Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে জামালের যুধ্ব -৩

Go down

জঙ্গে জামালের যুধ্ব -৩ Empty জঙ্গে জামালের যুধ্ব -৩

Post by imam1979 on 2011-09-09, 08:31

..................
তালহা-জঙ্গে জামালের যুদ্বের অগ্নি প্রজ্বলনকারী ১ম ব্যাক্তি
ইতিহাসবিদগন
এব্যাপারে একমত যে,মারোয়ান ইবনে হাকাম তালহাকে খুন করেন।বিস্তারিত তথ্যে
জানা যায় যে,তালহা যখন স্বীয় বাহিনীকে পলায়নরত আর নিজেকে মরনের দরজায় দেখতে
পেলেন,তখন পলায়নের পথ বেছে নিলেন।এসময় মারোয়ানের চোখ তার উপর পড়লো এবং তার
মনে পড়লো যে ,তিনি ৩য় খলিফা ওসমান হত্যার মুল হোতাদের মধ্যে ১জন
ছিলেন।একারনে ১টি তীর নিক্ষেপের মাধ্যমে মারোয়ান তালহাকে খুন
করেন।।...........
.......।
তালহার কাটা রগ থেকে যখন রক্ত বের হচ্ছিল
তখন তিনি নিজেই বলছিলেন,"আমার মতো কোন নেতার রক্তই এভাবে বৃথা যায়নি"।একথা
বলার সঙ্গেই তার প্রানবায়ূ বের হয়ে গেল।
যুবাইর-জঙ্গে জামালের যুদ্বের অগ্নি প্রজ্বলনকারী ২য় ব্যাক্তি
জঙ্গে
জামালের যুস্বে যুবাইর যখন অনুভব করলেন,তখন মদীনায় পালিয়ে যাবার সিদ্বান্ত
গ্রহন করলেন।তা-ও আবার আহনাফ ইবনে কায়েসের গোত্রের মাঝ দিয়ে-যারা ইমাম
আলী(আঃ)এর অনুকুলে যুদ্বে অংশগ্রহন করা থেকে বিরত ছিলেন ।উক্ত গোত্রের
প্রধান যুবাইরের কাপুরুষোচিত কাজের জন্য ভীষন রাগান্বিত হলেন।কারন মানবিক
মৌিলি. নীতির বিরুদ্বে গিয়ে তিনি নিজের স্বারথের পথে বলি দিয়ে এখন নিজেই
রনক্ষেত্র থেকে পলায়ন করতে চাইছিলেন।
'আমর ইবনে জারমুয নামক আহনাফের
জনৈক সহচর যুবাইরের নিকট থেকে এত রক্তপাত ঘোতানোর প্রতিশোধ গ্রহনের
সিদ্বান্ত নিলো।মাঝপথে যুবাইর যখন নামাজে দাড়ালেন,তখন সে পিছন থেকে তার উপর
আক্রমন করলো এবং তাকে হত্যা করলো।আর তার ঘোড়া,আংটি ও হাতিয়ার জব্দ করলো।আর
তার সাথে থাকা যুবকটিকে ছেড়ে দিল।যুবকটি যুবাইরকে ওয়াদিউস সাব্বা' নামক
স্থানে সমাধিস্থ করলো( সুত্রঃআল-জামাল,পৃঃ২০৪;তারিখে ইবনে কাছির,৩য়
খন্ড,পৃঃ ২৪৩-২৪৪)।
'আমর ইবনে জারমুয আহনাফের কাছে ফিরে এলো এবং তাকে
যুবাইরের পরিনতি সম্পরকে অবহিত করলো।তিনি বললেন,"জানি না তুমি পুন্যের কাজ
করেছ নাকি মন্দ কাজ করেছ"।
অতঃপর উভয়েই ইমাম আলী(আঃ)এর কাছে উপস্থিত
হলেন।ইমামের চোখ যুবাইরের তলোয়ারের উপর পড়লে তিনি বললেনঃ"এ তলোয়ার
রাসুলের(সাঃ) চেহারা থেকে একাধিক বার কষ্টের ধুলি মুছে দিয়েছে"।অতপর সেটিকে
তিনি হযরত আয়েশার কাছে পাঠিয়ে দিলেন(তারিখে ত্বাবারী,৩য় খন্ড,পৃঃ৫৪০;শরহে
নাহজুল বালাগ্বাহঃইবনে আবিল হাদিদ,১ম খন্ড,পৃঃ২৩৫)।
ইমাম আলী(আঃ)
যুবাইরের উদ্দেশ্যে বলেনঃ"আপনি দীরঘদিন রাসুলের(সাঃ) সাহাবী ছিলেন।আর তাঁর
সাথে আত্নীয়তার সম্পরকযুক্ত ছিলেন।কিন্তু শয়তান আপনার মাথার ওপর কতৃ্ত্ব
প্রতিষ্টা করে।ফলে আজ আপনার এই পরিনতি"(আল-জামাল,পৃঃ২০৯)।
..............
.............
বছরার পতন ও হযরত আয়েশাকে মদীনায় প্রেরন
যে
সব বানিজ্যিক কাফেলা ইরাক,হেজায ও শামের মধ্যে চলাচল করছিল তাদের দ্বারা
ইমাম(আঃ)এর সেনাবাহিনী ও বছরার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী দলের মধ্যে সামরিক
সঙ্গঘষের সমুহ সম্ভাবনার কথা গোটা ইসলামী রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল।তাই
মুসলল্মানরা সংবাদ জানার জন্য অপেক্ষায় ছিল।দুপক্ষের প্রত্যেকের জন্যই জয়
বা পরাজয়ের সংবাদ ভাগ্য নি্রধারনী গুরুত্ব বহন করেছিল।এ কারনে,ইমাম(আঃ)
নিহতদের দাফন করার নিদেশ প্রদান করার পর এবং রনাঙ্গনে পায়চারী করা ও কিছু
সংখ্যক যুদ্ববন্দীকে স্থানান্তরের নিদেশ প্রদান করার পর স্বীয় তাবুতে ফিরে
এলেন।তিনি স্বীয় সচিব আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাফেকে ডাকলেন।তিনি কিছু বক্তব্য
মুখে উচচারন করলেন আর সচিব তা লিখে ফেলেন।
এসব পত্র মদীনা ও
কুফাবাসীদের সম্বোধন করে লেখা হয়।সে যুগে এদুটি অঞ্ছল ছিল মুসলিম জাহানের
সবচেয়ে স্পরশ কাতর এলাকা।তন্মধ্যে একটি পত্র স্বীয় বোন উম্মে হানীকে বিন্তে
আবি তালিবের কাছে লিখলেন।ইমাম(আঃ) এসব পত্র লেখার মাধ্যমে স্বীয়
বন্দ্বুদেরকে আনন্দিত করলেন এবং সুযোগ সন্দ্বানীদেরকে বিরোধীতা করার চিন্তা
থেকে নিরাশ করলেন।শেখ মুফিদ এসব পত্রের কথা স্বীয় গ্রন্থ
"আল-জামাল"এ(আল-জামাল,পৃঃ ২১১,২১৩) সংকলিত করেছেন।কিন্তু ত্বাবারী এসব
পত্রের ভিতর থেকে শুধু কুফার জনগনকে উদ্দেশ্যে লেখা ইমামের(আঃ) পত্রের খুবই
ছোট একটি অংশকে নিজের গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।আর যেহেতু তিনি স্বীয়
গ্রন্থের এ অংশটুকুতে সাইফ ইবনে ওমরের লেখার ওপর নিভর করেছেন,একারনে
অধিকাংশ সত্যকে তিনি যথা্থভাবে তুলে ধরতে পারেননি।তিনি স্পরশকাতর বিষয়াদিও
সহজেই পাশ কাটিয়ে গেছেন।
ইমাম(আঃ) কুফার জনগনের উদ্দেশ্যে যে পত্র
প্রেরন করেন(ত্বাবারীর বননা অনুযায়ী) তাতে সামরিক সঙ্গঘষের তারিখ ৩৬ হিজরীর
১৫ই জামদিউস সানী আর যুদ্বের অকুস্থল হিসাবে খারীবাহ নামক একটি জায়গার কথা
উল্লেখ করেছেন।
অবশেষে ইমাম(আঃ) সোমবার খারীবাহ ত্যাগ করে বছরার
উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।তিনিবছরার মসজিদে পৌছে সেখানে ২ রাকাত সালাত আদায়
করলেন।অতপর তিনি সরাসরি আব্দুল্লাহ ইবনেখালাফ খুযাঈর এর বাসায় উপস্থিত
হলেন।বছরার সবচেয়ে বড় ঘর ছিল এটি এবং হযরত আয়েশাকে এখানেই রাখা
হয়েছিল।আব্দুল্লাহ হযরত ওমরের খেলাফতকালে বছরার দেওয়ানী লেখক ছিলেন।আর
ইতিপুবে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে,সে এবং তার ভাই ওসমান জঙ্গে জামালে প্রান
হারায়।কেউ কেউ বলেন,সে রাসুল্লাহাওর(সাঃ) জীবিতকালেও ছিল এবং তাঁকে
দেখেছিলেন(উসুদুল গাবাহ,২য় খন্ড,পৃঃ১৫২),যদিও এবক্তব্য প্রমানিত সত্য নয়।
আলী(আঃ)
যখন আব্দুল্লাহর ঘরে প্রবেশ করলেন,তখন তার স্ত্রী ছাফিয়াহ বিনতে হারেছ বিন
ত্বালহাহ ইবনে আবি ত্বালহাহ কান্নাকাটিতে ব্যাস্ত ছিল।আব্দুল্লাহর স্ত্রী
ইমামকে(আঃ) অসম্মান করলো এং তাঁকে 'প্রিয়জনদের হত্যাকারী' এবং 'সমষ্টিকে
বিভক্তকারী' বলে আখ্যায়িত করে।কিন্তু ইমাম তাকে কোন উত্তর দিলেন না।অতপর
তিনি হযরত আয়েশার কক্ষে প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন ও তার পাশে
বসলেন।আর ছাফিয়ার অবমাননার কথা তুলে ধরলেন।এমনকি ঘর থেকে ইমামের বের হবার
সময়ও ছাফিয়্যাহ তার অবমাননাকর কথা চালিয়ে যাচ্ছিল।এসময় ইমামের(আঃ)
সঙ্গী-সাথীরা ধৈয হারিয়ে ফেলে এবং ছাফিয়াকে হুমকি প্রদান করে।ইমাম তাদেরকে
যেকোন ধরনের আক্রমন করা থেকে বিরিত থাকেন।তিনি বলেন,আমার কাছে যেন কখনো কোন
নারীর প্রতি আক্রমনের খবর না আসে।
..............চলবে।

imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum