Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

জঙ্গে সিফফিন-৭

Go down

জঙ্গে সিফফিন-৭  Empty জঙ্গে সিফফিন-৭

Post by imam1979 on 2011-09-20, 21:25

আমর খুশীতে আটখানা হয়ে মুয়াবিয়ার ঘর থেকে বের হয়ে আসলেন।বাইরে এসে যারা তার
অপেক্ষায় ছিলেন তাদের সাথে মিলিত হলেন এবং তাদের সাথে কথোপকথোন হলো
নিম্নরুপঃ
আমরের পুত্ররাঃবাবা,অবশেষে কি দাড়ালো?
আমরঃমিশরের হুকুমত আমাদের দিয়েছেন।
পুত্ররাঃআরবদের ক্ষমতার কতৃত্বের সীমানার তুলনায় মিসরের ভুখন্ড কিছুই না।
আমরঃযদি মিসরের ভুখন্ড তোমাদেরকে পরিতৃপ্ত না করে তাহলে আল্লাহ কখনোই
তোমাদেরকে পরিতৃপ্ত করবেন না।(ওয়াক্ক-এ সিফফিন,পৃঃ ৩৭-৪০;আল-ইমামাহ
ওয়াস-সিয়াসাহ,পৃঃ৮৭-৮৮(সামান্য পাথক্য সহকারে)।
আমরের ভাতিজাঃকি নামে আপনি কুরাইশদের মাঝে বেচে থাকতে চান?নিজের দ্বীনকে
বিক্রয় করছেন এবং অন্য দুনিয়ার দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন।মিসরের জনগন যারা
ওসমানের হত্যাকারী,তারা কি আলী বতমান থাকা অবস্থায় উক্ত প্রদেশকে
মুয়াবিয়ার হাতে তুলে দেবে?আর যদি ধরেও নেই যে,মুয়াবিয়া মিসর দখল করে
নিলেন,সেক্ষেত্রে তিনি কি তার স্বাক্ষরের পশে যে বাক্যটি লিখে রেখেছেন তার
বলে আপনাকে মিসর থেকে বঞ্চিত করবেন না?
আমর ক্ষনিকের জন্য চিন্তায় মগ্ন হলেন।তারপর আরবদের স্বভাব অনুযায়ী বলে
উঠলেন।"সব কিছু আল্লাহর হাতে;আলীর হাতেও নয়,মুয়াবিয়ার হাতেও নয়।আমি যদি
আলীর সাথে থাকতাম তাহলে আমার ঘরই আমার জন্য যথেষ্ট ছিল।কিন্তু আমি এখন
মুয়াবিয়ার সাথে"।
আমরের ভাতিজাঃআপনি যদি মুয়াবিয়াকে না চাইতেন তাহলে মুয়াবিয়া আপনাকে চাইতেন
না।আপনি তার দুনিয়ার প্রতি লোভ করছেন আর তিনি আপনার দ্বীনের খরিদ্দার।"
দরবারের বাইরে ভাতিজা ও চাচার কথোপ্কথোন মুয়াবিয়ার কানে লেগে গেল।মুয়াবিয়া
আমরের ভাতিজাকে গ্রেফতার করতে চাইলেন।কিন্তু সে ইরাকের দিকে পালিয়ে গেল এং
ইমাম আলীর(আঃ) দলে যোগ দিল,আর তাঁকে ২ বৃ্দ্ব রাজনীতিকের শলা পরামশের ও
চুক্তিপত্রের ব্যাপারে অবগত করল।এভাবে সে ইমামের নিকট বিশেষ স্থান লাভ
করল(ওয়াক্ক-এ সিফফিন,পৃঃ ৪১;নাছর ইবনে মযাহিম(আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ,পৃঃ
৮৮) এ যুবককে আমর ইবনুল আসএর চাচাত ভাই বলে উল্লেখ করছেন)।
মারোয়ান ইবনে হাকামও তখন মুয়াবিয়া ও আমরের রাজনৈ্তিক লেন্ দেনের
খবর জানতে পারলো তখন আপত্তি করে বলে উঠলো ,"তিনি আমরের মত আমাদেরকেও কেন
কিনে নিচ্ছেন না(এবং স্বীয় উমাইয়াহ নীতি অনুযায়ী ইসলামী সাম্রাজ্যের কিছু
অংশ আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন না"?)।মুয়াবিয়া যখন তার শুনতে পেলেন তখন তাকে
সান্ত্বনা দিয়ে বললেনঃ"আমরের মত লোকদেরকে তোমাদের মত লোকদের জন্য খরিদ করা
হয় যাতে তারা উমাইয়াহ হুকুমতকে শক্তিশালী করতে পারে-যার একটি অংশ তুমিও"(
আল-ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ,পৃঃ৮৮)।

আমরের দুষ্ট পরিকল্পনার বাস্তবায়ন
২ রাজনীতিকের লেন্দদেন পব শেষ হলো।এবার মুয়াবিয়া কতৃক আমরের নীলনকশা সমুহের
বাস্তবায়নের পালা।মুঃ ইবনে হুযাইফার মোকাবেলায় এং রোমান সম্রাটের শাম
আক্রমনের চিন্তার বিপরীতে আমর যে পরিকল্পনা প্রদান করেছিলেন তা সুক্ষনভাবে
বাস্তবায়ন করা হলো।দুটো ক্ষেত্রেই সফলতা পাওয়া গেল।কিন্তু শামে অভিযান
পরিচালনার জন্য প্রস্তুত আলী (আঃ) ছিলেন মুয়াবিয়ার জন্য বড় সমস্যা;এ সমস্যা
সেভাবেই বিদ্যমান রয়ে গেল।আমর ইমাম আলীর(আঃ) মোকাবেলায় এমন এক চক্রান্ত
বের করলেন যার ফলে শামের অধিকাংশ জনগন স্বেচ্ছায় মুয়াবিয়ার পতাকাতলে সমবেত
হল এবং আলীর(আঃ) বিরুদ্বে যুদ্বে প্রস্তুত হল।এখন দেখতে হবে যে,এ চক্রান্ত
কি ভাবে শামের জনগনের মত আরামপ্রিয় ও বিলাসী লোকদেরকে শাম থেকে বের হতে
এবং ভোগের বিনিময়ে মৃত্যুকে খরিদ করতে উদবুদ্ব করলো।
.....................
....................

আলীর(আঃ) বিরুদ্বে আমরের চক্রান্ত ছিল এই যে,তিনি আলী(আঃ)কে খলিফা
ওসমানের হত্যার জন্য দায়ী করে তাঁর বিরুদ্বে শামের জনগনের ধমীয় অনুভুতিকে
উস্কে দিয়েছিলেন।আর তিনি এধারনা প্রচার করার জন্য জনগনের শ্রদ্বার পাত্র
সমাজের ধমভীরু ও আবেদ লোকদেরকে ব্যবহার শুরু করেন
।এছাড়া তিনি
মুয়াবিয়াকে বলেন, "শুরাহবিল কিন্দি" (কিন্দাহ ইয়েমেনের একটি গোত্রের
নাম।তারা আরব উপদ্বীপের দক্ষিন অংশে বাস করতো।তারপর তাদের অনেকেই বিভিন্ন
স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।শুরাহবিলের পুবপুরুষেরাও সে সময় ইয়েমেন থেকে শামে এসে বাস
করতে থাকেন) শামের জনগনের শ্রদ্বার পাত্র। এবং তার স্বদেশী জারীরের
শত্রু-যে জারীর আলীর প্রতিনিধি।তাকে এমন সব গটনা বলতে হবে যেন তিনি বিশ্বাস
করেন যে,আলী ওসমানের হত্যাকারী।আর যেসব লোক তোমার এবং তার বিশ্বাসভাজন
তাদের দ্বারা শামের এক প্রপান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এ ধারছড়িয়ে দিতে হবে।আর
শুরাহবিলের অন্তরে যদি কোন কিছু স্থান পায় তো সহজে তা তার অন্তর থেকে মুছে
যায় না"(ওয়াক্ক-এ সিফফিন,পৃঃ৪৪;নাহজুল বালাগাঃইবনে আবিল
হাদিল,২য়খন্ড,পৃঃ৭১)।
.
শুরাহবিলের কাছে মুয়াবিয়ার পত্র
মুয়াবিয়া শুরাহবিলের কাছে একটি পত্র লিখলেন এবং তাকে হযরত আলীর(আঃ)
প্রতিনিধি হিসাবে জারীরের আগমন সম্পর্কে অবগত করলেন।শুরাহবিল সে সময়
সিরিয়ার হেমছে বসবাস করতেন।মুয়াবিয়া তাকে যত শীঘ্র সম্ভব শামে আসার জন্য
অনুরোধ জানালেন।তারপর তিনি তার দরবারের পোষা লোকদেরকে-যারা ছিল ইয়ামেনের
কাহতানের বাসিন্দা এবং শুরাহবিলের সাথেও সুসম্পর্কের অধিকারী,তাদেরকে
দায়িত্ব দিলেন হেমছে গিয়ে যেন সকলে একই কন্ঠে আলীকে ৩য় খলিফার হত্যাকারী
বলে প্রচার চালায়।
মুয়াবিয়ার পত্র শুরাহবিলের হাতে পছলে তিনি স্বঙ্গী-সাথীদেরকে ডেকে
মুয়াবিয়ার দাওয়াতপত্রের ব্যাপারে পরামর্শ করলেন।আব্দুর রহমান ইবনে গ্বানাম
আযদী নামক জনৈক ব্যক্তি- যিনি শামের সবচাইতে ধীর স্থীর বুদ্বিসম্পন্ন মানুষ
ছিলেন,উঠে দাড়ালেন এবং এ কাজের অশুভ পরিনাম সম্পর্কে এ শামের ধর্মভীরু ও
আবেদ ব্যক্তিকে সতর্ক করে দিলেন।তিনি বললেনঃ
"আপনি যেদিন থেকে কুফরী ত্যাগ করে ইসলামে এসেছেন তখন থেকে সর্বদা আল্লাহর
অনুগ্রহ লাভ করে ধন্য হয়েছেন।যতক্ষন পর্যন্ত মানুষের পক্ষ থেকে আল্লাহর
শোকর আদায় করা বন্দ্ব না হয় ততক্ষন পর্যন্ত তার নেয়ামত বন্দ্ব হয়
না।"আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করেন না,যতক্ষন না তারা নিজেরা
নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে"(সুরা আর-রা'দঃ১১)।ওসমানের হত্যার খবর আলীর
মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌছছে।যদি সত্যিই আলী তাকে হত্যা করে থাকেন তাহলে
আনছার ও মুহাযিররা তাঁর হাতে বায়াত হলেন কিভাবে?তারাই তো জনসাধারনের উপর
শাসনকারী।আর যদি আলী তাকে হত্যা না করে থাকেন তাহলে আপনি কেন মুয়াবিয়াকে
সমর্থন করছেন?আমি আবেদন জানাচছি যে,আপনি নিজে এং আপনার আত্নীয়-পরিজনদেরকে
ধ্বংশের দিকে ঠেলে দেবেন না।আর যদি ভয় করেন যে,জারীর কোন বড় পদে আসীন হবে
তাহলে আপনিও আলীর কাছে যেতে পারেন এং আপনার গোত্রের লোকদেরকে শামের জনগনকে
সথে নিয়ে তাঁর হাতে বায়াত হতে পারেন "।
কিন্তু আযদীর সুপারিশ কোন কাজে এলো না।শুরাহবিল মুয়াবিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে
শামের পথেই যাত্রা শুরু করলেন(ওয়াক্ক-এ সিফফিন,পৃঃ৪৪-৪৫,নাহজুল বালাগাঃইবনে
আবীল হাদীদ,২য়খন্ড,পৃঃ৭১)।

গোত্রপতি ও জনগনের কাছে মুয়াবিয়ার সাহায্য প্রার্থনা

...........চলবে।

imam1979
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 32
রেপুটেশন : 6
নিবন্ধন তারিখ : 15/07/2011

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum