Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে জামালের যুধ্ব -২

Go down

জঙ্গে জামালের যুধ্ব -২ Empty জঙ্গে জামালের যুধ্ব -২

Post by imam1979 on 2011-09-04, 18:36

সৈন্যদের মনোবল বৃ্দ্বিতে ইমামের পদক্ষেপ
ইমাম(আঃ) স্বীয় সৈ্ন্যদের মনোবল বাড়ানোর জন্য কখনো “ইয়া মাঞ্ছুরু আমেত” এং
কখনো কখনো “হা-মীম,লা ইউনছারুন”শ্লোগান ব্যবহার করতেন। এ উভয় শ্লোগানই
রাসুলাল্লাহ(সাঃ)এর উদ্ভাছিল।তিনি মুশরিকদের বিরুধ্বে যুধ্বে এই শ্লোগান
ব্যাবহার করতেন।এসব শ্লোগান ব্যবহারের ফলে শত্রুদের মনে অদ্ভুত ধরনের
প্রভাব সৃষ্টি হতো।কারন,এতে মুশরিকদের বিরুধ্বে মুসলমানদের যুধ্বের স্মৃতি
জাগরুক হতো।
এ কারনে আয়েশাও জামাল-বাহিনীর মনোবল বৃ্দ্বির জন্য শ্লোগান দিতঃ
“হে ধৈর্য্শীলদের সন্তানগন ধৈর্য্যধারন কর এবং আক্রমন চালিয়ে যাও।আমিই তোমাদের বেহেশ্তের জামিন”।
শ্লোগানের ফলে একদল তাঁর চারপাশ ঘিরে ধরলো এবং এতদুর পর্যন্ত অগ্রসর হলো যে,তারা ইমাম আলীর (আঃ)বাহিনীর কয়েক ধাপের মধ্যে পৌঁছে গেল।
আয়েশা স্বীয় সঙ্গীদের উত্তেজিত করার জন্য এক মুষ্টি মাটি চাইলেন।তাকে
তা দেয়া হলে তিনি সেগুলোকে ইমামের(আঃ) সৈ্ন্যদের দিকে ছুড়ে মারলেন এবং
বললেন, “কালো হোক তোমাদের মুখমন্ডল”।তিনি এক্ষেত্রে রাসুলাল্লাহকে(সাঃ)
অনুসরন করলেন।কারন রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বদরের যুদ্বে এক মুষ্টি মাটি তুলে নেন
এবং শত্রুদের দিকে নিক্ষেপ করে এ বাক্যটিই উচ্চারন করেন।আর এসুত্রেই
আল্লাহ অবতীর্ন করেনঃ “আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন তখন তা আপনি নিক্ষেপ
করেননি,বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন”(সুরা আনফালঃ১৭)।আয়েশার একাজ দেখে
ইমাম আলী(আঃ) তৎক্ষনাত বলে উঠলেনঃ”হে আয়েশা আপনি যখন নিক্ষেপ কখন তা আপনি
নিক্ষেপ করেননি,বরং শয়তানই তা নিক্ষেপ করেছিল”।

উট ধরাশয়ী হলো
আয়েশার উট ছিলো একটি অবলা পশু যাকে অশুভ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য
ব্যবহার করা হচ্ছিল।আর তার পিঠের উপর আয়েশার হাওদা স্থাপনের মাধ্যমে তার
উপর পবিত্রতার রঙ লাগান হয়েছিল।বছরী বাহিনী এ উটটিকে রক্ষা ও দন্ডায়মান
রাখার জন্য বহু চেষ্টা চালায়।এজন্য অনেকের হাত কাটা পড়ে।যখনই একটি হাত কাটা
পড়ছিল তখনই অন্য হাত এসে তার লাগাম ধরছিল।কিন্তু অবশেষে উটের লাগাম ধরে
রাখার মতো আর কেউ ছিলো না।।এসময়ে যুবাইরের পুত্র সেটাকে হাতে তুলে
নিলেন।কিন্তু মালেক আশতার তার উপর আক্রমন চালিয়ে তাকে ধরাশয়ী করলেন এবং তার
গলা চেপে ধরেন।ইবনে যুবাইর যখন অনুভব করলেন যে,তিনি মালেকের হাতে নিহত
হবেন তখন চিৎকার করে বলে উঠলেন,”হে লোকজন,আক্রমন করো, মালেককে হত্যা
করো,এমনকি যদি আমার হত্যার মাধ্যমেও শেষ হয়”। তিনি বলছিলেনঃ”হত্যা করো
আমাকে ও মালেককে এং মালেককে আমার মাধ্যমেই হত্যা করো”।মালেক তার মুখে একটি
আঘাত করে তাকে ছেড়ে দিলেন।
অবশেষে আয়েশার লোকজন উটের চারপাশ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল।শত্রুরা যাতে
আয়েশার উটটিকে দেখে আবার তার দিকে ফিরে না আসে সে লক্ষ্যে ইমাম(আঃ) উটটিকে
ধরাশয়ী করার জন্য আবার নির্দেশ দিলেন।ইমামের সৈন্যরা তখন উটটির উপর আক্রমন
চালালো।ফলে উটটি মাটিতে পড়ে গেল আর হাওদা উলটে গেল।এসময় আয়েশার চিৎকার শোনা
গেল-যা উভয় পক্ষের বাহিনীর কানে পৌছালো।মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর(রাঃ)এর
নির্র্দেশে তার বোনের হাওদার নিকটে গেলেন এবং হাওদার বাধনগুলো খুলে দিলেন।এ
ক্রান্তিলগ্নে দুই ভাই-বোনের মধ্যে যে বাক্য বিনিময় হয় তা নিম্নরুপঃ
আয়েশাঃতুমি কে?
মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকরঃতোমার পরিবারের মধ্যে থেকে তোমার চোখে ঘৃন্যতম ব্যক্তিটি।
আয়শাঃতুমি আছমা খাছ’আমিয়াহর পুত্র?
মুহাম্মাদঃকিন্তু,তিনি তোমার মায়ের চেয়ে কম ছিলেন না।
আয়েশাঃ এ কথা সঠিক।তিনি মর্যাদাবান নারীই ছিলেন।এসব কথা রাখো।আল্লাহর শুকরিয়া যে তুমি অক্ষত রয়েছো ।
মুহাম্মাদঃকিন্তু তুমি তো আমার অক্ষত থাকা কামনা করনি।
আয়েশাঃ যদি তা কামনা না করতাম তাহলে এরুপ কথা বলতাম না।
মুহাম্মাদঃতুমি তোমার বিজয়ের কামনায় ছিলে,যদিও তা আমার নিহত হওয়ার মুল্য দিয়েও তোমার জন্য অর্জিত হতো।
আয়েশাঃআমি তা কামনা করেছিলাম,তবে আমার ভাগ্যে তা জুটলো না।আমি চেয়েছিলাম
যে,তুমি নিরাপদে থাকো।এসব কথা বাদ দাও এবং ভর্ৎসনাকারী হয়ো না,যেমন তোমার
ছিলেন না।
আলী(আঃ) আয়শার হাওদার কাছে গেলেনং স্বীয় বশা দ্বারা হাওদায় আঘাত করলেন।আর
বললেন,”হে আয়শা!রাসুলাল্লাহ(সাঃ) কি আপনাকে এ কাজের আদেশ দিয়েছিলেন?
আয়েশা উত্তরে বললেন, “হে আবুল হাসান!তুমি যখন বিজয় লাভ করেছো,আমাকে ক্ষমা করো”।
কিছুদুর যেতে না যেতেই ‘আম্মার ইয়াসির ও মালেক আশতার আয়েশার হাওদার কাছে
পৌছলেন। আয়েশার সাথে তাদের কিছু বাক্য বিনিময় হয় যার সংক্ষিপ্ত বিবরন
নিম্নরুপঃ
মালেক আশতারঃআল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে তিনি ইমামকে সাহায্য করেছেন আর তাঁর
শত্রুকে লাঞ্ছিত করেছেন।সত্য উপস্থিত হয়েছে আর মিথ্যা বিদুরিত ছে।কারন
মিথ্যা অপসারিত হওয়ার জিনিস।মা আমার!আপনার কাজকে কেমন দেখলেন?
আয়েশাঃতুমি কে?তোমার শোকে পড়ুক।
মালেক আশতারঃআমি হলাম আপনার পুত্র মালেক আশতার।
আয়েশাঃমিথ্যা বলছো।আমি তোমার মা নই।
মালেক আশতারঃআপনি আমার মা,তা যতই অস্বীকার করুন না কেন।
আয়েশাঃতুমিই সেই লোক যে আমার বোন আসমাকে তার পুত্রের(আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর)জন্য শোকে ফেলতে চেয়েছিলে?
মালেক আশতারঃতা এজন্য ছিল যাতে(আল্লাহর নির্র্দেশ পালনের মাধ্যমে)আল্লাহর সামনে ক্ষমা লাভ করতে পারি।
আয়েশা স্বীয় বাহনের ওপর সওয়ার হতে হতে বললেন,”গৌ্রব সৃষ্টি করেছো,বিজয়ী হয়েছো।আল্লাহর তক্কদীর খন্ডানো যায় না।“
ইমাম(আঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকরকে বললেন,”তোমার বোনকে জিজ্ঞাসা করো,তার গায়ে কোন তীর বিধেছে কি না?”
এ প্রশ্ন করার কারন,আয়েশার হাওদার বহির্ভাগ অতিমাত্রায় তীরবর্ষনের কারনে
কাটাবনের মত হয়ে উঠেছিল।তিনি তার ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে বললেন,”শুধু ১টি
তীর আমার মাথায় এসে বিধেছে”।
মুহাম্মাদ তার বোনকে বললেন,”আল্লাহ বিচারের দিন তোমার বিচার
করবেন।কারন,তুমি হলে সেই ব্যক্তি যে স্বীয় ইমামের বিরুদ্বে বিদ্রোহ করেছো
এবং জনগনকে তাঁর বিরুদ্বে লেলিয়ে দিয়েছো।আর আল্লাহর কিতাবের অবমাননা
করেছ”।
আয়েশা উত্তরে বললেন,”আমাকে ছেড়ে দাও।আর আলীকে বলো আমাকে ক্ষতি ও অনিষ্টতা থেকে আমাকে রক্ষা করুক।“
মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর ইমাম(আঃ)কে তার বোনের নিরাপদ থাকার খবর
জানালেন।ইমাম(আঃ) বললেন,”সে হলো একজন নারী।আর নারীরা যুক্তির বিচারে
শক্তিশালী নয়।তার রক্ষার দায়িত্ব তুমি গ্রহন করো এবং তাকে আব্দুল্লাহ ইবনে
খালাফের ঘরে স্থানান্তরিত কর,যাতে তার ব্যাপারে স্বিদ্বান্ত গ্রহন করতে
পারি।“
আয়েশা ইমাম(আঃ) ও নিজের ভায়ের করুনা লাভ করলেন।কিন্তু তার জিহবা
নিরন্তর ইমামের(আঃ) দুর্নাম করা আর জঙ্গে জামালে নিহতদের ক্ষমা চাওয়ার দাবী
কলুষিত ও ছিল।(আল-জামাল,পৃঃ১৬৬-১৯৮,তারীখে ত্বাবারী,৩য় খন্ড,পৃঃ৫৩৯)।
…………….চলবে।

imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum