Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে সিফফিন-২

Go down

জঙ্গে সিফফিন-২ Empty জঙ্গে সিফফিন-২

Post by imam1979 on 2011-09-11, 07:15

অতপর তিনি ইমামের(আঃ) পত্রটি মুয়াবিয়ার হাতে দিলেন।এ পত্রে বলা হয়ঃ
"মদীনায়( আমার সাথে মুহাজির ও আনছারদের)বাইয়াত শামে তোমার প্রতি হুজ্জাতকে
পুর্ন করে দিয়েছে এবং তোমাকে আনুগত্যে বাধ্য করেছে।যারা আবুবকর,ওমর ও
ওসমানের অনুকুলে বায়াত হয়েছিল তারা সেভাবেই আমার অনুকুলেও বায়াত হয়েছে।এ
বায়াতের পর যারা উপস্থিত রয়েছে তারা যেমন এর বিরোধীতা করার ক্ষমতা রাখে
না,তদ্রুপ তোমার মতো যারা অনুপস্থিত রয়েছে তারাও তা প্রত্যাখ্যান করার
অনুমতি রাখে না।

"(তোমাদের মত অনুযায়ী) পরামর্শ সভা (শুরা) করার অধিকার হলো মুহাজির ও
আনছারদের।তারা যদি কারো নেতৃ্ত্বের ব্যাপারে একমত হয় ও তাঁকে ইমাম হিসাবে
অভিহিত করে তাহলে এটা হবে আল্লাহর সন্তষ্টির কাজ।আর কেউ যদি প্রতিবাদরুপে
বা ফাটল সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাদের নির্দেশের বাইরে চলে যায় তাহলে তারা তাকে
স্ব-স্থানে বসিয়ে দেয়।আর যদি অবাধ্য হয় তাহলে মু'মিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথে
চলার দায়ে তার বিরুদ্বে যুদ্ব করে।আল্লাহ তাকে বিপথে ছেড়ে দেন এং কিয়ামতে
তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।কি শোচনীয় সে পরিনাম"(এখানে নীচের আয়াতের
প্রতি ঈঙ্গিত করা হয়েছেঃ"আর যে কেউ তার কাছে সরলপথ প্রকাশিত হবার পর
রাসুলের(সাঃ) বিরুদ্বাচরন করে এবং মু'মিনদের অনুসৃ্ত পথ ছাড়া পথে চলে আমি
তাকে সেদিকেই ফিরাবো যে দিক সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ
করবো।আর তা খুবই নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল"-সুরা আন-নিসাঃ১১৫)।


"তালহা ও যুবাইর আমার কাছে বায়াত হয়,তারপর স্বীয় বায়াত ভঙ্গ করে।বায়াত ভঙ্গ
করা বায়াত প্রত্যখ্যান করা্র নামান্তর অথাত তুমি যে কাজটি করেছ হে
মুয়াবিয়া)।তারপর সত্য সমাগত হলো এবং আল্লাহর নি্রদেশ বিজয়ী হলো।আমার কাছে
তোমার ব্যাপারে সবোত্তম হলো তোমার সুস্থতা ও নিরাপত্তা।কন্তু তুমি যদি
নেজেকে বিপদে ফেলে দাও তাহলে তোমার সাথে যুদ্ব করবো এবং আল্লাহর কাছে একাজে
সাহায্য কামনা করবো।
" ওসমানের হত্যাকারীদের ব্যাপারে তুমি অনেক কথা বলেছ।অন্য সব মুসলমান যে
কাজ করেছে তুমিও তা-ই কর।তারপর ঘটনাটি আমার কাছে উল্লেখ করো।আমি সকলকে
আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী চলতে বাধ্য করবো।(এই যে তুমি দাবী করছো যে,আমি আগে
ওসমানের হত্যাকারীদেরকে তোমার হাতে তুলে দেবো তা হলে তুমি বায়াত হবে) এ
দাবী শিশুকে দুধের কথা বলে ধোঁকা দেবার মতো।আমার প্রানের কসম,তুমি যদি
তোমার বিবেককে জিজ্ঞেস করো,তোমার প্রবৃত্তির কামনার কাছে নয়,তাহলে ওসমান
হত্যার ব্যাপারে আমাকে সবচেয়ে পবিত্রতম ব্যাক্তি হিসাবে দেখটে পাবে।জেনে
রাখো যে তুমি হলে "তুলক্কা অর্থাত ইসলামে বন্দী হবার পর মুক্তিপ্রাপ্তদের
অন্তর্ভুক্ত। আর এই দলটির জন্য খেলাফত হালাল নয়।এরা সুরার সদস্য হবার
অধিকার রাখে না।আমি তোমার প্রতি এবং তোমার পক্ষ থেকে যারা কর্মরত তাদের
সকলের প্রতি জারীর ইবনে আব্দুল্লাহকে পাঠালাম যে নিজে একজন ঈমানদার ও
হিজরতকারী লোক,যাতে তাঁর হাতে বায়াত হও এবং স্বীয় বিসস্ততাকে ঘোষনা
করো"(ওয়াক্ক-এ সিফফিন,পৃঃ২৯,৩০,আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ,১ম
খন্ড,পৃঃ৮৪-৮৫;ইকদুল ফরিদ,৪থখন্ড,পৃঃ৩২২,তারিখে ত্বাবারী,৩য়খন্ড,৫ম
অধ্যায়,পৃঃ২৩৫,লীডিনে মুদ্রিত)।


শামে ইমাম আলীর(আঃ) প্রতিনিধি
……………
ইমাম(আঃ) মু’য়াবিয়ার বরখাস্তের ফরমান পৌঁছানোর জন্য এমন ১জন ব্যক্তিকে বেছে
নিলেন যিনি রাজনৈ্তিক প্রশাসনিক ব্যাপারে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী ছিলেন
এবং মুয়াবিয়াকে ভালমত চিনতেন।তিনি নিজেও ১জন সুদক্ষ ও বাগ্নী বক্তা
ছিলেন।তিনি ইমামের(আঃ) পত্রখানি একটি আনুষ্টানিক সভার মধ্যে মু’য়াবিয়াকে
প্রদান করেন।মু’য়াবিয়া যখন পত্র পড়া শেষ করলেন,তখন জারীর আলীর(আঃ)
প্রতিনিধি হিসাবে স্বীয় স্থান থেকে উঠে দাড়ালেন এবং অত্যধিক মনোগ্রাহী ও
সুমিষ্ট ১টি ভাষন প্রদান করলেন।উক্ত ভাষনে তিনি প্রথমে মহান আল্লাহর
প্রশংসা জ্ঞাপন ও রাসুলের(সাঃ) প্রতি দরুদ প্রেরনের পর বললেনঃ
“ওসমানের বিষয়টা (রাসুলের সাঃ সাহাবীদের হাতে তার নিহত হওয়া)মদীনার
উপস্থিতদেরকেই অক্ষম ও অপারগ করে তুলেছিল,যারা ঘটনাস্থল থেকে দূরে ছিল
তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম।জনগন আলীর(আঃ) হাতে বায়াত হলো।তালহা ও যুবাইরও ঐ
বায়াতকারীদের অন্তুরভুক্ত ছিলেন।কিন্তু পরবর্তীতে কোন কারন ছাড়াই তারা
বায়াত ভংগ করেন।ইসলাম ধর্ম ফিতনাকে বরদাশ্ত করে না।আর আরবের জনগনও তলোয়ারকে
সহ্য করে না।গতকাল বছরায় ১টি দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।তার যদি পুনরাবৃতি
ঘটে আর কেউ বেচে থাকবে না।জেনে রাখুন যে ‘আম জনতা আলীর(আঃ) অনুকুলে বায়াত
হয়েছে।আল্লাহ যদি আমাদের হাতে দায়িত্ব অর্পন করতেন তাহলেও আমরা তাঁকে ছাড়া
আর কাউকে নির্বাচিত করতাম না।যে ব্যক্তি সাধারনের নির্বাচনের সাথে বিরোধিতা
করে সে মনঃপীড়ার শীকার হয়(সেও জনগনের নির্বাচিত নেতাকে গ্রহন করে)।আপনিও
হে মু’য়াবিয়া,জনগন যে পথে প্রবেশ করছে সে পথেই প্রবেশ করুন আর আলীকে(আঃ)
মুসলমানের নেতা বলে গ্রহন করুন।আপনি যদি বলেন যে,ওসমান আপনাকে এপদে নিযুক্ত
করেছেন এবং কখনো অপসারন করেননি,তাহলে এটা হলো এমন ১টি কথা যদি তা মান্য
করা হয় তাহলে আল্লাহর জন্য আর কোন ধর্মই অবশিষ্ট থাকে না।আর প্রত্যেকেই যা
কিছু তার হাতে রয়েছে সেটাকেই মযবুত করে আগলে রাখবে”।(আল-ইমামাহ ওয়াস
সীয়াসাহ,১ম খন্ড,পৃঃ৮৫,;ওয়াক্ক-এ সিফিফিন,পৃঃ৩০,৩১;নাহজুল বালাগা,ইবনে
হাদিল,৩য় খন্ড,পৃঃ৭৬-৭৭)।
ইমামের প্রতিধির ভাষন যখন শেষ হলো তখন মু’য়াবিয়া বললেন,”কিছুটা ধৈর্য ধারন
করুন।আমি শামের জনগনের মতামত যাচাই করে নিই।তারপর ফলাফল ঘোষনা করবো”(নাহজুল
বালাগা,ইবনে হাদিল,৩য় খন্ড,পৃঃ৭৭)।

ইমামের(আঃ) উদ্দেশ্য ইমামের অপসারনঃ

ইমাম(আঃ) তাঁর হুকুমাতের ১ম দিন থেকেই কখনো কারো কাছ থেকে বায়াত গ্রহনের
ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করেন্নি।তাহলে কেন তিনি মু'য়াবিয়ার বায়াতের ওপর এতখানি
গুরুত্ব আরোপ করলেন?এর কারন হলো, তিনি তাকে বায়াত গ্রহনের মাধ্যমে অপসারন
করতে এবং জনগনের ধন-সম্পদ ও অধিকারসমুহের ওপর থেকে তাকে হাত গুটিয়ে নিতে
বাধ্য করতে চেয়েছিলেন।কেননা,যারা আলীকে(আঃ) মুসলমানদের ইমাম হিসাবে মেনে
নিয়ে তাঁর হাতে বায়াত হয়েছিলেন তারা শর্ত আরোপ করেছিলেন যে,তিনি মুসলমানদের
অবসথানকে রাসুলের(সাঃ) যুগের অবসথায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন,আর তাদের কল্যান
রক্ষার্থে এবং ইসলামের লক্ষ্যসমুহকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কুন্ঠিত হবেন
না।মু'য়াবিয়ার মত ব্যক্তিদের অস্তিত্ব এ পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলো।মুলত
হযরত ওসমানের বিরুদ্বে বিপ্লব এ উদ্দেস্যেই সংঘটিত হয় যাতে আগের সকল
কর্মকর্তা ও গভর্নররা পদচ্যুত হয়,আর সম্পদ্গ গচ্ছিতকারী ও দুনিয়া-পুজারীরা
অসহায় জনগনধিকারের ওপর থেকে হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

মুয়াবিয়া কর্তৃক শামের জনগনের সামনে বিষয়টি উথথাপন
একদিন মুয়াবিয়ার দরবারের ঘোষক শামের একদল লোককে মসজিদে সমবেত
করলো।মুয়াবিয়া মিম্বরে উঠে বসলেন।মহান আল্লাহর প্রশঙ্গসা করার পর শামকে
তিনি আল্লাহ তাঁর নবী-রাসুলগনের দেশ হিসাবে নির্ধারিত করে দিয়েছেন বলে
উল্লখ করলেন।এরপর তিনি সর্বদা আল্লাহকে এং তাঁর নির্দেশাবলী তথা দ্বীন ও
শরীয়তকে প্রতিষ্টা ও বাস্তবায়নের আনুগত্য ও সহযোগীতাকারী দেশ হিসাবে শামের
জনগনের প্রশংসা করলেন।তারপর তিনি জনগনের উদ্দেশ্যে বলেনঃ
"তোমরা জানো যে,আমি আমিরুল মু'মিনিন ওমর ইবনুল খত্তাব ও ওসমান ইবনে
আফফানের প্রতিনিধি।আমি এমন কারো সাথে কোন আচরন করিনি যে, সে জন্য লজ্জিত
হতে হবো।আমি হলাম ওসমানের ওয়ালী(উত্তরসুরী) যিনি মজলুম ভাবে নিহত হয়েছেন।আর
আল্লাহ বলেন, " যে ব্যক্তি মজলুম্ভাবে নিহত হয় আমরা তার ওয়ালীর হাতে
ক্ষমতা দান করি।কিন্তু হত্যার কাজে বাড়াবাড়ি করো না।কেননা,নিহত ব্যক্তি
আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছে"(সুরা বনী ইসরাইল-৩৩)।
অতপর তিনি বলেন, "আমি ওসমান হত্যার ব্যাপারে তোমাদের মতামর জানতে চাই"।
এসময় মসজিদে উপস্থিত লোকেরা উঠে দাঁড়িয়ে বললো, "আমরা ওসমান হত্যার প্রতিশোধ
চাই"।অতপর তারা একাজের জন্য মুয়াবিয়ার হাতে বায়াত হলো এবং এ পথে তাদের
জানমাল উৎসর্গ করবে বলে ঘোষনা দিল( নাহজুল বালাগা,৩য়
খন্ড,পৃঃ৭৭-৭৮,ওয়াক্ক-এ সিফিফিন,পৃঃ ৩১-৩২।)।
.......চলবে।

imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum