Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে জামালের যুধ্ব

Go down

জঙ্গে জামালের যুধ্ব Empty জঙ্গে জামালের যুধ্ব

Post by imam1979 on 2011-08-25, 09:52

জঙ্গে জামালের যুধ্ব Facebook
(বইঃবেলায়াতের দ্যুতি
মুলঃআয়াতুল্লাহ জাফর সুবহানী,বাংলা রুপান্তরঃ মোঃমাইনুদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস বাদশা
প্রাপ্তিস্থানঃ৯১৩৫১৫৫) জঙ্গে জামালের যুদ্বের পটভুমি
সীমাহীন নৈ্রাজ্য,স্বজনপ্রীতি এবং অত্যাচারের পর যখন উমাইয়া খলিফা হযরত
উসমানকে খুন হলেন,অতপর বাইয়াতের জন্য ইমাম হযরত আলী(সাঃ)এর হাতে আনছার ও
মুহাজিরদের নযীরবিহীন আগ্রহ-উদ্দিপনা এবং সত্য ও ন্যায়পরায়নতার শাসন
ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তাঁদের আবেদনের ফলে ইমাম(আঃ)কে শাসনভার হাতে
নিতে হয়েছিল।
বায়তুল মাল বন্টনের ব্যাপারে ইমাম আলীর(আঃ) নীতি একটি দলের মধ্যে ক্ষোভের
সৃষ্টি করে যে দলটি ন্যায়নীতি ও সুন্নাতে হাসানার পুনর্জাগরনে অসন্তুষ্ট হয়
এবং বৈষম্য ,আত্নস্বার্থ ও প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা পুরন করাই ছিল যাদের
কাম্য।
ইমামকে(আঃ) তাঁর প্রায় ৫ বছরের হুকুমতকালে ৩টি অবাধ্য দলের মোকাবেলা করতে
হয়েছিল যাদের অন্যায় ছিল সীমাহীন।তাদের লক্ষ্য হযরত উসমানের আমলের মত
হুকুমত ফিরিয়ে আনা,অনর্থক দান ও অপব্যায়,অযোগ্য ও স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তিদের
প্রতিষ্টা করা,মুয়াবিয়ার মতো পুববর্তী অযোগ্য গভর্নরদেরকে পুনর্বহাল করা
ছাড়া অন্য কিছু ছিল না।
এ যুদ্বসমুহে-যাতে মুসলমনদের রক্ত ঝরেছিল,তাতে বদর ও ওহুদের একদল সাহাবীও
ইমামের(আঃ) পাশে ছিলেন।অর্থাত যারা দ্বীন ইসলামের ইতিহাসে স্পর্শকাতর
মুহুর্তগুলোতে মহানবীর(সাঃ) পাশে থেকে তরবারী চালিয়েছিলেন,এবার তাঁরা তাঁর
সত্যনিষ্ট খলিফা ও উত্তরাধীকারীর পক্ষে তরবারি চালিয়েছিলেন এবং ইমাম
আলীর(আঃ) সমুন্নত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নিজ জীবন উৎসর্গ
করেছিলেন।
ইমামের(আঃ)জীবনের যে মুল্যবান সময় মহানবীর(সাঃ) উম্মাতের
হেদায়াত,প্রশিক্ষন ও ইসলামের জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্য ব্যয় হওয়ার কথা তা
ইমামের(আঃ) পবিত্র উদ্দেশ্যের পথে বাধা সৃষ্টিকারী এ ৩টি দলকে দমন করতে
ব্যয় হয়েছিল।কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইমাম(আঃ) তাঁর এ চুড়ান্ত লক্ষ্যে অর্থাত
ইসলামী সুন্নাত ও মুলনীতি অনুসারে এক বিশ্বজনীন হুকুমাত প্রতিষ্টার লক্ষ্যে
উপনীত হবার আগেই তাঁর হুকুমতের ৫ বছর আলো বিকিরনের পর অস্ত গিয়েছিল এবং
তাঁর শাহাদাতের পর ইসলামী হুকুমত রাজতান্ত্রিক শাসনব্যাবস্থায় রুপান্তরিত
হয়েছিল,আর বনু উমাইয়া ও আব্বাসীয়রা হুকুমতকে বংশপরম্পরায় নিজেদের হাতে হাতে
ঘুরিয়েছিল।ফলে হুকুমতে ইসলামী মুমিনদের একটি কামনা হিসাবেই থেকে গেল।
ইমামকে(আঃ) যে ৩টি দলের বিরুদ্বে যুদ্ব করতে হয়েছিল তারা ছিল যথাক্রমেঃ
ক)নাকেছিন বা অঙ্গীকার ভংগকারী দল।এ দলের নেতা ছিলেন বিশেষ করে তালহা ও
যুবায়ের।
ইমাম আলী(আঃ) ক্ষমতায় আসায় সর্বত্র তাঁদের দাপট শেষ হয়ে গিয়েছিল।তাই তাঁরা
মহানবীর(সাঃ) পত্নী হযরত আয়েশার সম্মানের ছদ্মাবরনে ও বনু উমাইয়ার অকুন্ঠ
সহযোগীতায় একটি ব্যায়বহুল সেনাবাহিনী গঠন করে বসরায় পৌছেন এবং শহরটি দখল
করে নেন।ইমাম(আঃ) তাঁদের পশ্চাদ্বাবন করলেন এবং দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ব
বাধে।সেই যুদ্বে তালহা ও যুবাইর উভয়েই খুন হন এবং তাদের বাহিনী বিক্ষিপ্ত
হয়ে যায়।তাদের একদল বন্দী হয় যারা পরবর্তীতে ইমামের(আঃ) ক্ষমা লাভ করে।
খ) ক্বাছেতীন বা অত্যাচারী দল-যারা সত্য পথ থেকে বের হয়ে গিয়েছিল।
এই দলের প্রধান ছিলেন মুয়াবিয়া-যিনি প্রতারনা,শঠতা ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ২
বছর যাবত,বরং ইমাম আলী(আঃ)এর জীবনাবসান পর্যন্ত তাঁকে ব্যাস্ত রেখেছিলেন
এবং ইরাক ও শামের মধ্যস্থলে তার ও আলীর(আঃ) মধ্যে ছিফফিন যুদ্ব সংঘঠিত
হয়েছিল।এ যুদ্বে প্রায় ১ লক্ষ মুসলমানের রক্ত ঝরেছিল।কিন্তু ইমাম আলী(আঃ)
চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেন নি,যদিও মুয়াবিয়া শামে কোনঠাসা হইয়ে পড়েছিলেন।
গ)মারেক্কীন বা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাওয়া দল।
এই দলটি হলো বিখ্যাত খারেজী দল।তারা সিফফিন যুদ্বের শেষ পর্যন্ত আলী(আঃ)এর
পক্ষে ছিল এবং তাঁর পক্ষে যুদ্ব করেছিল;কিন্তু মুয়াবিয়ার শঠতামুলক কাজের
ফলে তারা নিজেদের ইমামের বিরুদ্বে চলে গিয়েছিল এবং ৩য় দল হিসাবে ইমাম
আলীর(আঃ) ও মুয়াবিয়া উভয়ের বিরুদ্বেই দাড়িয়েছিল।ইসলাম,মুসলমান ও ইসলামী
হুকুমতের ওপর এ দলের ক্ষতির ব্যাপকতা অন্য দু’দলের চেয়ে বেশী ছিল।আলী(আঃ) এ
দলটির সাথে ‘নাহরাভান’(নাহরাওয়ান) নামক স্থানে যুদ্ব করেন এবং তাদের প্রায়
নিশ্চিনহ করে দেন।ইমাম(আঃ) এরপর নিজেকে শামের ফাসাদের মুলোৎপাটনের জন্য
প্রস্তুত করে ফেলেছিলেন।ঠিক এ সময়ে তিনি খারেজীদের একজনের হাতে শাহাদাতের
পেয়ালা পান করেন।আর সেই সাথে মানবতা এক অতি প্রিয় ও উদার মানুষকে
হারালো।ইসলাম রাসুলের(সাঃ) পর সবচেয়ে উপযুক্ত মানুষটিকে হারালো।
ইমাম আলী(আঃ) এ হ্রদয়বিদারক ঘটনাগুলোর সম্মুখীন হবার আগেই এ ঘটনাগুলো
জানতেন।আর একারনেই উসমানের নিহত হওয়ার পর,বিপ্লবীরা যখন আলীর(আঃ) ঘরে ছুটে
এলেন এবং তাঁর নিকট তাদের বাইয়াত গ্রহন করার জন্য আবেদন করলেন তখন ইমাম(আঃ)
তাদেরকে বললেনঃ
“ আমাকে বাদ দাও এবং অন্য কারো নিকট যাও।কারন,আমরা এখন এমন ঘটনাবলীর
সম্মুখীন যেগুলোর চেহারা বিভিন্ন;সে সব ঘটনা এমন যেগুলো অন্তরসমুহ এবং
বিচার-বুদ্বি কখনোই সহ্য করতে পারেনা”(তারিখে ত্বাবারী,৩য় খন্ড,পৃঃ১৫৬)।
ইমাম আলী(আঃ)এর নিকট এ হ্রদয়বিদারক ঘটনাবলী সম্প্রকে জানার উৎস ছিলো
রাসুলের(সাঃ) ভবিষদ্বানী।মুহাদ্দেসগন রাসুল(সাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে ,তিনি
আলী(আঃ)কে বলেছিলেনঃ
“ হে আলী! তুমি নাকেছিন,ক্বাসেতিন ও মারেক্কীন দলের বিরুদ্বে যুদ্ব করবে”(মুস্তাদ্রাকুল,৩য় খন্ড,পৃঃ১৪০)।
এই হাদিসটি একাধিকরুপে হাদিস ও ইতিহাসের গ্রন্থসমুহে বনিত হয়েছে উপরে উল্লেখিত বাক্যটিতে।
এ রক্তাক্ত বেদনাদায়ক ঘটনাসমুহ সম্পরকে কেবল আলী(আঃ)ই জানতেন না,বরং
নাকেছিন দলের নেতারাও রাসুলের(সাঃ) থেকে আলী(আঃ)এর বিরুদ্বে তাদের যুদ্বের
কথা শুনেছিলেন।ইতিহাসে এদেরকে ‘আসহাবে জামাল’ নামে উল্লেখ করা
হয়েছে।মহানবী(সাঃ) স্বয়ং যুবাইর ও আয়শাকে এ সম্পরকে কঠোরভাবে সর্তক করে
দিয়েছিলেন।কিন্তু তারা সাময়িক পার্থিব ফেতনায় এমনভাবে নিমজ্জিত হয়েছিলেন
যে,নিজেদেরকে আর কখনোই ফেরাতে পারেননি।


জঙ্গে জামালের যুধ্বে হযরত আলীর(আঃ) বাহিনীর বীরত্ব ও বিজয়

বিশ্বের সেনাপতিদের মাঝে এমন কাউকে পাওয়া যায় না যিনি ইমাম আলীর(আঃ) মতো
শত্রুকে অবকাশ দান করেছেন এবং প্রতিনিধি পাঠিয়ে কোরানের বিচার মেনে নেয়ার
জন্য প্রতিপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন,আর যুদ্বের সুত্রপাত করার ব্যাপারে
ধৈর্য ও সহ্যের পরিচয় দিয়েছেন।এব্যাপারে অবস্থা এতদুর পর্যন্ত গড়ায়
যে,তাঁর নিষ্টাবান সঙ্গীদের মধ্যে আপত্তি ও অভিযোগের স্বর উচ্চকিত
হয়।একারনে ইমাম আলী(আঃ) স্বীয় সৈ্ন্যবাহিনী মোতায়েনের কাজে হাত দেন।তিনি
নিম্নোক্ত রুপে স্বীয় সেনাপতিদেরকে দায়িত্ব প্রদান করেন।
অগ্রভাগের সেনাদের সর্বাধিনায়ক হিসাবে ইবনে আব্বাসকে,অশ্বারোহী বাহিনীর
সেনাপতি হিসাবে ‘আম্মার ইয়াসিরকে,আর পদাতিক বাহিনীর সেনাপতি হিসাবে
মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে দায়িত্ব প্রদান করলেন।অতপর
মুযহাজ,হামদান,কিন্দাহ,কুযা’আহ, খুযা’আহ,আযদ,বাকর,আব্দুল ক্কায়স প্রভৃতি
গোত্রেরশ্ব ও পদাতিক দলের জন্য পতাকাবাহীদেরকে নির্ধারন করে দিলেন।সেদিন
যারা অশ্ব ও পদাতিক নির্বিশেষে ইমাম(আঃ)এর পতাকাতলে যুদ্বের জন্য প্রস্তুত
হয়েছিল তাদের সংখ্যা ১৬ হাজারে পৌছে।(আল-জামাল,পৃঃ১৭২)।

নাকেছিন দলের পক্ষ থেকে আক্রমন
ইমাম(আঃ) যখন স্বীয় সৈ্ন্যদের উদ্দেশ্যে যুদ্বের নিয়মাবলী বর্ননা করতে
ব্যাস্ত ছিলেন তখন আকস্মিকভাবে শত্রুপক্ষের কতগুলো তীর এসে ইমামের সেনা
অবস্থানের ওপর পড়ে।এর ফলে ইমামের কতিপয় সৈ্ন্য প্রান হারান।তন্মধ্যে একজন
ছিলো আব্দুল্লাহ ইবনে বাদীলের পুত্র।আব্দুল্লাহ স্বীয় পুত্রের লাশ নিয়ে
ইমামের কাছে এলেন এবং বললেন,”এখনো কি আমাদের ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে
হবে যাতে শত্রু আমাদেরকে একের পর এক হত্যা করে?আল্লাহর কসম!যদি হুজ্জাত
পুর্ন করাই উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে আপনি তাদের ওপর হুজ্জাত পুর্ন করেছেন।“
আব্দুল্লাহর একথার পর ইমাম(আঃ) যুদ্বের জন্য প্রস্তুর হলেন।তিনি
রাসুলের(সাঃ) বর্ম পরিধান করলেন এবং উটের পিঠে সোয়ার হলেন।অতঃপর স্বীয়
সৈ্ন্যদলের সামনে এসে দাড়ালেন।ইমামের(আঃ) অন্যতম অন্তরঙ্গ সহচর ক্কায়স ইবনে
সা’দ ইবনে উবাদাহ তাঁর সম্পর্কে এবং যে পতাকা তিনি উড্ডিন করেছিলেন সে
সম্পর্কে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।কবিতাটির দুটি দ্বিপদী নিম্নরুপঃ
“এই যে পতাকাতলে আমরা সমবেত হয়েছি এটা হলো সেই পতাকা,রাসুলাল্লাহর(সাঃ)
সময়ে আমরা যার তলে একত্রিত হতাম।আর জিব্রাইল সেদিন আমাদের সাহায্যকারী
ছিলো।যে ব্যক্তি তাঁর গোপন রহস্যের আধার ও সাহায্যকারী হবে অন্য কেউ তার
সহযোগী না হলেও তার জন্য এতে কোনো ক্ষতি নেই”।
ইমামের সৈন্যদলছিলো চোখে পড়ার মত সুশৃ্ংখল।তাদেরকে দেখে নাকছীন দলের
মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়।হযরত আয়েশার হাওদা বহনকারী উটকে রনাঙ্গনে
উপস্থিত করলো।তার লাগাম তুলে দিল বছরার কাযী ইবনে সুরের হাতে।তিনি গলায় এক
জিলদ কোরান শরিফ ঝুলিয়ে নিলেন।আর আযদ ও বনু যাব্বাহ গোত্রের লোকেরা উটটিকে
পরিবেষ্টন করে ছিলো।আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর আয়েশার সম্মুখে আর মারয়ান ইবনে
হাকাম তার বাম পাশে ছিলো।সৈ্ন্যবাহিনীর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন
যুবাইর।আর ত্বালহা অশ্বারোহী বাহিনীর সেনাপতি এবং মুহাম্মাদ ইবনে ত্বালহা
পদাতিক বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন।
ইমাম(আঃ) জামাল দিবসে স্বীয় পুত্র মুহাম্মাদ হানাফীয়ার হাতে পতাকা
সোপর্দ করলেন।আর তাঁকে উৎকৃষ্টতম সামরিক শ্লোগানের বাক্যাবলী দ্বারা
সম্বোধন করে বললেনঃ
“ যদি পর্বতসমুহ স্বীয় স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যায় তবু তুমি তোমার
স্থানে অটল থাকো,দাঁতের ওপরে দাঁত পিষে ধরো।নিজের পদদ্বয়কে মাটিতে পেরেকের
মত সেঁটে নাও।সর্বক্ষন সৈ্ন্যদের শেষ অবধি লক্ষ্য করো(ঐ পর্যন্ত অগ্রসর
হও)।তোমার চোখ বন্দ্ব করো আর জেনে রাখো যে,বিজয় আসে মহান আল্লাহর পক্ষ
থেকে”।(নাহাজুল বালাগা,খুতবা নং ১১)।
আলী(আঃ)এর প্রতিটি বাক্য একেকটি জীবন্ত শ্লোগান- ব্যাখ্যা করতে গেলে কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে যাবে।
লোকেরা যখন মুঃ ইবনে হানাফিয়াকে বললো,ইমাম(আঃ) কেন তাঁকে রনাঙ্গনে
পাঠালেন অথচ হাসান ও হুসাইনকে একাজ থেকে দূরে রাখলেন?উত্তরে হানাফিয়া
বললেন, ”আমি হলাম পিতার হাত,আর তাঁরা দুজন হলেন তাঁর দুই নয়ন।তিনি তাঁর হাত
দ্বারা তাঁর দুই নয়নকে রক্ষা করছেন”।(নাহাজুল বালাগাঃইবনে আবীল হাদীদ,১ম
খন্ড,পৃঃ ২৪৪)।
ইবনে আবীল হাদীদ তাঁর শারহে নাহজুল বালাগা গ্রন্থে মাদায়েনী ও ওয়াকেদীর ন্যায় ঐতিহাসিকদের বর্ননা থেকে ঘটনা তুলে ধরেছেনঃ
হযরত ইমাম(আঃ) কাতিবাতুল খাদরা নামে পরিচিত একদল লোককে- মুহাজির ও
আনছাররাই ছিলো যার সদস্য-শত্রু বাহিনীর ওপর আক্রমন চালানোর জন্য
বললেন।হাসান ও হুসাইন তাঁর পাশে থাকা অবস্থায় তিনি মুঃ ইবনে হানাফিয়ার হাতে
পতাকা তুলে দিলেন এবং এগিয়ে যাবার নির্দেশ দিলেন। বললেন,এতটা পরিমান এগিয়ে
যাও যাতে ঐটাকে জামালের(উটের) চোখের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারো”।
ইমামের পুত্র এগিয়ে চললেন।কিন্তু তীরের বর্ষন তাকে এগিয়ে যেতে বাধা
দিল।তিনি ক্ষনিক থেমে গেলেন যাতে তীরবর্ষন কিছুটা কমে আসে।এসময় ইমাম আবার
আক্রমন করার জন্য পুত্রকে নির্দেশ দিলেন।কিন্তু তাঁর থেকে যখন বিলম্ব অনুভব
করলেন তখন তাঁর প্রতি দয়ার্দ্র হলেন এবং তাঁর হাত থেকে পতাকাটি নিয়ে
নিলেন।অতঃপর তাঁর এক হাতে তলোয়ার আর অন্য হাতে পতাকা নিয়ে তিনি স্বয়ং
আক্রমন শুরু করলেন এং সারি সারি শত্রুদের ভেদ করে ঢূকে গেলেন।অতঃপর তিনি
নিজের তলোয়ার- যা বেঁকে গিয়ছিল-মেরামতের জন্য স্বীয় সঙ্গীদের কছে ফিরে
এলেন।
ইমামের সঙ্গীগন যেমনঃআম্মার ইয়াসির,মালেক ইবনে আশতার,ইমাম হাসান ও
ইমাম হুসাইন তাঁকে বললেন,”আমরাই আক্রমন করছি;আপনি এখানে অবস্থান করুন”।

ইমাম তাঁদের কথার উত্তর দিলেন না,তাঁদের দিকে তাকালেনও না।বরং তিনি
সিংহের মত গর্জন করছিলেন।তাঁর সমস্ত মনোযোগ ছিল শুধু শত্রু বাহিনীর
দিকে,যেন আশে পাশের কাউকেই তিনি দেখছিলেন না।অতঃপর তিনি আবার পতাকাটি স্বীয়
পুত্রের হাতে সোপর্দ করলেন এবং আরেকটি আক্রমন শুরু করলেন।তিনি শত্রুদের
ব্যুহ ভেদ করে ঢুকে গেলেন।শত্রুপক্ষের যাকেই সামনে পেলেন তাকেই নিপাত
করলেন।
শত্রুরা তাঁর অগ্রাভিযান দেখে পালিয়ে যাচ্ছিল এবং এক পাশে আশ্রয়
নিচ্ছিল।এ আক্রমনে ইমাম এতো বশী শত্রু সৈ্ন্যকে হত্যা করলেন যে,তাদের রক্তে
মাটি লাল হয়ে গেল।
অতঃপর আবার তাঁর তলোয়ার বেঁকে যাওয়ায় তিনি ফিরে এলেন।নিজের হাটুর উপর
রেখে তিনি সেটাকে সোজা করলেন।এসময় তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে
ধরলো এবং তাঁকে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বললো,হয়তোবা ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে লক্ষ্য
করে আক্রমন চালাতে পারে।কারন তাঁর নিহত হবার অর্থ হলো ইসলাম ধ্বংশ হয়ে
যাওয়া।তাঁ্রা আরো বললেন,”আমরা তো আপনার জন্যই রয়েছি”।ইমাম বললেন,”আমি
আল্লাহর জন্য যুদ্ব করছি এবং তাঁর সন্টুষ্টি কামনা করি”।মুহাম্মাদ বললেন,কে
পারে আপনার মতো করে কাজ সম্পাদন করতে,হে আমিরুল মু’মিনিন”।
এসময় ইমাম শত্রুসেনার বাম পাশের দলটি –যার নেতৃ্ত্বে ছিল হেলাল,সখানে
আক্রমন চালাতে মালেক আশতারের কাছে বার্তা পাঠালেন।এ আক্রমনে হেলাল নিহত
হয়।আর বছরার কাযী কা’ব ইবনে সুর-যিনি আয়শার উটের লাগাম ধরে ছিলেন এবং জামাল
যুদ্বের অন্যতম বীর আমর ইবনে ইয়াস্রিবী যাব্বী-যার ওপরে হযরত ওসমানের
পক্ষথেকে বেশ কিছুকাল বছরার কাযীর পদ ন্যাস্ত ছিল,এদুজনই নিহত হন।বছরী
বাহিনীর প্রানপন চেষ্টা ছিল এই যে,আয়েশার উট দন্ডায়মান থাকুক।কারন এটা ছিল
তাদের প্রতিরোধ ও দৃঢ়তার প্রতীক।একারনেই ইমামের সৈ্ন্যদল পর্বতের ন্যায়
উটের(জামালের) দিকে আক্রমন চালালো।আর তারাও পাহাড়ের মত শক্ত হয়ে প্রতিরোধ
গড়ে তুললো।উটের লাগামকে অক্ষত রাখার জন্য নাকেছীন পক্ষের কমপক্ষে ৭০ জন
তাদের হাত হারায়(শারহে নাহজুল বালাগা,পৃঃ২৬৫)।
মস্তকগুলো ধর থেকে উড়ে যাচ্ছিলো,হাতগুলো জোড়া থেকে কর্তিত হয়ে
যাচ্ছিলো,কলিজা ও নাড়িভুড়িগুলো পেটের মধ্যে থেকে বের হয়েছিলো।কিন্তু এতো
কিছুর পরও নাকেছীনের দল পঙ্গপালের ন্যায় হযরত আয়েশার উটের চারপশে অনড় ও
মযবুত হয়ে দাড়িয়ে ছিল।এসময় ইমাম(আঃ) চিৎকার করে বললেনঃ
“ধিক তোমাদের উপর!(আয়শার) উটকে ভুপাতিত করো।এটা হলো শয়াতান।এটাকে ভুপাতিত
করো,নতুবা আরব ধ্বংশ হয়ে যাবে।যতক্ষন এ উট দন্ডায়মান থাকবে ততক্ষন
তলোয়ারসমুহ উথথিত থাকবে আর আঘাত হানা হবে”(শরহে নাহজুল বালাগা,পৃঃ
২৫৭-২৬৭)।

সৈ্ন্যদের মনোবল বৃ্দ্বিতে ইমামের পদক্ষেপ
ইমাম(আঃ) স্বীয় সৈ্ন্যদের মনোবল বাড়ানোর জন্য কখনো “ইয়া মাঞ্ছুরু আমেত” এং
কখনো কখনো “হা-মীম,লা ইউনছারুন”শ্লোগান ব্যবহার করতেন। এ উভয় শ্লোগানই
রাসুলাল্লাহ(সাঃ)এর উদ্ভাছিল।
…………….চলবে।

imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum