ওলী আমর ও কায়েম যার জন্য আমার প্রান ব্যকুল, অদৃশ্য থাকবে যা কোন
সন্দেহ ছাড়াই অদৃশ্য থাকবে, এই অদৃশ্যে থাকার উপর আল্লাহ্‌র দুরুদ হোক।

একটি নিদিষ্ট সময় অদৃশ্য পর্দার আড়ালে থাকবে এবং তারপর আবির্ভাব করবেন। আর পৃথিবীর
পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্- অত্যাচার ও জুলুমকে হটিয়ে আদর্শ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা
করবেন)।

দে’বেল খুযা’ই হিজরী তৃতীয় বৎসরের প্রথম দিকের একজন উচ্চমানের সাহিত্যিক ছিলেন
(মৃত্যু ২৪৬ হিজরী কামারী)। সেও একটি প্রশংসা মুলক লম্বা কবিতা রচনা করে ইমাম সাদিক
(আ.)-এর সামনে পাঠ করে, যা এরূপ:



( فَلَوْلاَ الَّذِى اَرْجُوهُ فِى الْيَوْمِ اَوْغَدٍ


تَقَطَّعَ نَفْسِي إثْرَهُمْ حَسَراتٍ


خُرُوجَ اِمامٍ لاَمُحالَةَ خاَرِجٌ


يَقُومُ عَلَى اسْمِ اللَّهِ وَ الْبَرَكاَتِ



يُمَيِّزُ فِيناَ كُلَّ حَقٍّ وَ باطِلٍ



وَ يَجْزِي عَلَى النَّعْماءِ وَ النَّقَماتِ )


(আজ ও কাল যা কিছু ঘটবে তার উপর যদি আমি আশান্বিত না থাকতাম তাহলে আমার অন্-র
আহ্‌লে বাইতের দু: খে ও অনুতাপে টুকরো টুকরো হয়ে যেত।

এবং সেই আশা, এমন এক ইমামের অবির্ভাবের জন্য যিনি নিঃসন্দেহে অবির্ভূত হবেন। যিনি
আল্লাহ্‌র নাম ও বরকত সাথে নিয়ে কিয়াম করবেন। আর তিনি আমাদের মধ্যকার সত্য ও
বাতিলকেও পৃথক করবেন এবং ভাল কাজের পুরস্কার ও খারাপ কাজের শাস্তি দিবেন (আল গাদির,
খন্ড- ২, পৃঃ- ৩৬০, ও আলফুসুলুল মুহেম্মাহ্‌, পৃঃ- ২৪৯, নাজাফ প্রিন্ট))।

যখন দে’বেল এই কবিতাটি পাঠ করলো ইমাম রেজা (আ.) মাথা তুলে বললেন : ওহে খুযা’ই! এই
কবিতাটিকে রুহুল কুদুস তোমার মুখ দিয়ে উচ্চারণ করিয়েছেন। আরও বললেন : তুমি কি
জান সেই ইমাম কে ?

দে’বেল : না জানিনা। শুধু এতটুকুই শুনেছি যে, একজন ইমাম আপনার বংশ থেকে অবির্ভূত
হবেন এবং পৃথিবীতে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করবেন।


ইমাম : ওহে দে’বেল! আমার পরে আমার ছেলে মুহাম্মদ (ইমাম জাওয়াদ) ইমাম ও তারপর তার
ছেলে আলী (ইমাম হাদী), তারপর তার ছেলে হাসান (ইমাম আসকারী) এবং তারপর তার ছেলে
হুজ্জাত ক্বায়েম যে থাকবে লোক চক্ষুর অন্-রালে আর মানুষ থাকবে তার অপেক্ষায়।
যখন তার অবির্ভাব ঘটবে সবাই তাকে অনুসরণ
করে চলবে। যদি দুনিয়া শেষ হওয়ার মাত্র আর একদিনও বাকি থাকে আল্লাহ্‌ সেই
দিনকে অনেক লম্বা করে দিবেন। যাতে করে ক্বায়েমের আবির্ভাব ঘটাবেন এবং দুনিয়াতে
অত্যাচার ও জুলুমের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে সেখানে আদর্শ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করবেন।
অত্যাচার ও জুলুমের পরিমান যতই বেশী হোক না কেন (আলফুসুলুল মুহেম্মাহ্‌, পৃঃ- ২৫১)।

অন্যান্য আরও কিছু সংখ্যক কবি ও লেখক যারা ইমামগণের (আ.) সমসাময়িক অথবা ইমামগণের
সমসাময়িক কবি লেখকদের ছাত্র ছিল, তারা তাদের কবিতায় পরিস্কারভাবে হযরত মাহ্‌দী
(আ.)-এর বিষয়ে ইশারা করেছে (কিতাবুল মাহ্‌দি, পৃঃ- ১১৩)। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যে
ইমামগণের কাছে অনেকেই প্রশ্ন করত এভাবে, আপনি কি (ক্বায়েম আলে মুহাম্মদ) অথবা
(মাহ্‌দী মুনতাযার)? ইমামগণ তাদের প্রশ্নের উত্তরে স্থান, কাল, পাত্র ভেদে ইমাম
ক্বায়েম (আ.)-এর পরিচয় তুলে ধরতেন।


আর এই (ইমাম মাহ্‌দীর আবির্ভাবের) ঘটনার গুরুত্বের খবর ও হাদীসের কারণেই তাঁর
জন্মের আগে অনেকেই নিজেদেরকে মিথ্যা মাহ্‌দী বলে পরিচয় দিয়েছে। হয় তারা মাহ্‌দী বলে
দাবি করত অথবা এই পথে সুবিধা আদায় করত। উদাহারণ স্বরূপ : কিসানিয়াহ্‌ র্ফে‌কা ইমাম
মাহ্‌দী (আ.)-এর জন্মের প্রায় দুইশত বছর আগে মুহাম্মদ হানাফিকে ইমাম ও মাহ্‌দী
মুনতাযের বলে মনে করত। আর তাদের ধারনা এমনই ছিল যে, সে লোকচক্ষুর অন্-রালে চলে
গেছে। একদিন আবার আবির্ভূত হবে। তারা তাদের দাবি অনুযায়ী ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর
ব্যাপারে নবী (সা.) ও অতীত ইমামগণের নিকট থেকে যে সকল খবরা খবর শুনেছিল তা মুহাম্মদ
হানাফির ব্যাপারে বলতে শুরু করলো (আ’লামুল ওয়ারী, পৃঃ- ৪৪৩)। অন্যদিকে মাহ্‌দী
আববাসী সেও নিজেকে “মাহ্‌দী” বলে মানুষের মাঝে পরিচয় করাতে লাগলো। যাতে করে ইমাম
মাহ্‌দীর অপেক্ষায় থাকা মানুষের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারে।


আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও শিয়া মাযহাবের অনেক আলেমরাই ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর
ব্যাপারে বিভিন্ন খবরা খবর ও হাদীস তারা তাদের লিখিত বইতে লিপিবদ্ধ করেছেন (তাদের
১০৬ জনের নাম নাওইদ আমন ও আমান নামক বইতে উল্লেখ আছে, পৃঃ- ৯২-৯৫, এবং আরও ৩৭ জনের
নাম আল মাহ্‌দি মুনতাযের নামক বইতে উল্লেখ আছে, পৃঃ- ৮০-৮২, লেখক: মুহাম্মদ হাসান
আলে ইয়াসিন)। মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল (মৃত্যু ২৪১ হিজরী) ও সাহীহ বুখারী
(মৃত্যু ২৫৬ হিজরী) যা আহ্‌লে সুন্নতের কাছে অধীক গ্রহণ যোগ্যতা
রাখে তাতে ইমাম ক্বায়েম (আ.)-এর জন্মের অনেক আগেই তার ব্যপারে হাদিস লিপিবদ্ধ করা
হয়েছে (ইসবাতুল হুদাতু, খন্ড-৭, পৃঃ- ১৯৮-২০৬, মুসনাদে হাম্মাল, খন্ড- ১, পৃঃ-
৮৪,৯৯,৪৪৮ ও খন্ড- ২,পৃঃ-২৭,৩৮ দৃষ্টান্- সরুপ। মুলত যে হাদিসগুলি এই বইগুলিতে
উল্লেখ আছে তা হচ্ছে ঃ



أَبشركم بالمهدى، يبعث فى امّتى على اختلاف من الناس و زلازل ، يملأ الارض قسطاً و
عدلاً كماملئت جوراً و ظلماً )।


হাসান বিন মাহবুব কর্তৃক লিখিত “মাসিখেহ্‌” বইটি যা মরহুম তাবরাসীর কথা অনুযায়ী সে
শিয়া মাযহাবের লেখক। যা কিনা ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর দীর্ঘ মেয়াদী অদৃশ্যের একশত বছর
পূর্বে লিখিত হয়েছে। আর তাতে ইমামের অদৃশ্যতার সম্বন্ধে খবরা খবর উল্লেখিত হয়েছে
(আ’লামুল ওয়ারী, পৃঃ- ৪৪৪, ও ইসবাতুল হুদাত, খন্ড- ৭, পৃঃ- ৩৭)। মুরহুম তাবরাসী আরও
বলেন যে, ইমাম বাকের ও সাদিক (আ.)-এর সময়কার শিয়া মুহাদ্দিসরা ইমাম মাহ্‌দীর অদৃশ্য
থাকার বিষয়টিকে তাদের লেখা বইগুলিতে বর্ণনা করেছেন (আ’লামুল ওয়ারা, পৃঃ- ৪৪৩)।

অন্যান্য আরও কিছু শিয়া ও সুন্নি মনীষীরা ইমাম মাহ্‌দী মুনতাযার (আ.)-এর ব্যাপারে
আলাদা আলাদাভাবে বই লিখেছেন (“নাওইদ আমন ও আমান”, পৃঃ- ৯৫, বইয়ে ৩২টি বইয়ের নাম
উল্লেখ আছে, এবং “মাহ্‌দি আহ্‌লে বাইত” বইয়ে ৪১জন সুন্নি লেখক ও ১১০জন শিয়া লেখকের
নাম উল্লেখ আছে, আর “আল্‌ মাহ্‌দি মুনতাযার” বইয়ের ২১-২৪ পৃষ্ঠায় ১৪টি বইয়ের নাম
উল্লেখ আছে। ) যার কিছু কিছু তার জন্মের আগেই সংকলন বা সম্পাদনা হয়েছে। রাওয়াজনী
(মৃত্যু ২৫০ হিজরী কামারী) একজন সুন্নি আলেম, তিনি ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর জন্মের
আগেই তার বিষয়ে “আখবারুল মাহ্‌দী” নামে একটি বই লিখেন (“আল্‌ মাহদী মুনতাযার”, পৃঃ-
২১, কিতাবুল ফেহরেস্- -শেখ তুসি, পৃঃ- ১৭৬)। ইমামদের (আ.) আরও অন্যান্য কিছু সাহাবা
যেমন : আনমাতী, মুহাম্মদ বিন হাসান বিন জুমহুর ইমামের জন্ম ও তাঁর অদৃশ্য
হওয়ার আগেই তার সম্বন্ধে ও তাঁর অদৃশ্য হওয়ার ব্যাপারে বই লিখেন (কিতাবুল ফেহরেস্-
-শেখ তুসি, পৃঃ- ২৮৪ ও ৩০১)।


তার বিষয়ে এত অধীক পরিমানে হাদীস ও খবরাদি আছে যা ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাপারে
এত হাদীস বা খবরা খবর আসেনি। শিয়া বা সুন্নিদের দৃষ্টিতে এই সকল হাদীসগুলো সত্য,
নির্ভরশীল সুত্রে পাওয়া ও গ্রহণযোগ্য। শুধমাত্র শিয়া আলেমরাই নয় বরং সুন্নি আলেমরাও
এগুলোকে মুতাওয়াতের বলে স্বীকার করেছেন (“নাওইদ আমন ও আমান”পৃঃ-৯০, এখানে ১৭ জন
সুন্নি বিশিষ্ট আলেমের নাম উল্লেখ করেছে)। যেমন সাজযী (মৃত্যু ৩৬৩ হিজরী কামারী)
তার “মানাকিবুস সাফি’য়ী” নামক গ্রন্থে লিখেছেন : হযরত মাহ্‌দী সংক্রান্ত খবরসমুহ যা
নবী (সা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে তা
মুতাওয়াতের হিসাবে গ্রহণ যোগ্যতা রাখে (“আল্‌ মাহ্‌দি মুনতাযার”, পৃঃ- ৮৫)।


“ইমাম মাহ্‌দী” বইয়ের লেখক এভাবে লিখেছেন : শিয়া ও সুন্নি মাযহাবের কাছ থেকে ইমাম
মাহ্‌দীর ব্যাপারে যত হাদীস পাওয়া গেছে তা যদি ক্রমিক নম্বর হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়
প্রায় ছয় হাজারেরও বেশীতে পৌছে যাবে। নিঃসন্দেহে তা বিশাল পরিমানের হাদীস। যা কিনা
ইসলামের নিশ্চিত বিষয়ের ব্যাপারেও, যে সকল বিষয়ে মুসলমানরা কোন প্রকার স্বংশয়
রাখেনা বা যে বিষয়গুলোকে মেনে চলা বাঞ্ছনীয় তার ব্যাপারেও এত পরিমান হাদীস আসেনি
(ইমাম মাহ্‌দি, পৃঃ- ৬৬)।

এ কারণেই মুসলমানরা ইসলামী ইতিহাসের সেই প্রথম থেকেই মাহ্‌দী মোউদের ক্বিয়ামের
বিষয়ে অবগত ছিল। বিশেষ করে শিয়া মাযহাবের লোকেরা যারা কিনা নবী (সা.) এর আহ্‌লে
বাইতের হাতে দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হয়েছিল। এ জন্যেই তারা এই
বিষয়ের উপর শক্ত ও মজবুত বিশ্বাস রাখতো এবং অন্যান্য ইমামগণের সময়ে জীবন-যাপন করলেও
ইমাম মাহ্‌দীর জন্মের প্রতি অধির অপেক্ষায় থাকতো।


বিভিন্ন হাদীসে হযরত মাহ্‌দীর ব্যাপারে বলা হয়েছে যে তিনি হযরত ফাতিমা (সা.) এর
সন্তান, শহীদদের সর্দার ইমাম হুসাইনের সুত্র ধরে আসবেন এবং হাশেমী বংশের। তাঁর
পিতার নাম হচ্ছে হাসান এবং তাঁর নিজের নাম ও ডাক নাম নবী (সা.)-এর নাম ও ডাক নামের
অনুরূপ। গোপনে ভূমিষ্ট হবেন ও গোপনে জীবন-যাপন করবেন। দুইটি অদৃশ্যে থাকবেন যার
একটি স্বল্প মেয়দী অপরটি দীর্ঘ মেয়াদী। যতদিন আল্লাহ্‌ চাইবেন গোপন থাকবেন। অবশেষে
আল্লাহ্‌র নির্দেশে আবির্ভাব ও ক্বিয়াম করবেন। আর এ বিশ্বকে পরিচালনার জন্য দ্বীন
ইসলামকে নিদিষ্ট করবেন। পৃথিবীকে অত্যাচার, জুলুম থেকে রক্ষা করে সেখানে আদর্শ ও
ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করবেন।


এই হাদীসগুলোতে দ্বাদশ ইমামের শারিরীক ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের বিবরণ তুলে ধরা
হয়েছে। আমরা এখানে নমুনা স্বরূপ কয়েকটি হাদীস তুলে ধরব। সুন্নি ও শিয়া মাযহাবের
হাদীসগুলোকে আমরা এখানে পৃথক পৃথকভাবে তুলে ধরবো যাতে করে পাঠকের বুঝতে আরও অধীক
সহায়ক হয়।



সুন্নি মাযহাবের হাদীস থেকে :



১-রাসূলে আকরাম (সা.) হযরত মাহ্‌দী (আ.)-এর অবশ্য আবির্ভাবের ব্যাপারে বলেছেন :
যদি দুনিয়ার বয়স শেষ হতে আর মাত্র একদিন বাকী থাকে, আল্লাহ্‌ আমাদের বংশের থেকে
একজনকে পাঠাবেন এই দুনিয়াতে আর্দশ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, যতই অন্যায় ও
অত্যাচার দুনিয়াকে গ্রাস করে ফেলুক (মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ১, পৃঃ-
৯৯)।


নবী (সা.) বলেছেন : ততদিন পর্যন্ত ক্বিয়ামত আসবে না যতদিন পর্যন্ত না আমার
আহ্‌লে বাইতের মধ্য থেকে একজন এই দুনিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যার নাম আমার নামের
অনুরূপ (মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৭৬ ও ৪৩০)

২-দ্বীনের নবী (সা.) বলেছেন : যেমন আলী আমার পরে উম্মাতের ইমাম তদ্রুপ
ক্বায়েম মুনতাযার (তাঁর সন্তানদের মধ্যে থেকে) যখন
আবির্ভাব করবে জমিনকে ন্যায় ও আদর্শে ভরে দেবে, এই দুনিয়া যতই জুলুম ও অত্যাচারে
ভরে থাকুক না কেন। তাঁর কসম যিনি আমাকে সত্য পৌছে দেয়া ও ভয় প্রদর্শনের জন্য
পাঠিয়েছেন। সন্দেহাত্বীতভাবে তারাই চিরস্থায়ী বা অমর যারা কিনা তাঁর অদৃশ্য থাকা
সত্বেও তাঁর উপর ঈমান রাখে।


যাবির উঠে দাড়িয়ে বলল : ইয়া রাসূল আল্লাহ্‌, আপনার সন্-ানদের মধ্যে ক্বায়েম
অদৃশ্যে থাকবে?

বললেন : হ্যাঁ আমার আল্লাহ্‌র কসম। মু’মিনরা পরীক্ষিত আর কাফেররা ধবংস হয়ে
যাবে। ওহে যাবির এই নির্দেশ আল্লাহ্‌রই একটি নির্দেশ। এই রহস্যপূর্ণ বিষয়টি তার
গুপ্ত বিষয়াবলীর মধ্যে একটি। যা তার বান্দাদের
কাছে গোপন রেখেছেন, এটার ব্যাপারে সন্দেহ করা থেকে দুরে থাক কেননা আল্লাহ্‌র
নির্দেশের ব্যাপারে সন্দেহ করা কাফেরী কাজ (মুসনাদে আহ্‌মাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ১,
পৃঃ- ৩৭৬,৪৩০)।

৩- উম্মে সালামা বলেন : রাসূলুল্লাহ্‌ মাহ্‌দী মওউদের কথা স্মরণ করে বলেছিলেন :
হ্যাঁ সে সত্য এবং সে বনি ফাতিমার থেকে আসবে (মুসতাদরাক আলাসসাহীহাইন, খন্ড- ৪,
পৃঃ- ৫৫৪)।


৪- সালমান ফারসী বলেন : একদিন নবীজির কাছে পৌছে দেখলাম, হুসাইন বিন আলীকে নিজের
উরুর উপর বসিয়ে তার চোখগুলোতে ও ঠোটে চুমা দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন : তুমি সাইয়্যেদ,
সাইয়্যেদের সন্তান ও সাইয়্যেদের ভাই, তুমি ইমাম, ইমামের সন্তান ও ইমামের ভাই, তুমি
আল্লাহ্‌র হুজ্জাত, হুজ্জাতে খোদার সন্তান ও হুজ্জাতে খোদার ভাই, তুমি নয়জন
হুজ্জাতে খোদার পিতা তাদের মধ্যে নবমজন হচ্ছে ক্বায়েমে মুনতাযার (ইয়ুনাবিউল
মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৯২)।


৫- ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন : হাসান বিন আলী আসকারীর স্থলাভিষিক্ত উপযুক্ত সন্-ানই
সাহেবুজ্জামান (জামানার মালিক) আর সেই হচ্ছে মাহ্‌দী মওউদ (ইয়ুনাবিউল মাওয়াদ্দাহ্‌,
পৃঃ- ৪৯১)।


৬- মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.) বলেছেন : তোমাদেরকে মাহ্‌দীর সুসংবাদ দিচ্ছি, সে আমার
উম্মতের মধ্যেই অভিষিক্ত হবে। যখন আমার উম্মত মতপার্থক্যের ও পদস্থখলনের মধ্যে
থাকবে। সুতরাং জমিনকে পরিপূর্ণভাবে ন্যায় ও আদর্শে ভরে দেবে। তা যতই জুলুম ও
অত্যাচারে ভরে থাকুক না কেন। আসমান ও জামিনের সকলেই তাঁর উপর সন্তুষ্ট হবে (মুসনাদে
আহমাদ বিন হাম্বাল, খন্ড- ২, পৃঃ- ৩৭) ...

৭- ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন : যে লোকের সাধুতা থাকেনা তাঁর কোন দ্বীন নেই। তোমাদের
মধ্যে সেই আল্লাহ্‌র কাছে অধিক প্রিয় যার পরহেজগারীতা সকলের উর্দ্ধে। পরে আরও বলেন
: আমার বংশধরের থেকে চতুর্থ সন্তান যে এক সম্বান্- কানিযের সন্-ান আল্লাহ্‌
তাঁর মাধ্যমে জমিনকে যে কোন ধরনের জুলুম ও অন্যায় থেকে মুক্তি দিবেন এবং সে ঐ
ব্যক্তি যার ভূমিষ্টের ব্যাপারে মানুষের সন্দেহ থাকবে। সে অদৃশ্যে থাকবে। যখন
আবির্ভূত হবেন তখন জমিন আল্লাহ্‌র নূরে নূরানীত হবে। আর মানুষের মাঝে ন্যায়ের
মাপকাঠি স্থির করবে। যার কারণে কেউ অন্যের বিরুদ্ধে অত্যাচার করতে পারবে না
(ইয়ুনাবিউল মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৪৮) ...

৮- আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.) বলেছেন : আল্লাহ্‌ রাববুল আ’লামিন একটি দলকে আনবেন
যারা তাকে ভালবাসে এবং তিনিও তাদেরকে ভালবাসেন। তাদের মধ্যে সেই তাঁর
প্রতিনিধিত্বের পর্যায়ে পৌছাবে যে পর্দার আড়ালে গোপনীয়। আর সে হচ্ছে মাহ্‌দী মওউদ
(ইমাম মাহ্‌দী) ... জমিনকে পরিপূর্ণভাবে আদর্শ ও ন্যায়ে ভরে দেবে এবং এ কাজে করতে
তাঁর কোন প্রকার সমস্যা বা অসুবিধা হবে না। শিশু বয়সেই সে তাঁর বাবা-মার কাছ থেকে
দুরে থাকবে ... মুসলমানদের অঞ্চলগুলোকে নিরাপত্তার সাথে জয় করবে। সময় তাঁর জন্যে
প্রস্তুত ও পরিচ্ছন্ন হবে। তাঁর মুখের কথায় যুক্তি থাকবে এবং নবীন প্রবীণ সকলেই
তাকে অনুসরণ করে চলবে। ঠিক যে সময় তাঁর ইমামত পরিপূর্ণতায় পৌছাবে ও তাঁর খেলাফত
প্রতিষ্ঠিত হবে যারা কবরের মধ্যে শুয়ে আছে তাদেরকে আল্লাহ্‌ তা’য়ালা পুনরায় জীবিত
করবেন। তাদের সকাল হবে যখন তারা তাদের কবরের মধ্যে থাকবে না। এই পৃথিবী ইমাম
মাহ্‌দীর পরশ পেয়ে তাঁর হারিয়ে যাওয়া রূপ বা
সৌন্দর্যকে পুনরায় ফিরে পাবে। চারিদিক ফুলে-ফলে, শস্য-শ্যামলে, নদ-নদী নির্মল
পানির কলতানে বয়ে যাবে, পাখিরা কিচির-মিচির শব্দে নেচে গেয়ে ঘরে ফিরবে। মানুষের
অন্-রগুলি অন্যায়, পাপাচার, শত্রুতা, ফিতনা, থেকে দুরে সরে গিয়ে একে অপরের প্রতি
ভালবাসায়, ভালকাজে লিপ্ত হবে। আর তাদের সবকিছুই তখন বরকতময় হয়ে উঠবে। এর বেশী কিছু
বলার প্রয়োজন দেখছিনা শুধুমাত্র ঐ দিনের প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইলো (ইয়ুনাবিাউল
মাওয়াদ্দাহ্‌, পৃঃ- ৪৬৭) ।


শিয়া মাযহাবের হাদীস থেকে :



১- ইমাম সাদিক (আ.) বলেছেন : মানুষ তাদের ইমামকে হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু সে
হজ্ব মৌসুমে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে দেখেন। কিন্তু মানুষ তাকে দেখতে পায় না
(উসুলে কাফি, খন্ড- ১, পৃঃ- ৩৩৭)।

২- আসবাগ বিন নাবাতাহ্‌ বলেন : আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.)-এর সমীপে উপস্থিত
হয়ে তাকে চিন্তায় মগ্ন থাকতে দেখলাম তিনি আঙ্গুল মোবারক দিয়ে মাটিতে টোকা
দিচ্ছিলেন। বললাম : আপনাকে কেন চিন্তিত লাগছে, আপনি কী দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা
রাখেন ?

বললেন : না, আল্লাহ্‌ সাক্ষী কখনও এই দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা আমার ছিল না বা এখনও
নেই। এক জাতকের বিষয়ে চিন্তা করছি যে আমার বংশ

imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা Empty Re: ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা

Post by samu sen on 2011-08-15, 00:21

আরো কম কম কইরা লেকলে বুজদে সুবিদা অয়
samu sen
samu sen
আমি নতুন
আমি নতুন

লিঙ্গ : Male
পোষ্ট : 14
রেপুটেশন : 0
শুভ জন্মদিন : 20/08/1995
নিবন্ধন তারিখ : 21/07/2011
বয়স : 23
মনোভাব : ওঁ নমঃ শিবায়

Back to top Go down

ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা Empty Re: ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা

Post by samu sen on 2011-08-15, 00:25

ভাই রাক কইরেন না আমরা নাট বল্টু লইয়া কাজ করি অত বুজের কইরা কইতাম পারিনা
samu sen
samu sen
আমি নতুন
আমি নতুন

লিঙ্গ : Male
পোষ্ট : 14
রেপুটেশন : 0
শুভ জন্মদিন : 20/08/1995
নিবন্ধন তারিখ : 21/07/2011
বয়স : 23
মনোভাব : ওঁ নমঃ শিবায়

Back to top Go down

ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা Empty Re: ইমামে যামান(আঃ) থাকার প্রয়োজনীয়তা

Post by Sponsored content


Sponsored content


Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum