Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে সিফফিন-3

Go down

জঙ্গে সিফফিন-3 Empty জঙ্গে সিফফিন-3

Post by imam1979 on 2011-09-13, 06:41

মুয়াবিয়ার বক্তব্যের বিশ্লেষনঃ
১/মুয়াবিয়া শাম রাজ্যকে নবী-রাসুলগনের(আঃ) রাজ্য আর শামের জনগনকে
আম্বিয়াকুলের প্রতিনিধিবৃন্দের সাহায্যকারী ও আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের
রক্ষক বলে পরিচয় দিয়েছেন,যাতে নিজেকেও তিনি এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনের
রক্ষক হিসাবে আখ্যায়িত করেছে।পাশাপাশি তিনি নিজের প্রতি জনগনের সহানুভুতিও
আকৃষ্ট করেছেন এং সকলকে ধ্ংসাত্নক যুদ্বের পথে এগিয়ে দিয়েছেন।
২/তিনি নিহত খলিফাকে একজন মজলুম হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন,যার রক্ত একদল
যালেমের হাতে ঝরেছে।কিন্তু আসল কথা হলো,রাসুলের(সাঃ) সাহাবী ও তাবেঈঙ্গনের
হাতে ওসমান নিহত হন।আর তাদের দৃষ্টিতে সাহাবী ও তাবেঈনগন সত্যপন্থী ও
ন্যায়-নীতিবান মানুষ।

৩/ মনে করুন,ওসমান মজলুম হিসাবে নিহত হয়েছেন এবং তার ওয়ালী তার
হত্যাকারীদের ব্যাপারে সিদ্বান্ত গ্রহন করবে।কিন্তু ওয়ালীউদ্দাম(রক্তের
অভিভাবক) বলতে নিহতের ওয়াররিশকেই বুঝায়,যে তার রেখে যাওয়া ধন-সম্পত্তির
উত্তরাধিকারী হয়।মুয়াবিয়া কি হযরত ওসমানের ধন-সম্পদের উত্তরাধীকারী
ছিলেন,নাকি নিকটবর্তী ওয়ারিশের বর্তমানে তার পর্যন্ত আর পালা
পৌছেনি?ঐতিহাসিক সত্য হলো এই যে,ওসমান ছিলেন আফফফানের পুত্র আর আফফান ছিলেন
আবুল 'আস ইবনে উমাইয়ার পুত্র এবং মুয়াবিয়া ছিলেন আবু সুফিয়ানের পুত্র আর
আবু সুফিয়ান ছিলেন হারব ইবনে উমাইয়ার পুত্র।এভাবে তাদের সকলেই উমাইয়ার
বংশধর।নিকটবর্তী ওয়ারিশরা বর্তমান থাকা অবস্থায় দুরবর্তী সম্পদের অধিকারী
মুয়াবিয়ার জন্য কি নিজেকে ওসমানের রক্তের অভিভাবক বলে দাবী করার অধিকার
থাকে?
আমিরুল মু'মিনিন আলী(আঃ) তাঁর এক পত্রে মুয়াবিয়াকে লিখেনঃ
" তুমি হলে উমাইয়া বংশীয় একজন লোক।তবে ওসমানের বংশধরেরা স্বীয় পিতার রক্তের
প্রতিশোধ গ্রহনে তোমার চেয় বেশী হকদার"(ওয়াক্ক-এ সিফিফিন,পৃঃ৫৮,আ-ইমামাহ
ওয়াস সিয়াসাহ,১ম খন্ড,পৃঃ ৯১-৯২)।
এগুলো হলো সেই প্রশ্ন যার উত্তর আবু সুফিয়ানের পুত্রের অন্তরের পর্দা
উন্মোচন করে দেয় এবং এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে,এখানে ওসমান হত্যার বিষয়টি
মুখ্য ছিল না।বরং ইমাম আলীকে(আঃ) ক্ষমতাচ্যুত করে শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত
করাই ছিল তার উদ্দেশ্য-যে ইমামকে(আঃ) মুহাজির ও আনছাররা মিলে মতৈক্যের
ভিত্তিতে নির্বাচিত করে তাঁর হাতে বায়াত হয়েছিলেন।এখানে সবচেয়ে আশ্চর্যের
বিষয় হলো মুয়াবিয়া ্কর্তৃক জনগনের মতামত চাওয়ার বিষয়টি।একদিকে তিনি জনগনের
মতামত জানতে চাচ্ছেন অপর দিকে খলিফার রক্তের প্রতিশোধ গ্রহনের ব্যাপারে তার
মতকে অকাট্য ঘোষনা করেন এং এ কথার ওপর জোর দেন।
বস্তুত এধরনের দৃশ্যপট সৃষ্টি করা প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত ছিল।এর মাধ্যমে
জনমত যাচাইয়ের অন্তরালে স্বীয় মতামতকে চাপিয়ে দেয়ার কাজটি সুক্ষভাবেই
সম্পন্ন করা হতো।
ইতিহাসে লিপিবদ্ব রয়েছে,মুয়াবিয়া যদিও উপসথিত লোকজনের কাছ থেকে ইতিবাচক
সাড়া পেয়েছিলেন,কিন্তু এক দুঃখের আবহ তার অন্তরকে ঘিরে ধরেছিল।সেই অবসথায়
তিনি গুন গুন করে কিছু কবিতা আবৃতি করছিলেন যার শেষের দ্বিপদীটি ছিল এরুপঃ
"আমি সবচেয়ে উত্তম জিনিসের প্রতি আশাবাদী রয়েছি,যে কোন আশাবাদীই যার প্রতি
আশাবাদী থাকে।আর আমি ইরাকের রাজত্ব নিয়ে নিরশ নই"।(নাহজুল
বালাগ,৩য়খন্ড,পৃঃ৭৮)।
তিনি তার কাংখিত লক্ষ্যে পৌছানোর উদ্দেশ্যে স্বীয় সমর্থকদের আহবান
করলেন।তাদের মধ্যথেকে উতবাহ ইবনে আবু সুফিয়ান তাকে বললো, "আলীর বিরুদ্বে
যুদ্বের বষয় আমর ইবনুল আসের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে এবং তার ধর্মকে কিনে
নিতে হবে।কারন,সে ও্সমানের শাসন কায থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল।কাজেই
স্বভাবতঃ তোমার শাসন কার্য থেকে সে আরও বেশী দূরে অবস্থান করবে।তবে তুমি
দিরহাম ও দীনার দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে সক্ষম হবে"(ওয়াক্ক-এ
ছিফফিন,পৃঃ৩৩,নাহজুল বালাগ,৩খন্ড,পৃঃ৭৯)।
.
ইমাম আলীর(আজঙ্গে সিফফিন-3 3 মোকাবেলায় মুয়াবিয়ার পদক্ষেপ সমুহ
আমর ইবনুল আসের প্রতি মুয়াবিয়ার পত্র
আমর ইবনুল আসের সহযোগিতা পাবার জন্য রাজনৈ্তিক ময়দানে নানা কৌশলে অভিজ্ঞ
মুয়াবিয়া আমর ইবনুল আসকে একটি পত্র লিখলেন।সে সময় আমর ইবনুল আস একজন
অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসাবে ফিলিস্তিনে বসবাস করছিলেন।
মুয়াবিয়ার পত্রের বক্তব্য নিম্নরুপঃ
"আলী,তালহা ও যুবাইরের কাহিনী তোমার কাছে পৌছছে।মারোয়ান ইবনে হাকাম একদল
বছরাবাসীকে নিয়ে শামে এসেছে।আর জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ আলীর পক্ষ থেকে বায়াত
গ্রহনের জন্য শামে প্রবেশ করেছে।আমি কোন সিদ্বান্ত গ্রহন থেকে বিরত রয়েছি
যাতে তোমার মতামত গ্রহন করতে পারি।তুমি যত শীঘ্র সম্ভব চলে এসো যাতে এ
বিষয়ে তোমার মতামত গ্রহন করতে পারি(আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ,পৃঃ৮৪;ওয়াক্ক-এ
সিফফিন,পৃঃ৩৪)।

মুয়াবিয়ার পত্র আমরের কাছে পৌছলে তিনি পত্রের বক্তব্য নিয়ে তার ২ পুত্র
আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মাদের সাথে আলোচনা করলেন এবং তাদের মতামত জানতে
চাইলেন।তার ১ম পুত্র-যে ইতিহাসে মোটামুটি ভাল মানুষ হিসাবে
প্রসিদ্ব-বললেন, "রাসুলাল্লাহ(সাঃ) এং তাঁর পরবর্তী খলিফা ইন্তেকালের সময়
আপনার উপর সন্তষ্ট ছিলেন।আর যেদিন ওসমান নিহত হন সেদিন আপনি মদীনায় ছিলেন
না।তাই আপনার জন্য এটাই উৎকৃষ্ট হবে যে, আপনি স্বীয় গৃহে অবসথান
করবেন।সামান্য সুবিধা লাভের আশায় মুয়াবিয়ার সাহচর্য গ্রহন থেকে বিরত
থাকুন।কারন,আপনি কখনো খলিফা হতে পারবেন না। এদিকে আপনার জীবন সায়ানহও ঘনিয়ে
এসেছে।জীবনের অস্তাচলে এসে যেন আপনার কপালে দুর্ভোগ নেমে না আসে"।
কিন্তু তার ২য় পুত্র ১ম পুত্রের বিপরীতে তাকে মুয়াবিয়ার সাথে সহযোগিতা
করতে বললো। সে বললো আপনি হলেন একজন কুরাইশ নেতা।আপনি যদি এ পরিস্তিতিতে
নিশ্চুপ থাকেন তবে দৃষ্টিসমুহের চোখে ছোট হয়ে যাবেন। শাম্ বাসীরা সঠিক পথে
আছেন এং ওসমানের রক্তের প্রতিশোধ দাবী করুন।তাহলে বনি উমাইয়াহ এ লক্ষ্যে
বিদ্রোহ করবে"।
আমর ইবনুল আস ছিলেন একজন চতুর লোক।তিনি আব্দুল্লাহকে ডেকে বললেন, "তোমার
মতামত আমার দ্বীনের জন্য লাভজনক,আর মুহাম্মাদের মতামত আমার জন্য দুনিয়ার
জন্য লাভজনক।এ বিষয়ে আমাকে চিন্তাভাবনা করতে হবে"।
অতঃপর তিনি কিছু কবিতা আবৃত্তি করলেন এবং সে সব কবিতায় ২ পুত্রের মতামত
প্রতিফলিত করলেন।এরপর তিনি তার কনিষ্ট পুত্র ওয়ারদানের মতামত জানতে
চাইলেন।সে বললো,"আপনার মন কি চায় আমি তা বলে দেবো?"
আমর বললেন, "বলো দেখি কি জানো"।
সে বললো, "দুনিয়া ও পরকাল আপনার অন্তরে হানা দিয়েছে।আলীর অনুসরন পরকালে
সৌভাগ্যের কারন,যদিও তার অনুসরন করার মধ্যে দুনিয়া নেই।কিন্তু পারলৌ্কিক
জীবন দুনিয়ার জীবনের ব্যর্থতাসমুহকে পুরন করে দেবে।পক্ষান্তরে মুয়াবিয়ার
সাহচর্য দুনিয়া এনে দেবে।।কিন্তু পরকাল সেখানে নেই এং দুনিয়াবী জীবন
পারলৌ্কিক ব্যর্থতাকে পুরন করতে পারবে না।আপনি এখন কোনটা বেছে নেবেন?"
আমর বললঃ"ঠিক বলেছ। এখন তোমার মতামত কি বলো?"
সে বললোঃ "আপনি নিজের বাড়িতে অবসথান করুন।যদি দ্বীন জয়লাভ করে তবে আপনি তার
ছায়ায় জীবন যাপন করবেন।আর যদি দুনিয়াবাদীরা জয়লাভ করে তাহলে তারা আপনার
থেকে মুখাপেক্ষিতাহীন নয়"।
আমর বললেনঃ "এখন আমি বাড়িতে বসে থাকবো যখন মুয়াবিয়ার উদ্দেশ্যে আমার
যাত্রার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে"?(আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ,পৃঃ৮৭)।
আমর ইবনুল আছ ভেতরে ভেতরে একজন দুনিয়া পুজারী লোক ছিলেন।এ কারনে তিনি মুয়াবিয়ার পক্ষ নিলেন।
অতপর তিনি শামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমালেন।সেখানে পৌছে তিনি তার অনেক দিনের
বন্দ্বুর সাথে পরামর্শে বসলেন,আর ইমাম আলীকে(আঃ) উৎখাত করার জন্য নীলনকশা
তৈ্রী করলেন।
২ জন পোড় খাওয়া রাজনীতিকের পারস্পরিক সহযোগিতা

অবশেষে বনী সাহমের পোড় খাওয়া রাজনীতিক এবং সে যুগের মেকিয়াভেলী আমর
ইবনুল আস আখেরাতের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিলেন এবং ফিলিস্তিন থেকে শামের
উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন যাতে বুড়ো বয়সে আরেক বার মিসরের গভর্নর হতে
পারেন।তিনি মুয়াবিয়াকে রাজনৈ্তিক পরিকলপনায় তার প্রয়োজনের কথা ভালো করেই
জানতেন।এ কারনে তিনি মুয়াবিয়াকে সহযোগিতা প্রদানের বিনিময়ে ভারী মুল্য আদায়
করার চেষ্টা চালালেন(আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ,১ম খন্ড,পৃঃ৮৭;তারখে
ইয়াকুবী,২য় খন্ড,পৃঃ১৮৬) এবং তার প্রতি মুয়াবিয়ার আগ্রহ উত্তোরোত্তর
বৃ্দ্বির লক্ষ্যে আলোচনাকালে সর্বদা বক্তব্য পরিবর্তন করতে থাকেন।
১ম আলোচনা চলাকালে মুয়াবিয়া ৩টি সমস্যার কথা উথাপন করলেন।সেগুলোর মধ্যে
হযরত আলীর(আঃ)শামে আক্রমন করার প্রস্তুতি তাকে সবচেয়ে বেশী চিন্তাগ্রস্ত
করে রেখেছিল। এখানে তাদের দু'জনের মধ্যকার সংলাপকে কম-বেশী করা ছাড়াই নাছর
ইবনে মুযাহিমের "তারিখে সিফফিনে" গ্রন্থ থেকে তুলে ধরা হলোঃ
মুয়াবিয়াঃ বেশ কিছুদিন ধরে ৩টি বিষয় আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।সব সময়
এগুলো নিয়েই ভাবি।এখন তোমার কাছে আমার প্রত্যাশা হলো এগুলোর সমাধান বের করে
দেবে।
আমর ইবনুল আসঃ এ ৩টি সমস্যা কি কি?
মুয়াবিয়াঃ মুঃ ইবনে আবি হুযাইফা মিসরের কারাগার ভেঙ্গে ফেলেছে।সে দ্বীনের
জন্য একটি আপদ( এখানে উল্লেখ্য যে হযরত ওসমানের খেলাফতকালে আব্দুল্লাহ ইবনে
সা'দ ইবনে আবি সারাহকে মিসরের গভর্নর পদে নিয়োগ করা হয়।আর মুহাম্মাদ ইবনে
আবি হুযাইফাহ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তৎকালীন গভর্নরের বিরুদ্বে বিদ্রোহ
করার জন্য উৎসাহ প্রদান করতেন।হযরত ওসমানের হত্যাকান্ডের পর গভর্নর
আব্দুল্লাহ ইবনে সা'দ ইবনে আবি সারাহ জনগনের ভয়ে মিসর ত্যাগ করেন এং স্বীয়
স্থলে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করে যান।কিন্তু মুঃ ইবনে আবি হুযাইফাহ জনগনকে
গভর্নরের প্রতিনিধির বিরুদ্বেও বিদ্রোহ করার আহবান জানান ং অবশেষে তাকে
মিসর থেকে বহিস্কার করে নিজেই শাসনভার গ্রহন করেন।হযরত আলীর(আঃ)শাসনের
শুরুতে মিসরের গভর্নর পদ কায়েস ইবনে সা'দের উপর ন্যাস্ত হয় এবং মুহাম্মাদকে
বরখাস্ত করা হয় ।মুয়াবিয়া মিসর দখল করার পর মুহাম্মাদকে কারাগারে নিক্ষেপ
করেন।কিন্তু তিনি এং তার কতিপয় সহযোগী কৌশলে কারাগার থেকে পলায়ন
করেন।হ্যা,মুঃ ইবনে আবি হুযাইফা একজন অতীব সক্রিয় ব্যক্তি এবং বহু ঘটনার
জনক ছিলেন।তিনি অবশ্য মুয়াবিয়ার মামাতো ভাইছিলেন(উসুদুল গ্বাবাহ ৪র্থ
খন্ড,পৃঃ৩১৫-৩১৬।)

আমর ইবনুল আছঃএসব ঘটনা তেমন গুরুত্বপুর্ন নয়।তুমি একদল লোক পাঠিয়ে তাকে
হত্যা করতে পারো বা তারা তাকে গ্রেফতার করে জীবিত অবস্থায় তোমার হাতে তুলে
দেবে।
আর যদি তুমি তাকে নাগালে না পাও তাহলেও সে তেমন বিপজ্জনক নয় যে, তোমার ক্ষমতাকে কেড়ে নিতে পারবে।
মুয়াবিয়াঃরোমান সম্রাট একদল রোমানকে নিয়ে শাম অভিমুখে রওয়ানা হচ্ছেন যাতে এ প্রদেশটি আমাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারেন।
আমর ইবনুল আসঃরোমান সম্রাটের সমস্যাকে কিছু উপহার দিয়ে , যেমনঃ রোমান গোলাম
ও দাসী আর স্বর্ন-রুপার তৈজসপত্র ইত্যাদি প্রেরনের মাধ্যমে সমাধান করতে
হবে এবং তাকে শান্তিপুর্ন জীবন যাপনের দিকে আহবান জানাবে যাতে শীঘ্রই তা
গ্রহন করে।
মুয়াবিয়াঃআলী কুফায় অবতরন করেছে এবং আমাদের দিকে রওয়ানা হবার জন্য প্রস্তুত।এ সমস্যার ব্যাপারে তোমার মতামত কি?
আমর ইবনুল আসঃআরবরা কখনো তোমাকে আলীর সমকক্ষ বলে মনে করে না।আলী যুদ্বের
গোপন কৌশল সম্বধ্বে অবগত।কুরাইশদের মধ্যে তার কোন সমতুল্য নাই।সে
ন্যায্যভাবে সেই হুকুমতের অধিকারী যা এখন তার হস্তগত রয়েছে,যদি না তুমি তার
ঊপর যুলুম করো এবং তার অধিকার ছিনিয়ে নাও।

মুয়াবিয়াঃআমি চাই যে ,তুমি আমার সাথে থেকে এই লোকটির বিরুদ্বে যুদ্ব করো।সে
আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে এবং খলিফাকে হত্যা করেছে,ফিতনাহ সৃষ্টি করেছে,সমাজকে
বিভক্ত করে দিয়েছে ও আত্নীয়তা ছিন্ন করেছে।
আমর ইবনুল আসঃআল্লহর শপথ,তুমি ও আলী কখনোই মর্যাদার দিক দিয়ে সমান নও।তোমার
মধ্যে না আছে তার হিজরতের মর্যাদা, আর না আছে তার অন্যান্য কৃতিত্বের
মর্যাদা।তুমি তাঁর মতো রাসুলাল্লাহর (সাঃ) সাহচর্যের অধিকারী নও কিংবা
মুশরিকদের সাথে তাঁর জিহাদের মর্যাদার অধিকারী নন,আর না তাঁর মতো জ্ঞানের
অধিকারী।আল্লাহর শপথ,আলীর বুদ্বি তীহ্ম,মস্তিস্ক স্বচ্ছ,আর সে নিরলস
কর্মঠ।সে একজন মর্যাদাবান ও সৌভাগ্যবান পুরুষ;আল্লাহর কাছে পরীক্ষীত ও
উত্তীর্ন।এমন একজন মর্যাদাবান ব্যক্তির বিরুদ্বে যুদ্বে কি মুল্য প্রদান
করবে যাতে আমি তোমার সহযোগী হতে পারি? তুমি ভাল করে জান যে, এই সহযোগিতার
পথে কি কি বিপদ রয়েছে।
মুয়াবিয়াঃএক্তিয়ার তোমার হাতে,কি চাও তুমি বলো?
আমর ইবনুল আসঃমিসরের হুকুমত।
মুয়াবিয়া কিছুটা বিস্মিত হলেন,তবে প্রতারনামুলকভাবে দুনিয়া ও আখেরাতের কথা
টেনে আনলেন ও বললেনঃআমি এটা পছন্দ করিনা যে,আরবের লোকেরা তোমার ব্যাপারে
এমন ধারনা করুক যে, তুমি দুনিয়ার স্বার্থে আমাদের পক্ষ গ্রহন করেছ।কতই না
উত্তম হয় যদি তারা মনে করে যে, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এবং
পারলৌকিক পুরস্কারের আশায় আমাদেরকে সাহায্য করেছ ! কেননা,তুচ্ছ পার্থিব
পুরস্কারের আশায় আমাদেরকে সাহায্য করেছ!কেননা তুচ্ছ পুরস্কার কখনো পারলৌকিক
পুরস্কারের সমান হতে পারে না।
আমর ইবনুল আসঃএসব কথা রাখ।(ইবনে আবিল হাদিদ তার শরহে নাহজুল বালাগা
গ্রন্থে(২য় খন্ড,পৃঃ৬৫,মিসর থেকে ছাপা) লিখছেন,আমি আমার শিক্ষক আবুল কাসেম
বালখীকে বললামঃআমর ইবনুল আসের এ বক্তব্য কি তার পরকালের প্রতি অবিশ্বাস এবং
ধর্মহীনতার পরিচয় নয়?শিক্ষক বললেনঃআমর কখনোই ইসলাম গ্রহন করে নি।সে জাহেলী
যুগের সেই কুফরের ওপরেই ছিল।)।
মুয়াবিয়াঃআমি যদি তোমাকে ধোকা দিতে চাই তাহলে পারবো।
আমরঃআমার মতো লোক ধোকা খায় না।তুমি যতটা ধারনা করেছ আমি তার চেয়ে বাশী চতুর।
আমর নিকটবর্তী হলেন এবং মুয়াবিয়ার মুখের কাছে কান পেতে ধরলেন যাতে তার
অন্তরের গোপন কথাটা শুনতে পারেন।হঠাৎ মুয়াবিয়া তার কান কামড়ে দিলেন এং
বললেন,"এখন দেখলে তো আমি তোমাকে ধোকা দিতে পারি?"অতপর বললেন,"জানো তো মিসর
হলো ইরাকের মতো।এই দুটি প্রদেশকেই বড় বলে গন্য করা হয়"।
আমরঃহ্যা,জানি।কিন্তু ইরাক তখনোই তোমার হবে যখন মিসর আমার।অথচ ইরাকের
লোকেরা আলীর আনুগত্য মেনে নিয়েছে এবং তার নেতৃত্বে যুদ্ব করতে প্রস্তুত।
......চলবে।





imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum