Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে জামালের যুধ্ব -২

Go down

জঙ্গে জামালের যুধ্ব -২  Empty জঙ্গে জামালের যুধ্ব -২

Post by imam1979 on 2011-09-06, 08:25

সৈ্ন্যদের মনোবল বৃ্দ্বিতে ইমামের পদক্ষেপ


ইমাম(আঃ) স্বীয় সৈ্ন্যদের মনোবল বাড়ানোর জন্য কখনো “ইয়া মাঞ্ছুরু আমেত” এং
কখনো কখনো “হা-মীম,লা ইউনছারুন”শ্লোগান ব্যবহার করতেন। এ উভয় শ্লোগানই
রাসুলাল্লাহ(সাঃ)এর উদ্ভাছিল।তিনি মুশরিকদের বিরুধ্বে যুধ্বে এই শ্লোগান
ব্যাবহার করতেন।এসব শ্লোগান ব্যবহারের ফলে শত্রুদের মনে অদ্ভুত ধরনের
প্রভাব সৃষ্টি হতো।কারন,এতে মুশরিকদের বিরুধ্বে মুসলমানদের যুধ্বের স্মৃতি
জাগরুক হতো।
এ কারনে আয়েশাও জামাল-বাহিনীর মনোবল বৃ্দ্বির জন্য শ্লোগান দিতঃ
“হে ধৈর্য্শীলদের সন্তানগন ধৈর্য্যধারন কর এবং আক্রমন চালিয়ে যাও।আমিই তোমাদের বেহেশ্তের জামিন”।
শ্লোগানের ফলে একদল তাঁর চারপাশ ঘিরে ধরলো এবং এতদুর পর্যন্ত অগ্রসর হলো যে,তারা ইমাম আলীর (আঃ)বাহিনীর কয়েক ধাপের মধ্যে পৌঁছে গেল।
আয়েশা স্বীয় সঙ্গীদের উত্তেজিত করার জন্য এক মুষ্টি মাটি চাইলেন।তাকে তা
দেয়া হলে তিনি সেগুলোকে ইমামের(আঃ) সৈ্ন্যদের দিকে ছুড়ে মারলেন এবং বললেন,
“কালো হোক তোমাদের মুখমন্ডল”।তিনি এক্ষেত্রে রাসুলাল্লাহকে(সাঃ) অনুসরন
করলেন।কারন রাসুলাল্লাহ (সাঃ) বদরের যুদ্বে এক মুষ্টি মাটি তুলে নেন এবং
শত্রুদের দিকে নিক্ষেপ করে এ বাক্যটিই উচ্চারন করেন।আর এসুত্রেই আল্লাহ
অবতীর্ন করেনঃ “আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন তখন তা আপনি নিক্ষেপ করেননি,বরং
আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন”(সুরা আনফালঃ১৭)।আয়েশার একাজ দেখে ইমাম আলী(আঃ)
তৎক্ষনাত বলে উঠলেনঃ”হে আয়েশা আপনি যখন নিক্ষেপ কখন তা আপনি নিক্ষেপ
করেননি,বরং শয়তানই তা নিক্ষেপ করেছিল”।

উট ধরাশয়ী হলো
আয়েশার উট ছিলো একটি অবলা পশু যাকে অশুভ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য
ব্যবহার করা হচ্ছিল।আর তার পিঠের উপর আয়েশার হাওদা স্থাপনের মাধ্যমে তার
উপর পবিত্রতার রঙ লাগান হয়েছিল।বছরী বাহিনী এ উটটিকে রক্ষা ও দন্ডায়মান
রাখার জন্য বহু চেষ্টা চালায়।এজন্য অনেকের হাত কাটা পড়ে।যখনই একটি হাত কাটা
পড়ছিল তখনই অন্য হাত এসে তার লাগাম ধরছিল।কিন্তু অবশেষে উটের লাগাম ধরে
রাখার মতো আর কেউ ছিলো না।।এসময়ে যুবাইরের পুত্র সেটাকে হাতে তুলে
নিলেন।কিন্তু মালেক আশতার তার উপর আক্রমন চালিয়ে তাকে ধরাশয়ী করলেন এবং তার
গলা চেপে ধরেন।ইবনে যুবাইর যখন অনুভব করলেন যে,তিনি মালেকের হাতে নিহত
হবেন তখন চিৎকার করে বলে উঠলেন,”হে লোকজন,আক্রমন করো, মালেককে হত্যা
করো,এমনকি যদি আমার হত্যার মাধ্যমেও শেষ হয়”। তিনি বলছিলেনঃ”হত্যা করো
আমাকে ও মালেককে এং মালেককে আমার মাধ্যমেই হত্যা করো”।মালেক তার মুখে একটি
আঘাত করে তাকে ছেড়ে দিলেন।
অবশেষে আয়েশার লোকজন উটের চারপাশ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল।শত্রুরা যাতে
আয়েশার উটটিকে দেখে আবার তার দিকে ফিরে না আসে সে লক্ষ্যে ইমাম(আঃ) উটটিকে
ধরাশয়ী করার জন্য আবার নির্দেশ দিলেন।ইমামের সৈন্যরা তখন উটটির উপর আক্রমন
চালালো।ফলে উটটি মাটিতে পড়ে গেল আর হাওদা উলটে গেল।এসময় আয়েশার চিৎকার শোনা
গেল-যা উভয় পক্ষের বাহিনীর কানে পৌছালো।মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর(রাঃ)এর
নির্র্দেশে তার বোনের হাওদার নিকটে গেলেন এবং হাওদার বাধনগুলো খুলে দিলেন।এ
ক্রান্তিলগ্নে দুই ভাই-বোনের মধ্যে যে বাক্য বিনিময় হয় তা নিম্নরুপঃ
আয়েশাঃতুমি কে?
মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকরঃতোমার পরিবারের মধ্যে থেকে তোমার চোখে ঘৃন্যতম ব্যক্তিটি।
আয়শাঃতুমি আছমা খাছ’আমিয়াহর পুত্র?
মুহাম্মাদঃকিন্তু,তিনি তোমার মায়ের চেয়ে কম ছিলেন না।
আয়েশাঃ এ কথা সঠিক।তিনি মর্যাদাবান নারীই ছিলেন।এসব কথা রাখো।আল্লাহর শুকরিয়া যে তুমি অক্ষত রয়েছো ।
মুহাম্মাদঃকিন্তু তুমি তো আমার অক্ষত থাকা কামনা করনি।
আয়েশাঃ যদি তা কামনা না করতাম তাহলে এরুপ কথা বলতাম না।
মুহাম্মাদঃতুমি তোমার বিজয়ের কামনায় ছিলে,যদিও তা আমার নিহত হওয়ার মুল্য দিয়েও তোমার জন্য অর্জিত হতো।
আয়েশাঃআমি তা কামনা করেছিলাম,তবে আমার ভাগ্যে তা জুটলো না।আমি চেয়েছিলাম
যে,তুমি নিরাপদে থাকো।এসব কথা বাদ দাও এবং ভর্ৎসনাকারী হয়ো না,যেমন তোমার
ছিলেন না।
আলী(আঃ) আয়শার হাওদার কাছে গেলেনং স্বীয় বশা দ্বারা হাওদায় আঘাত করলেন।আর
বললেন,”হে আয়শা!রাসুলাল্লাহ(সাঃ) কি আপনাকে এ কাজের আদেশ দিয়েছিলেন?
আয়েশা উত্তরে বললেন, “হে আবুল হাসান!তুমি যখন বিজয় লাভ করেছো,আমাকে ক্ষমা করো”।
কিছুদুর যেতে না যেতেই ‘আম্মার ইয়াসির ও মালেক আশতার আয়েশার হাওদার কাছে
পৌছলেন। আয়েশার সাথে তাদের কিছু বাক্য বিনিময় হয় যার সংক্ষিপ্ত বিবরন
নিম্নরুপঃ
মালেক আশতারঃআল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ যে তিনি ইমামকে সাহায্য করেছেন আর তাঁর
শত্রুকে লাঞ্ছিত করেছেন।সত্য উপস্থিত হয়েছে আর মিথ্যা বিদুরিত ছে।কারন
মিথ্যা অপসারিত হওয়ার জিনিস।মা আমার!আপনার কাজকে কেমন দেখলেন?
আয়েশাঃতুমি কে?তোমার শোকে পড়ুক।
মালেক আশতারঃআমি হলাম আপনার পুত্র মালেক আশতার।
আয়েশাঃমিথ্যা বলছো।আমি তোমার মা নই।
মালেক আশতারঃআপনি আমার মা,তা যতই অস্বীকার করুন না কেন।
আয়েশাঃতুমিই সেই লোক যে আমার বোন আসমাকে তার পুত্রের(আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর)জন্য শোকে ফেলতে চেয়েছিলে?
মালেক আশতারঃতা এজন্য ছিল যাতে(আল্লাহর নির্র্দেশ পালনের মাধ্যমে)আল্লাহর সামনে ক্ষমা লাভ করতে পারি।
আয়েশা স্বীয় বাহনের ওপর সওয়ার হতে হতে বললেন,”গৌ্রব সৃষ্টি করেছো,বিজয়ী হয়েছো।আল্লাহর তক্কদীর খন্ডানো যায় না।“
ইমাম(আঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকরকে বললেন,”তোমার বোনকে জিজ্ঞাসা করো,তার গায়ে কোন তীর বিধেছে কি না?”
এ প্রশ্ন করার কারন,আয়েশার হাওদার বহির্ভাগ অতিমাত্রায় তীরবর্ষনের কারনে
কাটাবনের মত হয়ে উঠেছিল।তিনি তার ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরে বললেন,”শুধু ১টি
তীর আমার মাথায় এসে বিধেছে”।
মুহাম্মাদ তার বোনকে বললেন,”আল্লাহ বিচারের দিন তোমার বিচার
করবেন।কারন,তুমি হলে সেই ব্যক্তি যে স্বীয় ইমামের বিরুদ্বে বিদ্রোহ করেছো
এবং জনগনকে তাঁর বিরুদ্বে লেলিয়ে দিয়েছো।আর আল্লাহর কিতাবের অবমাননা করেছ”।
আয়েশা উত্তরে বললেন,”আমাকে ছেড়ে দাও।আর আলীকে বলো আমাকে ক্ষতি ও অনিষ্টতা থেকে আমাকে রক্ষা করুক।“
মুহাম্মাদ ইবনে আবুবকর ইমাম(আঃ)কে তার বোনের নিরাপদ থাকার খবর
জানালেন।ইমাম(আঃ) বললেন,”সে হলো একজন নারী।আর নারীরা যুক্তির বিচারে
শক্তিশালী নয়।তার রক্ষার দায়িত্ব তুমি গ্রহন করো এবং তাকে আব্দুল্লাহ ইবনে
খালাফের ঘরে স্থানান্তরিত কর,যাতে তার ব্যাপারে স্বিদ্বান্ত গ্রহন করতে
পারি।“
আয়েশা ইমাম(আঃ) ও নিজের ভায়ের করুনা লাভ করলেন।কিন্তু তার জিহবা নিরন্তর
ইমামের(আঃ) দুর্নাম করা আর জঙ্গে জামালে নিহতদের ক্ষমা চাওয়ার দাবী কলুষিত ও
ছিল।(আল-জামাল,পৃঃ১৬৬-১৯৮,তারীখে ত্বাবারী,৩য় খন্ড,পৃঃ৫৩৯)।

....................
..................

তালহা-জঙ্গে জামালের যুদ্বের অগ্নি প্রজ্বলনকারী ১ম ব্যাক্তি

ইতিহাসবিদগন এব্যাপারে একমত যে,মারোয়ান ইবনে হাকাম তালহাকে খুন
করেন।বিস্তারিত তথ্যে জানা যায় যে,তালহা যখন স্বীয় বাহিনীকে পলায়নরত আর
নিজেকে মরনের দরজায় দেখতে পেলেন,তখন পলায়নের পথ বেছে নিলেন।এসময় মারোয়ানের
চোখ তার উপর পড়লো এবং তার মনে পড়লো যে ,তিনি ৩য় খলিফা ওসমান হত্যার মুল
হোতাদের মধ্যে ১জন ছিলেন।একারনে ১টি তীর নিক্ষেপের মাধ্যমে মারোয়ান তালহাকে
খুন করেন।।...........
.......।
তালহার কাটা রগ থেকে যখন রক্ত বের হচ্ছিল তখন তিনি নিজেই বলছিলেন,"আমার মতো
কোন নেতার রক্তই এভাবে বৃথা যায়নি"।একথা বলার সঙ্গেই তার প্রানবায়ূ বের
হয়ে গেল।

যুবাইর-জঙ্গে জামালের যুদ্বের অগ্নি প্রজ্বলনকারী ২য় ব্যাক্তি

জঙ্গে জামালের যুস্বে যুবাইর যখন অনুভব করলেন,তখন মদীনায় পালিয়ে যাবার
সিদ্বান্ত গ্রহন করলেন।তা-ও আবার আহনাফ ইবনে কায়েসের গোত্রের মাঝ দিয়ে-যারা
ইমাম আলী(আঃ)এর অনুকুলে যুদ্বে অংশগ্রহন করা থেকে বিরত ছিলেন ।উক্ত
গোত্রের প্রধান যুবাইরের কাপুরুষোচিত কাজের জন্য ভীষন রাগান্বিত হলেন।কারন
মানবিক মৌিলি. নীতির বিরুদ্বে গিয়ে তিনি নিজের স্বারথের পথে বলি দিয়ে এখন
নিজেই রনক্ষেত্র থেকে পলায়ন করতে চাইছিলেন।
'আমর ইবনে জারমুয নামক আহনাফের জনৈক সহচর যুবাইরের নিকট থেকে এত রক্তপাত
ঘোতানোর প্রতিশোধ গ্রহনের সিদ্বান্ত নিলো।মাঝপথে যুবাইর যখন নামাজে
দাড়ালেন,তখন সে পিছন থেকে তার উপর আক্রমন করলো এবং তাকে হত্যা করলো।আর তার
ঘোড়া,আংটি ও হাতিয়ার জব্দ করলো।আর তার সাথে থাকা যুবকটিকে ছেড়ে দিল।যুবকটি
যুবাইরকে ওয়াদিউস সাব্বা' নামক স্থানে সমাধিস্থ করলো(
সুত্রঃআল-জামাল,পৃঃ২০৪;তারিখে ইবনে কাছির,৩য় খন্ড,পৃঃ ২৪৩-২৪৪)।
'আমর ইবনে জারমুয আহনাফের কাছে ফিরে এলো এবং তাকে যুবাইরের পরিনতি
সম্পরকে অবহিত করলো।তিনি বললেন,"জানি না তুমি পুন্যের কাজ করেছ নাকি মন্দ
কাজ করেছ"।
অতঃপর উভয়েই ইমাম আলী(আঃ)এর কাছে উপস্থিত হলেন।ইমামের চোখ যুবাইরের
তলোয়ারের উপর পড়লে তিনি বললেনঃ"এ তলোয়ার রাসুলের(সাঃ) চেহারা থেকে একাধিক
বার কষ্টের ধুলি মুছে দিয়েছে"।অতপর সেটিকে তিনি হযরত আয়েশার কাছে পাঠিয়ে
দিলেন(তারিখে ত্বাবারী,৩য় খন্ড,পৃঃ৫৪০;শরহে নাহজুল বালাগ্বাহঃইবনে আবিল
হাদিদ,১ম খন্ড,পৃঃ২৩৫)।
ইমাম আলী(আঃ) যুবাইরের উদ্দেশ্যে বলেনঃ"আপনি দীরঘদিন রাসুলের(সাঃ) সাহাবী
ছিলেন।আর তাঁর সাথে আত্নীয়তার সম্পরকযুক্ত ছিলেন।কিন্তু শয়তান আপনার মাথার
ওপর কতৃ্ত্ব প্রতিষ্টা করে।ফলে আজ আপনার এই পরিনতি"(আল-জামাল,পৃঃ২০৯)।
..............
.............
বছরার পতন ও হযরত আয়েশাকে মদীনায় প্রেরন

যে সব বানিজ্যিক কাফেলা ইরাক,হেজায ও শামের মধ্যে চলাচল করছিল তাদের দ্বারা
ইমাম(আঃ)এর সেনাবাহিনী ও বছরার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী দলের মধ্যে সামরিক
সঙ্গঘষের সমুহ সম্ভাবনার কথা গোটা ইসলামী রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।তাই
মুসলল্মানরা সংবাদ জানার জন্য অপেক্ষায় ছিল।দুপক্ষের প্রত্যেকের জন্যই জয়
বা পরাজয়ের সংবাদ ভাগ্য নি্রধারনী গুরুত্ব বহন করেছিল।এ কারনে,ইমাম(আঃ)
নিহতদের দাফন করার নিদেশ প্রদান করার পর এবং রনাঙ্গনে পায়চারী করা ও কিছু
সংখ্যক যুদ্ববন্দীকে স্থানান্তরের নিদেশ প্রদান করার পর স্বীয় তাবুতে ফিরে
এলেন।তিনি স্বীয় সচিব আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাফেকে ডাকলেন।তিনি কিছু বক্তব্য
মুখে উচচারন করলেন আর সচিব তা লিখে ফেলেন।
এসব পত্র মদীনা ও কুফাবাসীদের সম্বোধন করে লেখা হয়।সে যুগে এদুটি অঞ্ছল
ছিল মুসলিম জাহানের সবচেয়ে স্পরশ কাতর এলাকা।তন্মধ্যে একটি পত্র স্বীয় বোন
উম্মে হানীকে বিন্তে আবি তালিবের কাছে লিখলেন।ইমাম(আঃ) এসব পত্র লেখার
মাধ্যমে স্বীয় বন্দ্বুদেরকে আনন্দিত করলেন এবং সুযোগ সন্দ্বানীদেরকে
বিরোধীতা করার চিন্তা থেকে নিরাশ করলেন।শেখ মুফিদ এসব পত্রের কথা স্বীয়
গ্রন্থ "আল-জামাল"এ(আল-জামাল,পৃঃ ২১১,২১৩) সংকলিত করেছেন।কিন্তু ত্বাবারী
এসব পত্রের ভিতর থেকে শুধু কুফার জনগনকে উদ্দেশ্যে লেখা ইমামের(আঃ) পত্রের
খুবই ছোট একটি অংশকে নিজের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।আর যেহেতু তিনি স্বীয়
গ্রন্থের এ অংশটুকুতে সাইফ ইবনে ওমরের লেখার ওপর নিভর করেছেন,একারনে
অধিকাংশ সত্যকে তিনি যথা্থভাবে তুলে ধরতে পারেননি।তিনি স্পরশকাতর বিষয়াদিও
সহজেই পাশ কাটিয়ে গেছেন।
ইমাম(আঃ) কুফার জনগনের উদ্দেশ্যে যে পত্র প্রেরন করেন(ত্বাবারীর বননা
অনুযায়ী) তাতে সামরিক সঙ্গঘষের তারিখ ৩৬ হিজরীর ১৫ই জামদিউস সানী আর
যুদ্বের অকুস্থল হিসাবে খারীবাহ নামক একটি জায়গার কথা উল্লেখ করেছেন।
অবশেষে ইমাম(আঃ) সোমবার খারীবাহ ত্যাগ করে বছরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা
হন।তিনিবছরার মসজিদে পৌছে সেখানে ২ রাকাত সালাত আদায় করলেন।অতপর তিনি
সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনেখালাফ খুযাঈর এর বাসায় উপস্থিত হলেন।বছরার সবচেয়ে বড়
ঘর ছিল এটি এবং হযরত আয়েশাকে এখানেই রাখা হয়েছিল।আব্দুল্লাহ হযরত ওমরের
খেলাফতকালে বছরার দেওয়ানী লেখক ছিলেন।আর ইতিপুবে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে,সে
এবং তার ভাই ওসমান জঙ্গে জামালে প্রান হারায়।কেউ কেউ বলেন,সে
রাসুল্লাহাওর(সাঃ) জীবিতকালেও ছিল এবং তাঁকে দেখেছিলেন(উসুদুল গাবাহ,২য়
খন্ড,পৃঃ১৫২),যদিও এবক্তব্য প্রমানিত সত্য নয়।
আলী(আঃ) যখন আব্দুল্লাহর ঘরে প্রবেশ করলেন,তখন তার স্ত্রী ছাফিয়াহ
বিনতে হারেছ বিন ত্বালহাহ ইবনে আবি ত্বালহাহ কান্নাকাটিতে ব্যাস্ত
ছিল।আব্দুল্লাহর স্ত্রী ইমামকে(আঃ) অসম্মান করলো এং তাঁকে 'প্রিয়জনদের
হত্যাকারী' এবং 'সমষ্টিকে বিভক্তকারী' বলে আখ্যায়িত করে।কিন্তু ইমাম তাকে
কোন উত্তর দিলেন না।অতপর তিনি হযরত আয়েশার কক্ষে প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে
সালাম দিলেন ও তার পাশে বসলেন।আর ছাফিয়ার অবমাননার কথা তুলে ধরলেন।এমনকি ঘর
থেকে ইমামের বের হবার সময়ও ছাফিয়্যাহ তার অবমাননাকর কথা চালিয়ে
যাচ্ছিল।এসময় ইমামের(আঃ) সঙ্গী-সাথীরা ধৈয হারিয়ে ফেলে এবং ছাফিয়াকে হুমকি
প্রদান করে।ইমাম তাদেরকে যেকোন ধরনের আক্রমন করা থেকে বিরিত থাকেন।তিনি
বলেন,আমার কাছে যেন কখনো কোন নারীর প্রতি আক্রমনের খবর না আসে।
..............চলবে।
















imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum