Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ

Go down

ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ Empty ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ

Post by partoh on 2011-11-29, 01:44

বাংলায় বহুমুত্র রোগ বললে যেটি খুব সহজেই বোঝা যায় ইংরেজী ডায়াবেটিস (Diabetes) দিয়ে কিন্ত ঠিক তা বোঝায়না। ডায়াবেটিস রোগটি আবার দু প্রকার, ডায়াবেটিস মেলাইটাস (Mellitus)এবং ডায়াবেটিস ইন্সিপিডাস (Insipidus)। দুটি রোগেই যদিও বহুমুত্র হতে পারে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস হলে কিন্ত রক্তে সুগার বাড়ে না একটুও। মস্তিষ্ক নিঃসৃত হরমোনের অভাবে অথবা কিডনি সমস্যার কারনে এমনটি হতে পারে।

যাই হোক এই অধ্যায়ের সমস্ত আলোচনা কিত্ন আমরা ডায়াবেটিস মেলাইটাস নিয়েই করবো।

ডায়াবেটিস মেলাইটাসও কিন্ত আবার দুই প্রকার, টাইপ ওয়ান এবং টাইপ টু। খুব সহজে বুঝতে গেলে যে ডায়াবেটিস শিশুকাল বা বাল্যকাল থেকেই শুরু হয় তা হলো টাইপ ওয়ান আর যেটা ৪০ বছরের কাছা কাছি শুরু হয় সেটা টাইপ টু। যাই হোক রোগের কারন ভিন্ন এবং চিকিতসায় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও এই দুই ধরনের রোগের কিন্ত অনেক অনেক মিল আছে।

ডায়াবেটিস হলে যে রক্তে সুগার এর মাত্রা বেড়ে যায় এটা বোধহয় সবারই জানা যদিও রক্তের সুগার এর মধ্যে শুধু গ্লুকোজ (Glucose)এর মাত্রাই এ রোগে বেশী পাওয়া যায়। গ্লুকোজ হলো আমাদের দেহের প্রায় সকল কোষের শক্তির উতস। হিসাব অনুযায়ী ডায়াবেটিস হলে কিন্ত আমাদের শরীরের কোষগুলো আরো সতেজ আর শক্তিশালী হয়ে উঠার কথা, তাহলে এমনটি না হয়ে উলটোটি হয় কেনো?

আমাদের রক্তে যে গ্লুকোজ থাকে তা আমাদের দেহের খুব কম কোষই সরাসরি ব্যবহার করতে পারে, গ্লুকোজকে কোষে ঢোকানোর জন্য রয়েছে একটি হরমোন আর তার নাম হলো ইনসুলিন (Insulin) যেটি আমাদের অগ্নাশয় (Pancrease)একক ভাবে প্রস্তত করে থাকে। আর এই অগ্নাশয় যখন যথেষ্ট ইন্সুলিন উতপাদন করতে পারেনা দেহকোষে তখন গ্লুকোজ ঢূকতে পারেনা ফলে রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা যায় বেড়ে। একসময় কিডনি এই বাড়তি গ্লুকোজ প্রসাবের সাথে বের করে দিতে বাধ্য হয়, ফলে প্রসাব হয় ঘন ঘন আর তাতে থাকে সুগার। এবার নিশয়ই বোঝা যাচ্ছে ডায়াবেটিস হলে কেনো রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায় আর কেনইবা ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়।

কোষে গ্লুকোজ ঢুকতে না পারায় কোষ শক্তির যোগান পায়না, এজন্য ডায়াবেটিস এর রোগী খুব সহজেই ক্লান্তি আর দূর্বলতা অনুভব করে। যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে, ওজন কমে যায়, বার বার প্রসাব হবার কারনে পানি পিপাসাও লাগে অনেক। এছাড়াও ক্ষত শুকাতে দেরী হওয়া, খোশ-পাচড়া, ফোড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেয়া, চোখে কম দেখা ইভ্যাদি নানা উপসর্গ গুলো সবই ডায়াবেটিস রোগের লক্ষন।

অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উত্পাদনকারী কোষগুলো খুবই কম থাকলে বা নাথাকলে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস হয়। ফলে এই রোগের চিকিতসা একটিই, রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিন দেয়া। টাইপ টু ডায়াবেটিস হলে অগ্নাশয় প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট উতপাদন করতে না পারলেও কিছু ইনসুলিন ঠিকই উতপাদন করতে পারে। তাই টাইপ টু ডায়াবেটিস এর চিকিতসা কিন্ত কিছুটা ভিন্ন।

টাইপ ওয়ান ও টাইপ টু দুটি রোগের কারণই মুলত বংশগত, তারপরও কিছু কিছু কারনে টাইপ টু ডায়াবেটিস এর প্রকোপ একটু বেশী দেখা যায়। এর মধ্যে আছে শারীরিক পরিশ্রম না করা (Sedentary lifestyle), অতিরিক্ত ওজন (Over weight)বা মেদবহুল (Obese) শরীর, ধূমপান করা, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে বেশী চর্বি বা কোলেস্টেরল (Cholesterol)থাকা, চল্লিশের উপড় বয়স হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস রোগটি কখনো পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবেনা তবে ঠিকমতো নিয়মকানুন ও নির্দেশ মেনে চললে এটা সম্পুর্ণ নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রন করা, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা, প্রয়োজনীয় ঔষধ সেবন এবং পর্যাপ্ত জ্ঞান ও শৃংখলা বোধ এই চারটি জিনিসের সমন্নয় ঘটালে ডায়াবেটিস রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।

১। খাদ্যাভ্যাস- ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মতো তৈরী করা খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। সহজ কথায় চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খওয়া যাবেনা, শর্করা জাতীয় খাবার খেতে হবে পরিমিত, ঘি-মাখন-চর্বি-ডালডা জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে যদিও তেল খেতে অত বাধা নেই। আশযুক্ত খাবার, শাক-সব্জি, টক ফল ইত্যাদি বেশী পরিমানে দিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরী করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করা সহজ হবে। একবারে বেশী না খেয়ে অল্প অল্প করে অনেক বারে তালিকার খাদ্যটি খাওয়া উচিত সেই সাথে ওজন কমানোর চিন্তাটাও মাথায় রাখতে হবে।

২। হাঁটলে দুই পাশের হাত ই নড়াচড়া (swing) করে এভাবে নিয়মিত নূন্যতম ৪৫ মিনিট হাটতে হবে। হটাত করে একসাথে বেশী পরিশ্রম করে ফেলা ঠিক হবেনা।

৩। নিয়ম মাফিক ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের লিখে দেয়া অসুধ বা ইনসুলিন ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, কোনোভাবেই এর অন্যথা করা ঠিক হবেনা।

৪। শৃংখলা বোধ ডায়াবেটিস রোগীর জীবন কাঠি তাই একে আকড়ে ধরে রাখা চাই। ডায়াবেটিস রোগ সমন্ধে জানার ব্যবস্থা চারপাশে অনেক, তাই রোগের কি অবস্থায় কি করতে হয় তা জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী তরিত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

partoh
আমি নতুন
আমি নতুন

পোষ্ট : 7
রেপুটেশন : 1
নিবন্ধন তারিখ : 20/11/2011

Back to top Go down

ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ Empty Re: ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ

Post by asamit2009 on 2012-01-08, 10:03

Excellent Post

asamit2009
আমি নতুন
আমি নতুন

পোষ্ট : 2
রেপুটেশন : 0
নিবন্ধন তারিখ : 31/12/2011

Back to top Go down

ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ Empty Re: ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ

Post by সুপ্রিয় on 2013-02-26, 19:53

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য , শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

সুপ্রিয়
আমি আন্তরিক
আমি আন্তরিক

পোষ্ট : 22
রেপুটেশন : 10
নিবন্ধন তারিখ : 23/02/2013

Back to top Go down

ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ Empty Re: ডায়াবেটিস বা বহুমুত্র রোগ

Post by Sponsored content


Sponsored content


Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum